পুলিশের সামনে কুপিয়েছে পথচারীকে নির্বাক পুলিশ

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার টমছম ব্রিজ এলাকায় রাত ৮টায় জাকারিয়া (৩২) নামে এক পথচারীকে পুলিশের সামনেই কুপিয়েছে ছিনতাইকারী। আমাকে বাঁচান আমাকে বাঁচান অনেক চিৎকারের পরও পুলিশ ও সাধারণ মানুষ কেউ এগিয়ে যায়নি। কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমাদের পুলিশ সদস্যের সাথে তাৎক্ষনিক যোগাযোগ করা হয়েছে তিনি থানা পুলিশ দেখবে বলে এগিয়ে যাননি এই মর্মে কন্ট্রোলকে জবাব দেন। কন্ট্রোল ঐ পুলিশ সদস্যকে এই রকম কাজ যেন আর না করেন এব্যাপারে সতর্ক করেন। 

আহত জাকারিয়া জানান, আমি বিদেশ থাকি। ব্রাহ্মনপাড়া মালাপাড়া ইউনিয়ন আসাদ নগর আমার গ্রামের বাড়ী। আমার বাবার নাম আব্দুস সালাম। অল্প কিছুদিন বাকী আমি আবার বিদেশ চলে যাব। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী রাত ৮টায় কান্দিরপাড় থেকে টমছম ব্রিজ মোড়ে একটি অটোতে থাকাবস্থায় কয়েকজন ছিনতাইকারি আমার কাছ থেকে টাকা পয়সা মোবাইল ছিনতাই করার চেষ্টা করে। আমি অনেক জোরাজোরি করলে তারা আমাকে কুপিয়ে জখম করে আমি দুই ছিনতাইকারীকে অনেক মারধরও করেছি। এদের কাউকে আমি চিনিনা। তাদেরকে কখনো আমি দেখিনি। আমি আমার শশুড়বাড়ী টমছম ব্রিজ পানির টাংকির এলাকায় এসেছিলাম। 
উক্ত ঘটনায় ঐ দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সার্জন অর্জুন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যখন কুপিয়েছে তখন আমি দেখি নাই। কন্ট্রোল আমাকে জানানোর পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। কিন্তু কোন পুলিশ সদস্য ঘটনাটি দাড়িয়ে দেখেছে অথচ প্রতিহত করে তা আমি বলতে পারছিনা। 
উক্ত ঘটনায় কুমিল্লা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ মো: আবিদ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে ব্যাক্তিকে কুপিয়েছে তাকে আমাদের অফিসে পাঠিয়ে দিন। আর যেই পুলিশ সদস্য ঐ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার নামটি দিন। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব। 

কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে পূবালী চত্বরে কুমিল্লাবাসীর গণজোয়ার

বশিরুল ইসলাম:

কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে গত ২১ শে ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবসে কুমিল্লার সাধারণ মানুষ পূবালী চত্বরে একত্রিত হয়ে তাদের অস্তিত্বের জানান দেয়। তাদের সকলের মুখে একটাই দাবী ছিল কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই অন্য কোন নামে বিভাগ মানি না। রক্ত লাগলে রক্ত দেব কুমিল্লা নামে বিভাগে নেব। মোদের দাবী একটাই কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। হয়তো কুমিল্লা বিভাগ হবে নয়তো মহাসড়ক অচল হবে। এই রকম নানান স্লোগান নিয়ে সকলে পূবালী চত্বরে একত্রিত হয়। পূবালী চত্বরে মহা সমাবেশে আগত আন্দোলনকারীদের মনোরঞ্জনের জন্য বাউল শিল্পীরা গান গেয়ে কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবী জানিয়ে স্বপক্ষে গান পরিবেশন করে। তাদের গানের মধ্যে কুমিল্লার ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা সংস্কৃতি সব কিছুই উঠে আসে। সমাবেশ শেষে কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উপর কবিতা আবৃত্তি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে কবিতা আবৃত্তি করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিশ^বিদ্যালয়ের, স্কুল-কলেজের  ছাত্র শিক্ষক, সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক পুলিশ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য সহ শিল্পী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ। 

