কুমিল্লায় দরিদ্র শিশুদের মধ্যে স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সেতু বন্ধন

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেশপুরে মাদককে না বলুন এই শ্লোগান নিয়ে এলাকাবাসী মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন ও দরিদ্র শিশুদের মধ্যে স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সেতু বন্ধন নামে একটি সামাজিক সংগঠন। গত ২৮ শে জানুয়ারী রাজেশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আমরা প্রবাসী রাজেশপুরের সন্তান সেতু বন্ধন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৬নং পূর্ব জোড়কারণ ইউ
নিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হারেজ মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও দর্পন সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মাহাবুব মোর্শেদ ও সিটিভি নিউজ২৪ অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুল মালেক,ইউপি মেম্বার গোলাম মোরতুজা,সেতু বন্ধন সংগঠনের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন ও মোঃ জাফর। পরে শিশুদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।

প্রাণ নাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কুমিল্লায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্তকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান এবং চ্যানেল নাইনের বার্তা প্রধান আমীনুর রশিদ ও সাভার প্রতিনিধি অপু খন্দকারের বিরুদ্ধে হয়রানি মুলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাংবাদিকরা।
বৃহষ্পতিবার দুপুরে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানবন্ধন  ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রতনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবীর রনি, বাংলার আলোড়ন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সিটিভি নিউজের সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস, দুপ্রকের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান, সাবেক বিএমএ’র সভাপতি ডা. ইকবাল আনোয়ার, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের খায়রুল আহসান মানিক, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইয়াসমিন রীমা, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার অশোক বড়–য়া, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার গাজিউল হক সোহাগ, দৈনিক আওয়ার টাইম পত্রিকার মাহবুবুল আলম বাবু, সীমান্ত সংবাদের সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলাল, ইনকিলাবের সাদিক হোসেন মামুন, আর টিভির গোলাম কিবরিয়া, বৈশাখী টিভির আনোয়ার হোসাইন, দৈনিক আজকের কুমিল্লার সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, এনটিভির জালাল উদ্দিন, জিটিভির সেলিম রেজা মুন্সী, মাছরাঙা টিভির জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, সময় টিভির বাহার রায়হান, এশিয়ান টিভির দেলোয়র হোসাইন আকাইদ, মোহনা টিভির তাওহিদ হোসেন মিঠু, এসএটিভির আবু মুছা, দীপ্ত টিভির শাকিল মোল্লা, বাংলা টিভির আরিফুর রহমান মজুমদার, আর টিভির সোহরাব সুমন, আজকের কুমিল্লার আশিকুর রহমান আশিক, দৈনিক পূর্বাশার আলাউদ্দিন প্রমূখ।  
প্রতিবাদ সভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন দেশ টিভি ও ভোরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার এম ফিরোজ মিয়া, মাইটিভি ও ভোরের কাগজের প্রতিনিধি সাইফ উদ্দিন রনী এবং চ্যানেল নাইন ও আমাদের অর্থনীতির প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম শিবলী।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ব। এ হিসাবে সংবাদপত্রের দায়িত্ব হচ্ছে সমাজের ভুলত্রুটি তুলে ধরা। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোন পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিককে হয়রানি করা উচিৎ নয়। সমাবেশে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান সাংবাদিকরা।

সাংবাদিক সবচেয়ে খারাপ ......আবুল কাশেম হৃদয়

বশিরুল ইসলাম: 
সাংবাদিক সবচেয়ে খারাপ কারণ সে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়ার পর তার খবর প্রকাশ করে। সাংবাদিক সবচেয়ে খারাপ কারণ অস্ত্রবাজ, লোট পাট করা এমপি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিক সবচেয়ে খারাপ কেননা সে দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করে। যখন সন্ত্রাসীরা নির্যাতনমুলক নিপীড়ন মুলক কার্যক্রম চালায় তখন সাংবাদিক নির্যাতিত নিপীড়িত ব্যক্তিটির  পাশে গিয়ে দাড়ায়। আমরা সাংবাদিকরা আসলেই খুব খারাপ মানুষ, আমরা যখন দেখি সাধারন মানুষ দিনের পর দিন
বিচারালয়ে ঘুরে বেড়ায়, দিনের পর দিন তার পকেটের টাকা খরচ করে কিন্তু সুবিচার পায়না তখন  আমরা সাংবাদিকরা তার পাশে গিয়ে দাড়াই, কলম ধরি। আমরা সাংবাদিকরা আসলেই খারাপ মানুষ। আমাদের মত খারাপ মানুষ মনে হয় পৃথিবীতে আর নেই। কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখেন যদি এই খারাপ মানুষ গুলো না থাকে এই সমাজের, এই দেশের ও রাস্ট্রের কি অবস্থা হবে? দুর্বৃত্তরা কিভাবে এই দেশটাকে লুটে নেবে, অস্ত্রবাজরা কিভাবে অস্ত্র নিয়ে ঘুরবে আর মানুষকে মারবে? দুর্নীতিবাজরা কিভাবে এ দেশটাকে দুর্নীতির স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করবে? এই সাংবাদিকরা, এই সংবাদ মাধ্যম, এই সংবাদ পত্র,  এই মিডিয়া যদি না থাকে  তাহলে একবার চিন্তা করে দেখেন ,চোখ বন্ধ করে, কি করবে এই দুর্বত্তরা, কি করবে দুর্নীতিবাজরা,  কি করবে এই অস্ত্রবাজরা। আমরা আসলে খুব খারপ মানুষ কারণ আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াই। যখন একজন সাধারণ মানুষের কোথাও গিয়ে দাড়ানোর জায়গা থাকেনা, যখন প্রশাসনে গিয়ে জায়গা পায়না, যখন বিচারালয়ে গিয়ে কোন বিচার পায়না, যখন পুলিশের কাছে গিয়ে কোন সুবিচার পায়না, যখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে কোন চিকিৎসা পায়না তখন আমরা সাংবাদিকরা তার পাশে গিয়ে দাড়াই। আমরা আসলেই খুব খারাপ মানুষ কারণ যারা অবৈধ পথে সম্পদ আহরণ সম্পদের পাহাড় গড়ে তাদের বিরুদ্ধে লিখি। আমরা আসলেই খারাপ মানুষ কারণ আমরা নিপীড়িত নির্যাতিত সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াই। তাই মুক্ত গনমাধ্যম বাংলাদেশে নিশ্চিত করতে হবে। এদেশের মানুষ মুক্ত গনমাধ্যমে বিশ্বাসী। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে সেটি প্রত্যাহার করতে হবে। গত ১৫ জানুয়ারী কুমিল্লা টাউনহল গেইটে দেশ বরেন্য বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও নিউজ ২৪ চ্যানেলের নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিক নঈম নিজাম সহ ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদকের গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে কুমিল্লা কাগজ পত্রিকার সম্পাদক, কালের কন্ঠ ও চ্যানেল আই কুমিল্লা প্রতিনিধি মো: আবুল কাশেম হৃদয় এসব কথা বলেন।  এসময় কুমিল্লায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
  উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পৃষ্ঠায় লালমনিরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের অবৈধ সম্পদের খবর প্রকাশের জেরে মানহানির মামলা করা হয়।   ঐ বছরে সংবাদ প্রকাশের চল্লিশ দিন পর  লালমনিরহাট জেলায় মামলা হয়।  লালমনিরহাটের ৪নং আমলী আদালতের বিচারক মো: আফাজ উদ্দিন ২ জানুয়ারী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।  এরই প্রেক্ষিতে দেশ-বিদেশে সাংবাদিক সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই গ্রেফতারি পরোয়ানার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।  

