উৎসব মুখর পরিবেশে সীমার মনোয়ন পত্র দাখিল।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল (২মার্চ) কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষদিন গতকাল কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা সকাল ১১টায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আসেন। রির্টানিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল এর কাছে মনোনয়ন পত্র জমা দেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সীমার পিতা ও কুমিল্লার বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খান,সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের নেতা  আলহাজ্ব ওমর ফারুক, শাহিনুল ইসলাম শাহিন, সাবেক জিএস জাকির হোসেন, তরুন নেতা ও সাবেক ভিপি নুর উর রহমান মাহমুদ তানিমসহ নেতাকর্মীরা। 
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা এ্যাডভোকেট অধ্যক্ষ আফজল খানের মেয়ে আনজুম সুলতানা সীমা আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের নৌকার টিকেট পেয়েছেন। তিনি কুমিল্লা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, প্যানেল মেয়র ও আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।
তিনি শুরু থেকে আশা পোষণ করে আসছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের গ্রুপিং নিরসন হবে এবং নৌকা প্রতিক বিজয়ী হবে। তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার এবং আমার গোটা পরিবারের আওয়ামী লীগের প্রতি অতীত অবদান বিবেচনা করে আমাকে নৌকার মাঝি বানিয়েছেন। এটা আফজল খান বা আনজুম সুলতানা সীমার নির্বাচন না। এটা নৌকার নির্বাচন। দলীয় নির্বাচন। এখন আর  কোনো গ্রুপিং থাকবে না সবাই নৌকার পক্ষে কাজ করবে। আমি যখন কুমিল্লা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন অনেক জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও পৌরবাসীর কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করেছি। নিজে দুর্নীতি করিনি, অপরকেও দুর্নীতি করতে দেইনি। আমার দরজা দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য খোলা ছিল। আশা করি এবার আমি অনেক পরিণত হয়েছি। আল্লাহর রহমতে যদি নির্বাচিত হই কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে একটি আদর্শ সিটি কর্পোরেশন হিসেবে গড়ে তুলব।
প্রসঙ্গত: কুসিকের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ডজনখানেক  দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তাদের মধ্যে নানা দিক বিবেচনা করে সীমাকেই দলীয় মনোনয়ন দেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে যে বিষয়গুলো কাজ করেছে, তার মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার বাবা আফজল খানের অবদান। সর্বোপরি ছিল সীমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রোফাইল এবং নারী অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি। 
সীমার অতীত ইতিহাসে দেখা যায়, ২০০০ সালে তৎকালীন কুমিল্লা পৌরসভার পৌর কাউন্সিলর এবং পরে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের জিএস নির্বাচিত হন।  পৌর চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর ২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের নির্বাচনে তৎকালীন কুমিল্লা পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে সীমা আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন।  তিনি ২০১২ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে কাউন্সিলর ও পরে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হন। ওই সময় সিটি নির্বাচনে তার বাবা মেয়র পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। সীমা ২০০৫ সালে গঠিত দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি যতবারই নির্বাচন করেন, ততবারই বিজয়ী হয়েছেন। অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচিত সকল প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নের জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টেও সীমার নাম ছিল শীর্ষে। ওই সব রিপোর্টে সীমাকে গুরুত্বপূর্র্ণ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন।
বর্তমানে হোটেল-রেস্তোরা, চা দোকান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতে এখন শুধু সীমাকে নিয়েই আলোচনা। অনেকেই বলেন, দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব নিরসন না করলে নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করতে পারবে না। এতে করে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি হতে পারে। 
কুমিল্লায় আফজল-বাহার দ্বন্দ্ব গত তিন দশক থেকেই। এ দ্বন্দ্বে একবার বিরতি পড়েছিল ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের সময়। ওই নির্বাচনে আফজল-বাহার এক হয়ে বাহারের পক্ষে ভোট চেয়ে নৌকাকে বিজয়ী করতে পেরেছিলেন। প্রথম বিজয় ছিল ১৯৭৩ সালে। কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের ভোটার বেশি থাকার পরও ২০০৮ সাল পর্যন্ত আর নৌকা বিজয়ী হতে পারেনি দ্বন্দ্বের কারণে। উল্লেখ্য, আগামী ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল ২ মার্চ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল।

No comments:

Post a Comment