নুরপুর চাঞ্চল্যকর হাছান হত্যা মামলার আসামী ৪২দিন পর আটক

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নুরপুর এলাকায় গত ৮জানুয়ারী তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার স্বপন, তুষার  অপু সহ কয়েকজন মিলে হাছানকে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা হাসপাতালে নেওয়ার পর হাছান মারা যায়। উক্ত ঘটনায় হাছানের বড় ভাই এসহাক বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে মামলাটি কুমিল্লা পিবিআই তে স্থানান্তর হয়। কুমিল্লা পিবিআই মামলাটি পুলিশ ইন্সপেক্টর আব্দুল বাতেন মৃধাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ ৪২দিন পর কুমিল্লা ইপিজেড এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকা আসামী স্বপন ও তুষারের ভাই অপুকে আটক করে। 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন মৃধা মুঠো
ফোনে জানান, মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর রাত দিন অনেকভাবে আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছি। স্বপন ও তুষার এখনো পলাতক রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কারণে গোপন সংবাদ ও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্স এএসআই গোলাম জিলানী ও পুলিশ ইন্সপেক্টর রাকিবুল হাসানকে সাথে নিয়ে অপুকে ইপিজেড এলাকা থেকে আটক কর। 
কুমিল্লা পিবিআই পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ জানান, সন্ধায় অপু (২৩) নামে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত দুই আসামী আপন ভাইকে আটকে করেছে। মামলার সূত্র নং-২৭(১)১৭, সেকশন ৩০২/৩৪। পিসি কোতয়ালী মডেল থানা। 
উল্লেখ্য গতকাল (৮ জানুয়ারী) দুপুর ১টায় নুরপুর বড়বাড়ীর মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে হাসান ও হযরত পাড়া এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে স্বপনের সাথে কথাকাটা কাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই জনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। স্থানীয়রা দুজনকে দুই দিকে পাঠিয়ে দিলে ঘটনার স্থান থেকে হাসান ও স্বপন চলে যায়। ঘটনার কিছুক্ষন পরে হাসান নুরপুর এলাকার শ্যামল মিয়ার সেলুন দোকানে গেলে সেখানে স্বপন, তুষার সহ আরো দুই তিন জন হাসানকে সেলুন দোকান থেকে ডেকে রাস্তায় এনে বুকের বাম পাশে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। হাসানের চিৎকারে স্থানীয়রা দৌড়ে আসলে স্বপন ও তুষার সহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

কুমিল্লা নামেই কেন বিভাগ চাই

বশিরুল ইসলাম:
বিভাগ হওয়ার জন্য যে যোগ্যতা দরকার তার সব কটিই  কুমিল্লার রয়েছে। কুমিল্লায় রয়েছে অর্ধশতাধিক বিভাগীয় কার্যালয়। রয়েছে শিক্ষাবোর্ড, কর অঞ্চল, সড়ক ও জনপথ কার্যালয়, আনসার ভিডিপি জোন, স্কাউট জোন, কাস্টম এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট, হাইওয়ে পুলিশ কার্যালয়, সোনালী, রুপালী, অগ্রণী ও কৃষি ব্যাংকের জোনাল অফিস আরো রয়েছে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ। কুমিল্লা রয়েছে বিশ^বিখ্যাত আখতার হামিদ খানের বাংলাদে
শ রুর‌্যাল একাডেমী (বার্ড), ইংরেজ কবরস্থান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মেডিকেল এ্যাসিটেন্ট ট্রেনিং সেন্টার,  নার্সিং ইনস্টিউট, পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী কার্যালয়, এক মাত্র সরকারি বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিউট, পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়, কুমিল্লার সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কুমিল্লা বিভাগের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে এসেছেন তিনি বিভিন্ন সভায় বলে ছিলেন মাননীয় নেত্রী আমার এই কুমিল্লায় বিভাগ হলে নতুন করে কিছু করতে হবে না শুধুমাত্র দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি পদায়ন করা হলেই হবে। আমার এই কুমিল্লায় সবকিছুই আছে। একটি বিভাগের জন্য যা দরকার তার কোনটিই বাকী নেই অথচ বিভাগের আন্দোলন করি আমি বিভাগ হয় রংপুর বিভাগ হয় সিলেট বিভাগ হয় ময়মনসিংহ। কিন্তু আমার এই কুমিল্লা ষড়যন্ত্রের কারণে বিভাগ হচ্ছেনা । বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এই বিভাগ পিছিয়েছে। 
মমিনুল ইসলাম নামে সাধারণ নাগরিক জানান, কুমিল্লা বিভাগ হওয়ার পিছনে অনেক গুলো কারণ রয়েছে। আজকে নোয়াখালীর কেউ কুমিল্লা বিভাগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাহলে সেটা হবে বোকামী। কেননা নোয়াখালী আমাদের সাথে না আসলে ও আমরা বিভাগ পাওয়ার যোগ্য। দীর্ঘ সংগ্রামের পরও যদি কুমিল্লা বিভাগ না পাওয়া যায় তাহলে এটা কুমিল্লা বাসী তথা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তাছাড়া কুমিল্লাকে ভৌগলিক কারণে বাংলাদেশের বিকল্প রাজধানী হিসেবে মনে করা হয়। 

ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গতকাল রবিবার নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে কেউ হাতে লিখে কেউ সাদা কাগজে লিখে কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে মানববন্ধন ও র‌্যালি করেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে একাত্বতা পোষন করে বলেন, কুমিল্লার নাম বাদ দিয়ে অন্য নামে বিভাগ করা হলে আমাদের গায়ে ছুরি চালানো হবে। আমাদের এই ঘা কখনো শুকাবে না। আমরা চাই কুমিল্লা নামে বিভাগ ঘোষনা করা হউক। অন্য নামে নয়। কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্য কুমিল্লা নামেই নিহিত আছে অন্য নামে নয়। সুতরাং কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে এই প্রত্যাশা করছি আমরা সচেতন মহল। শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও মিছিলে বলেন, আমরা জন্মের পর থেকে কুমিল্লা নাম শুনে আসছি কুমিল্লা নামটি আমাদের মনে থাকে অন্য নামে আমরা মনে রাখতে পারিনা আমাদেরকে জোর করে অন্য নাম দিলে তা মুখস্ত করতে হবে কিন্তু মুখস্ত করা নাম আমরা মনে রাখতে পারব না। তাই আমরা যে নাম চিনি ও জানি সেই নামেই বিভাগ ঘোষনা করা হউক । আর কোন দাবী নাই, দাবী মোদের একটাই কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। মোদের দাবী একটাই কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। ময়নামতি বিভাগ হলে বিভাগের দরকার নাই। জেগেছে রে জেগেছে কুমিল্লা বাসী জেগেছে। রক্তে আগুন লেগেছে কুমিল্লা বাসী জেগেছে। কুমিল্লা নামে বিভাগ হউক এটা কুমিল্লা বাসীর দাবী। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মনে করেন কুমিল্লার নামে বিভাগের পরিবর্তে ময়নামতি নামে বিভাগ করা এটা ্একটা গভীর ষড়যন্ত্র। আর কোন নামে বিভাগ হতে পারে না। বিভাগ হতে হলে কুমিল্লা নামেই বিভাগ হতে হবে। কুমিল্লা বিভাগের দাবীতে একাধিকবার সংসদে কুমিল্লার সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহার দাবী জানিয়েছেন। ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে তিনি একাত্বতা প্রকাশ করেছেন। আন্দোলনে অংশগ্রহন করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ার কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী, মহিলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী, জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সহ কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ। 



৫ম দিনে ও উত্তাল কুমিল্লা


বশিরুল ইসলাম:
আর কোন দাবী নাই, দাবী মোদের একটাই কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। মোদের দাবী একটাই কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। ময়নামতি বিভাগ হলে বিভাগের দরকার নাই। জেগেছে রে জেগেছে কুমিল্লা বাসী জেগেছে। রক্তে আগুন লেগেছে কুমিল্লা বাসী জেগেছে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী পূর্বালী চত্ত্বর। সমগ্র কুমিল্লা বাসী দলমত নির্বিশেষে সকলে বিভিন্ন উপজেলা থেকে কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে একাত্বতা পোষণ করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সবক্ষেত্রেই কুমিল্লা বিভাগের দাবীতে অনড়। এই দাবীতে প্রতিদিন বিকালে কুমিল্লার ঐতিহাসিক পূর্বালী চত্ত্বরে একত্রিত হচ্ছে কুমিল্লার সাংবাদিক, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ । বিভিন্ন জন বিভিন্ন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে কিন্তু বিভাগের দাবীতে সকলেই একমত। সকলের দাবী একটাই কুমিল্লা বিভাগ চাই। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ সহ সকলের একটাই দাবী ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। গতকাল আন্দোলনের ৪র্থ দিনে উত্তাল কুমিল্লা টাউনহল, পূর্বালী চত্ত্বর, উপজেলা, ইউনিয়ন সহ গ্রাম মহল্লায় সর্বত্র। কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন উপজেলা ইউনিয়ন থেকে ব্যানার ফেস্টুন সহ প্লেকার্ড গায়ে জড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক আসছে এই আন্দোলনে। একত্রিত হচ্ছে কুমিল্লা বিভাগের দাবীতে। মানববন্ধনে কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন কুমিল্লা নামে বিভাগ হউক এটা কুমিল্লা বাসীর দাবী। কুমিল্লার নামে বিভাগের পরিবর্তে ময়নামতি নামে বিভাগ করা এটা ্একটা গভীর ষড়যন্ত্র। আর কোন নামে বিভাগ হতে পারে না। বিভাগ হতে হলে কুমিল্লা নামেই বিভাগ হতে হবে। কুমিল্লা বিভাগের দাবীতে একাধিকবার সংসদে কুমিল্লার সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহার দাবী জানিয়েছেন। ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে তিনি একাত্বতা প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠান স্থানে বক্তব্য রাখেন দৈনিক কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ডাক প্রতিদিন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এম সাদেক  সহ বিভিন্ন কলেজ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ ছাত্রদল সহ বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 


উত্তাল কুমিল্লা পূর্বালী চত্ত্বর

বশিরুল ইসলাম:

আর কোন দাবী নাই, দাবী মোদের একটাই কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। মোদের দাবী একটাই কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। ময়নামতি বিভাগ হলে বিভাগের দরকার নাই। জেগেছে রে জেগেছে কুমিল্লা বাসী জেগেছে। রক্তে আগুন লেগেছে কুমিল্লা বাসী জেগেছে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী পূর্বালী চত্ত্বর। সমগ্র কুমিল্লা বাসী দলমত নির্বিশেষে সকলে বিভিন্ন উপজেলা থেকে কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে একাত্বতা পোষণ করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সবক্ষেত্রেই কুমিল্লা বিভাগের দাবীতে অনড়। এই দাবীতে প্রতিদিন বিকালে কুমিল্লার ঐতিহাসিক পূর্বালী চত্ত্বরে একত্রিত হচ্ছে কুমিল্লার সাংবাদিক, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ । বিভিন্ন জন বিভিন্ন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে কিন্তু বিভাগের দাবীতে সকলেই একমত। সকলের দাবী একটাই কুমিল্লা বিভাগ চাই। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ সহ সকলের একটাই দাবী ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। গতকাল আন্দোলনের ৪র্থ দিনে উত্তাল কুমিল্লা টাউনহল, পূর্বালী চত্ত্বর, উপজেলা, ইউনিয়ন সহ গ্রাম মহল্লায় সর্বত্র। কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন উপজেলা ইউনিয়ন থেকে ব্যানার ফেস্টুন সহ প্লেকার্ড গায়ে জড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক আসছে এই আন্দোলনে। একত্রিত হচ্ছে কুমিল্লা বিভাগের দাবীতে। মানববন্ধনে কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন কুমিল্লা নামে বিভাগ হউক এটা কুমিল্লা বাসীর দাবী। কুমিল্লার নামে বিভাগের পরিবর্তে ময়নামতি নামে বিভাগ করা এটা ্একটা গভীর ষড়যন্ত্র। আর কোন নামে বিভাগ হতে পারে না। বিভাগ হতে হলে কুমিল্লা নামেই বিভাগ হতে হবে। কুমিল্লা বিভাগের দাবীতে একাধিকবার সংসদে কুমিল্লার সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহার দাবী জানিয়েছেন। ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে তিনি একাত্বতা প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠান স্থানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিন জেলা জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম  আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শিকদার, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৭১টিভির কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি কাজী এনামুল হক ফারুক, দৈনিক ডাক প্রতিদিন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এম সাদেক, কুমিল্লা বার্তা ডট কমের শামছুল আলম রাজন,  সহ ছাত্রলীগ ছাত্রদল সহ বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 

ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাই

বশিরুল ইসলাম:
ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাই এবং কুমিল্লা নামেই বিভাগ দিতে হবে। ময়নামতি নামে বিভাগ মানি না মানব না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা কুমিল্লা নাম ধারণ করে আসছি। লালন করে আসছি কুমিল্লা। কুমিল্লা নাম ছাড়া অন্য নামে বিভাগ হলে কুমিল্লাবাসীর সাথে বিশ^াসঘাতকতা করা হবে। ময়নামতি কুমিল্লার অধীনে কুমিল্লা ময়নামতির অধীনে নয়। সারাদেশে চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেণী, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, লক্ষীপুর ও কুমিল্লাকে এখনো কুমিল্লা অঞ্চল হিসেবেই চিনে। ময়নামতি হচ্ছে কুমিল্লার ক্ষুদ্র একটি স্থানের নাম মাত্র এই রকম নানা যুক্তি তুলে ধরেন মানব
বন্ধনে আগত বক্তারা। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে আয়োজিত মানববন্ধনে ময়নামতি নাম বাদ দিয়ে কুমিল্লা নামেই বিভাগের দাবীতে  বক্তব্য রাখেন বিএমএ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ডা: আব্দুল বাকী আনিস, সাবেক সহ সভাপতি ডা: মহিউদ্দিন দীপু সাধারণ সম্পাদক ডা: আতাউর রহমান জসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: মোহাম্মদ আলী টিপু, স্বাচিবের সাধারণ সম্পাদক ডা: জি.এম মোর্শেদ। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ও বিএমএ কুমিল্লা জেলার সহ সাধারণ সম্পাদক ডা: আব্দুল আউয়াল সোহেল, বিএমএ নেতা ডা: মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু, ডা: নাছরিন আক্তার, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ছাত্র শিক্ষক ও হাসপাতালের সকল নার্স কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

চান্দিনায় সিএনজি ড্রাইভারের ছুরিকাঘাতে নিহত ১ আহত ২

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা চান্দিনা থানার মাইজখার গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএনজি চালকের ছুড়িকাঘাতে ঘটনাস্থলে মাছুম (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে মাসুদ (৩০) ও সাইদ (১৫) নামের আরো দুই যুবক। মাছুম ও মাসুদ মাইজখার ইউনিয়নের ফজলুর রহমানের ছেলে। 
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গতকাল দেড়টায় মাইজখার দক্ষিণপাড়া রহমান মার্কেটের সামনে সাইদ নামে এক ছেলের সাথে ড্রাইভার শাহজালালের ৫টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি চলছিল। এমন সময় জমিতে কাজ করে বাড়ী ফেরার পথে ফজলু মিয়া ও তার দুই ছেলে রাস্তা দিয়ে বাড়ী যাওয়ার সময় দুই পক্ষকে সমাধান শেষে দুই দিকে চলে যাওয়ার জন্য বলে। পরে ড্রাইভার শাহজালাল চলে যায় কিছুক্ষন পর ড্রাইভার শাহজালাল সহ অজ্ঞাত কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে মাছুমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করলে ঘটনাস্থলেই মাছুম মারা যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদকে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশংকাজনক অবস্থায় মাসুদ ও সাইদকে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
নিহত মাছুমের বাবা ফজলুর রহমান জানান, অন্য একটি ছেলের সাথে সিএনজি ড্রাইভার শাহজালালের ঝগড়া হয়েছে দেখে আমরা তাদের দুইজনকে মিমাংসা করে দুই দিকে পাঠিয়ে দেই। ড্রাইভার শাহজালাল চলে গিয়ে কিছুক্ষণ পরে আরো কয়েকজনকে রিক্সাতে করে নিয়ে আসে এবং আমার দুই ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে । ঘটনাস্থলেই আমার ছোট ছেলে মাছুম মারা যায় আমার বড় ছেলে মাসুদের অবস্থা ও খুবই খারাপ ইতোমধ্যে পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়ে গিয়েছে। তার পেটে অনেক জখম করেছে আমার ছেলে মাসুদ ও বাচবেনা বাবা। আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলেছে। 
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য  কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘাতক চালক ছুরিকাঘাত করে পালিয়েছে এবং তাকে আটক করার চেষ্টা চলছে। 



ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাই।

বশিরুল ইসলাম:
শত জল্পনা আর কল্পনার পর অবশেষে কুমিল্লায় বিভাগ হতে যাচেছ। কিন্তু কুমিল্লা নয় ময়নামতি নামে । ‘ময়নামতি’ নামে কুমিল্লা বিভাগের নামকরণ হবে এমন ঘোষণায় ফুঁসে উঠছে কুমিল্লাবাসী। কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা এবং এই দাবি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নতুন নামে বিভাগ ঘোষণা মেনে নেবে না কুমিল্লার সর্বস্তরের জনগণ। ময়নামতি নামে বিভাগের খবরে কুমিল্লার সাধারণ মানুষ সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মহলে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কুমিল্লার বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। কুমিল্লাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।কুমিল্লাকে পিছিয়ে দেয়ার আরেকটি গভীর ষড়যন্ত্র । 

কুমিল্লার মানুষ ১৯৮৪ সাল থেকে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে কুমিল্লা বিভাগের আন্দোলন করে আসছে। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই সময়ের কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা বর্তমান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তার সাথে একাত্বতা পোষণ করে কুমিল্লার সকল মানুষ। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সেই চলমান দাবি উত্থাপন করে জাতীয় সংসদে। তার দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভাগ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বাংলাদেশে যে সমস্ত বিভাগ ঘোষিত হয়েছে সেগুলো প্রাচীন জেলার নামেই ঘোষিত হয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট এই নামে বিভাগ হলে কুমিল্লার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন। কুমিল্লার নামেই বিভাগ হতে হবে।
কুমিল্লার বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, কুমিল্লা বাদ দিয়ে ময়মনামতি নামকরণ করে বিভাগ ঘোষণা কুমিল্লাবাসী কখনো মেনে নেবে না। ইতোমধ্যেই সংগঠিত হতে শুরু করেছে কুমিল্লাবাসী। কুমিল্লাকে নিয়ে এ গভীর ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লাবাসী। কিছুতেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না কুমিল্লার সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যেই প্রতিবাদের ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লার পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। একনেকের বৈঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগের নাম ময়নামতি হবে। তবে এই নামটি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।  মন্ত্রী আরো জানান, এখন থেকে নতুন বিভাগের নাম জেলার নামে হবে না। নতুন বিভাগের নাম ভিন্ন নামে হবে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই ঘোষণায় ক্ষোভ এবং দুঃখ প্রত্যাশা করে কুমিল্লার সব শ্রেণি পেশার মানুষ। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি ও ক্রীড়ার পীঠস্থান কুমিল্লা বিভাগ হলে তা হবে ‘কুমিল্লা’ নামেই এমনই প্রত্যাশা কুমিল্লাবাসীর। তবে কেন এই নামকরণের পরিবর্তন। নতুন নামেই বা হবে কেন কুমিল্লা বিভাগ। ময়নামতি নামকরণের পেছনে কি আছে এমনই প্রশ্ন কুমিল্লাবাসীর মনে।

 এরই অংশ হিসেবে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। উক্ত মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহন করে কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা আরফানুল হক রিফাত,  কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী এনামুল হক ফারুক, বাংলার আলোড়নের প্রধান সম্পাদক মো: রফিকুল ইসলাম, রুপসী বাংলা পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক অশোক বড়–য়া, বাংলার আলোড়ন পত্রিকার সহ-সম্পাদক জুনায়েদ শিকদার তপু, একশে টিভি’র কুমিল্লা প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির রনি, সময় টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি বাহার রায়হান, বাংলা ভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি সাইয়েদ মাহমুদ পারভেজ, দৈনিক ডাক প্রতিদিন পত্রিকার সহ সম্পাদক হাবিব আল জালাল, কুমিল্লার আলো পত্রিকার সম্পাদক জসিম উদ্দিন কনক, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকির, আরটিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া, দেশ টিভির সাংবাদিক এম ফিরোজ, মহানগর যুবলীগ নেতা হাবিবুলর আল সাকি, তরুণ লীগের সভাপতি হাবিবুল আল সাদী, সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক বশিরুল ইসলাম, সাংবাদিক খন্দকার আলে এমরান, সাংবাদিক জাহিদ, সাংবাদিক সাাইফুল, সাংবাদিক মো: রকিব উদ্দিন ভুইয়া তুহিন

‘ময়নামতি’ নয় “কুমিল্লা” নামে বিভাগ চাই

বশিরুল ইসলাম:
প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ময়নামতি বিভাগ নয়,কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা বিভাগ চাই এ শ্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লা সাংবাদিক সমবায় সমিতির আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করে বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী।
মঙ্গলবার দুপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় পরে বিকাল সাড়ে ৫টায় কুমিল্লা কান্দিরপাড় টাউনহলের সামনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন, সাংবাদিক মহল এবং সুশীল সমাজ একাত্ববদ্ধ হয়ে মানববন্ধ ও বিক্ষোভে অংশ গ্রহন করে।  
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কুমিল্লা একটি ইতিহাস ঐতিহ্যের জেলা হয়েও কুমিল্লার মানুষ দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত। কুমিল্লাকে বিভাগে বাস্তবায়নে রূপান্তর করতে জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এখন আবার আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সম্মুখিন হতে যাচ্ছি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি ইউনিয়নের নামে বিভাগ করার কথা উঠে আসছে। কুমিল্লাবাসীর প্রাণ যেতে পারে তবু তা হতে দেওয়া হবে না। 
তারা আরো বলেন, ২০১৫ সালে নজরুল জন্ম জয়ন্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে গেছেন যদি কুমিল্লায় বিভাগ হতে হয়, তাহলে কুমিল্লার নামেই বিভাগ হবে। কিন্তু তিনি আজ সেই কথা ভুলে গেছেন। এখন বলছেন নাকি কুমিল্লাসহ পরবর্তী যত বিভাগ হবে জেলার নামে হবে না। 
কুমিল্লা সাংবাদিক সমবায় সমিতির সভাপতি ও ঢাকা প্রতিদিনের প্রতিনিধি মো: জোনায়েদ শিকদার তপুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বার এর সাবেক সভাপতি এড. জহিরুল ইসলাম সেলিম, কুমিল্লা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি  আরফারনুল হক রিফাত, কুমিল্লা টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর, নারী নেত্রী দিলনাশী মহসিন, সালমা আক্তার।
 এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশিক অমিতাভ, সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রতন, বাংলার আলোড়নের প্রধান সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  কাজী এনামুল হক ফারুক, সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল, প্রথম আলোর প্রতিনিধি গাজীউল হক সোহাগ, রূপসী বাংলার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার অশোক বড়ুয়া, প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রনি, বাংলাভিশনের সাঈদ মাহমুদ পারভেজ, কুমিল্লা সাংবাদিক সমবায় সমিতির সহ সভাপতি বাচ্চু বকাউল, দৈনিক ডাক প্রতিদিনে সহ সম্পাদক হাবিব জালাল, সাপ্তাহিক কুমিল্লার কথার প্রকাশক দেলোয়ার হোসেন জাকির, কুমিল্লা সাংবাদিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাওহীদ হোসেন মিঠু, কুমিল্লা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাহী সদস্য ও  দৈনিক আজকের প্রত্যাশার ব্যুরো প্রধান মো: জাহাঙ্গীর আলম ।
আরও উপস্থিত ছিলেন সময় টিভির প্রতিনিধি বাহার রায়হান, দেবিদ্বার প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন, ইন্ডিপেনডেন্ট এর প্রতিনিধি তানবীর দীপু, প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক এমদাদুল হক সোহাগ, সাংবাদিক সমবায় সমিতির প্রচার সম্পাদক  খন্দকার আলে এমরান হোসেন, সাংবাদিক সমবায় সমিতির আজকের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার আশিকুর রহমান, ডাক প্রতিদিনের নুরুল ইসলাম, বশিরুল ইসলাম, আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ আলম, কুমিল্লা সাংবাদিক সমবায় সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক জাগো কুমিল্লা ডট কমের অমিত মজুমদার, একুশে টিভির ক্যামেরা পারসন রাজিব বনিক, ৭১ টিভির ক্যামেরা পারসন সোহাগ, কুমিল্লার আলোর ফটোসাংবাদিক সাইফুল,  মাই টিভির ক্যামেরা পারসন আমির, ডাক প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিক কামরুল হাসান বিজয়।
উক্ত মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগর যুবলীগ নেতা হাবিবুর সাদি,  মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক ডা: জসিম উদ্দিন, মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফয়সল, সমবায় নেতা আবু তাহেরসহ বৃহত্তর কুমিল্লার রাজনীতিবিদ,পেশাজীবী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাই।

বশিরুল ইসলাম:
শত জল্পনা আর কল্পনার পর অবশেষে কুমিল্লায় বিভাগ হতে যাচেছ। কিন্তু কুমিল্লা নয় ময়নামতি নামে । ‘ময়নামতি’ নামে কুমিল্লা বিভাগের নামকরণ হবে এমন ঘোষণায় ফুঁসে উঠছে কুমিল্লাবাসী। কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা এবং এই দাবি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নতুন নামে বিভাগ ঘোষণা মেনে নেবে না কুমিল্লার সর্বস্তরের জনগণ। ময়নামতি নামে বিভাগের খবরে কুমিল্লার সাধারণ মানুষ সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মহলে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কুমিল্লার বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। কুমিল্লাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।কুমিল্লাকে পিছিয়ে দেয়ার আরেকটি গভীর ষড়যন্ত্র । 

কুমিল্লার মানুষ ১৯৮৪ সাল থেকে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে কুমিল্লা বিভাগের আন্দোলন করে আসছে। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই সময়ের কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা বর্তমান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তার সাথে একাত্বতা পোষণ করে কুমিল্লার সকল মানুষ। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সেই চলমান দাবি উত্থাপন করে জাতীয় সংসদে। তার দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভাগ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বাংলাদেশে যে সমস্ত বিভাগ ঘোষিত হয়েছে সেগুলো প্রাচীন জেলার নামেই ঘোষিত হয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট এই নামে বিভাগ হলে কুমিল্লার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন। কুমিল্লার নামেই বিভাগ হতে হবে।
কুমিল্লার বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, কুমিল্লা বাদ দিয়ে ময়মনামতি নামকরণ করে বিভাগ ঘোষণা কুমিল্লাবাসী কখনো মেনে নেবে না। ইতোমধ্যেই সংগঠিত হতে শুরু করেছে কুমিল্লাবাসী। কুমিল্লাকে নিয়ে এ গভীর ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লাবাসী। কিছুতেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না কুমিল্লার সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যেই প্রতিবাদের ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লার পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। একনেকের বৈঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগের নাম ময়নামতি হবে। তবে এই নামটি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।  মন্ত্রী আরো জানান, এখন থেকে নতুন বিভাগের নাম জেলার নামে হবে না। নতুন বিভাগের নাম ভিন্ন নামে হবে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই ঘোষণায় ক্ষোভ এবং দুঃখ প্রত্যাশা করে কুমিল্লার সব শ্রেণি পেশার মানুষ। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি ও ক্রীড়ার পীঠস্থান কুমিল্লা বিভাগ হলে তা হবে ‘কুমিল্লা’ নামেই এমনই প্রত্যাশা কুমিল্লাবাসীর। তবে কেন এই নামকরণের পরিবর্তন। নতুন নামেই বা হবে কেন কুমিল্লা বিভাগ। ময়নামতি নামকরণের পেছনে কি আছে এমনই প্রশ্ন কুমিল্লাবাসীর মনে।

 এরই অংশ হিসেবে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। উক্ত মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহন করে কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা আরফানু
ল হক রিফাত,  কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী এনামুল হক ফারুক, বাংলার আলোড়নের প্রধান সম্পাদক মো: রফিকুল ইসলাম, রুপসী বাংলা পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক অশোক বড়–য়া, বাংলার আলোড়ন পত্রিকার সহ-সম্পাদক জুনায়েদ শিকদার তপু, একশে টিভি’র কুমিল্লা প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির রনি, সময় টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি বাহার রায়হান, বাংলা ভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি সাইয়েদ মাহমুদ পারভেজ, দৈনিক ডাক প্রতিদিন পত্রিকার সহ সম্পাদক হাবিব আল জালাল, কুমিল্লার আলো পত্রিকার সম্পাদক জসিম উদ্দিন কনক, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকির, আরটিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া, দেশ টিভির সাংবাদিক এম ফিরোজ, মহানগর যুবলীগ নেতা হাবিবুলর আল সাকি, তরুণ লীগের সভাপতি হাবিবুল আল সাদী, সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক বশিরুল ইসলাম, সাংবাদিক খন্দকার আলে এমরান, সাংবাদিক জাহিদ, সাংবাদিক সাাইফুল, সাংবাদিক মো: রকিব উদ্দিন ভুইয়া তুহিন

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৮৩হাজার ৭শ ২৪জন।

বশিরুল ইসলাম: 
আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা সহ সারাদেশে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৬ জেলার ২৪১টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচেছ ১লাখ ৮৩হাজার ৭শ ৪১জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩ হাজার ১৬৭জন বেশি।
ইতিমধ্যে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড, জেলা ও উপজেলার সকল কেন্দ্র কমিটি সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অন্যন্য বছরের চেয়ে এবছর নকল প্রবণতা কমানোর জন্য কঠোর অবস্থানে সরকার বলে জানিয়েছে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে ০২ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ বছর পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লার ৯১টি কেন্দ্রে ৫৭৭টি স্কুলে ৬২হাজার ৮৭৭জন, চাঁদপুরে ৩৯টি কেন্দ্রে ২৭৪টি স্কুলে ২৮হাজার ১২৯জন,ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার ৩৯টি কেন্দ্রে ২২৮টি স্কুলের ২৭হাজার ৮৬৯জন, ফেনীর ১৬টি কেন্দ্রে ১৭৭টি স্কুলের ১৪হাজার ৮৮০জন ও নোয়াখালীর ৩৭টি কেন্দ্রে ২৭৭টি স্কুলের ৩২হাজার ১শ ৭৬জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করছে। 
এদের মধ্যে ছাত্র রয়েছে ১লক্ষ ৪১০জন ও ছাত্রী রয়েছে ৮৩ হাজার ২৭৭জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৭ হাজার ১৭৭জন, মানবিক বিভাগে ৫৫হাজার ২৯৪জন ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৮১হাজার ২৫৭জন। গত বছরের তুলনায় এবছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২৬টি। 
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের তত্ত্ববধানে পরীক্ষার সকল সরঞ্জাম ও উপকরণাদি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনায় কোন ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্ব অবহেলার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

মিটার টেম্পারিং করে ৩ বছরে ২২০কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

বশিরুল ইসলাম:

গত ৩ বছরে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর লি: এর মিটার টেম্পারিং করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও বাখরাবাদ অফিসের কর্মকর্তা সরকারের ২২০কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিজিডিসিএল এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদানের পূর্বে বিগত ৩ বৎসরে এ সমস্ত অবৈধ সিএনজি সমূহ সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চি
ত করেছে। প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল  ইসলাম খান দায়িত্ব পাওয়ার পর অবৈধ, অনিয়ম এবং দূনীর্তির বিরুদ্ধে এই গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান অব্যাহত রাখেন।

কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলা, বাখরাবাদ গ্যাস অফিস ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয় এবং পেট্রোবাংলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম খান এর ব্যবস্থাপনায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিম স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর ফ্রাঞ্জাইজ এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন, হোটেল, শিল্প-কারখানা এবং আবাসিক এলাকায় অবৈধ ও নিয়মবর্হিভূত স্থাপিত/সংযোজিত গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
বিনা অনুমতিতে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে একটি আবাসিক অবৈধ রাইজার ব্যবহারের কারণে গত ২৯ জানুয়ারি’ ২০১৭ তারিখ আর এন আর লিমিটেড (অটো ব্রিক্স) গ্রাহক সংকেত নং-১৭-১-০০০৩, চান্দিনা কুমিল্লায় অবস্থিত শিল্প গ্রাহকের আঙ্গিনায় আলামত গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিমের নজরে এলে তাৎক্ষনিকভাবে গ্যাস সংযোগ (শিল্প গ্রাহকের) বিচ্ছিন্ন করা হয়। অপরদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশে গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি’ ২০১৭ তারিখে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিম ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কুমিল্লাস্থ সদর দক্ষিণে অবস্থিত বামিসা এলাকায় ১"দ্ব ইঞ্চি ব্যাসের প্রায় ১৫ (পনের) কিলোমিটার অবৈধ পাইপ লাইন উত্তোলন করে। যার ফলশ্রুতিতে বিপুল অংকের সরকারী রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করা হয়েছে।
গত ১৭ জুলাই’ ২০১৬ তারিখে প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম খান বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর কোম্পানীর অনিয়ম, দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ায়  অভিযান অব্যাহত রাখায় যারা গ্যাস চুরির সাথে সরাসরি জড়িত, সে সাথে এক শ্রেনীর স্বার্থন্বেষী কুচক্রিমহল অমূলকভাবে অহেতুক একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, দক্ষ-কর্মঠ ও আদর্শবান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে অযথা অসত্য এবং মিথ্যা অপবাদ প্রচার করে সরকারের উচ্চমহলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক পত্র প্রেরণের মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২১ বাস্তবায়ন এবং দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর সুযোগ্য নির্ভিক ও সাহসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম খান সকল প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে সরকারী ভাবমূর্তী অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে দূর্ণীতি ও অবৈধ কর্মকান্ড স্বমূলে উৎপাটন করার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রেক্ষিতে ইতোঃপূর্বে ১৮ (আঠারো)টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন প্রায় ৬০/৭০ কোটি টাকা সরকারী রাজস্ব ফাকিঁ, ২টি বিলাস বহুল হোটেল এবং বিভিন্ন গ্যাসের অবৈধভাবে স্থাপিত পাইপ লাইন সহ আবাসিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার গ্যাস চুরি প্রতিরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিজিডিসিএল এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদানের পূর্বে বিগত ৩ বৎসরে এ সমস্ত অবৈধ সিএনজি সমূহ মিটার টেম্পারিং করে প্রায় ২১০/২২০ কোটি টাকা সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম খান আরো জানান যে, অবৈধ, অনিয়ম এবং দূনীর্তির বিরুদ্ধে এই গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান অব্যাহত থাকবে।  সাহসী ও বীরচিত পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য কুমিল্লাবাসী তথা আপামর জনসাধারন বিজিডিসিএল এর এই নির্ভীক এবং সাহসী যোদ্ধা ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম খানকে সাধুবাদ জানান।