১০ দিনেও জ্ঞান ফিরেনি তৌফিকের

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ছাত্র রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌফিকুল ইসলাম আহত হওয়ার দশ দিন পার হলেও এখনো তার জ্ঞান ফিরেনি। শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রীতে আসলেও এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর তা আবার ১০২ ডিগ্রীতে নেমে এসেছে। গত দুইদিন পূর্বে হাত পা নাড়া চাড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে তৌফিক। তৌফিকের বাবা আবুল কালাম আজাদ আর মা খালেদা আক্তার বড় ভাই সবির আহমেদ ও সাইদুল ইসলাম এবং একমাত্র বোন হাবিবার চোখের জ্বলে ভাসছে দিনের পর দিন। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে আশে পাশের পরিবেশ। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র  করে কলেজের শেখ রাসেল ছাত্রাবাস ও বীর উত্তম শাহ আলম ছাত্রাবাসের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয় তৌফিক। আহত তৌফিক সিভিয়ার হেড ইনজুরীতে  ভোগছে। তার একটি অপটিক নার্ভ ড্যামেজ , ক্রিয়েটিনিন লেভেল হাই (কিডনী ঠিক ভাবে কাজ করছেনা) , নিউমোরাক্সের সাথে চেষ্ট ড্রেইন (ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করছে)।
সাধারণ ছাত্রদের প্রশ্ন গত এক বছরে ৪টি ঘটনা, ছাত্ররা এত বেপরোয়া কেন? কলেজের অধ্যক্ষ সেইদিন কুমিল্লা ছিলেন না সেটি কেউ না কেউ জানতো। ঘটনার সাথে সাথে অর্থাৎ রাত ১টায় হোস্টেল সুপার কে জানানো হলেও রাত আড়াইটায় ঘটনাস্থলে  আসে পুলিশ। যখন হোস্টেলে ঘটনা ঘটে তখন হোস্টেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কোথায় ছিলেন? 
সূত্র থেকে জানা যায়, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ থাকার পরেও কিছুদিন পর পর ছাত্রদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। কলেজে ছাত্র রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে ডা: পলাশ ও ডা:  হান্নানের নেতৃত্বে।  ডা: মো: আবদুল হান্নান ও ডা: হাবিবুর রহমান পলাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যানেথেসিওলজি ও ইএনটি বিভাগের চিকিৎসক। এরা দুই জনই স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটি ও কুমিল্লা জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। ডা: হান্নান এ্যানেসথেসিয়া এবং ডা: পলাশ ইএনটি বিভাগের ডাক্তার। ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর অধ্যাপক ডা: ইকবাল আর্সনালকে সভাপতি ও অধ্যাপক ডা: এএম আজিজকে সাধারন সম্পাদক করে স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। কমিটি গঠনের ১বছর পর অর্থাৎ ২০১৬ সালে ১৫১সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি ঘোষনার পর স্বাচিপের কুমিল্লা শাখা ও মেডিকেল কলেজ রাজনীতিতে দ্বন্দ আর সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এরই সূত্র ধরে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সময় কলেজের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ৫জন শিক্ষার্থী আহত হয়। ঐ সময় ১৭জন শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করার পর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সুপারিশের কারণে সেই বহিস্কারাদেশ স্থগিত করা হয়। ফলে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত শিক্ষার্থীরা আরো সাহস পেয়ে পরবর্তীতে আরো দ্বন্ধ সংঘাতের দিকে ঝাপিয়ে পড়ে। ২০১৭ সালের নভেম্বরের ১ তারিখ আবারো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে পরের দিন কলেজে জরুরী সভায় ৮জনকে কলেজ ও হোস্টেল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার ও ৫জন ্ইন্টার্ণ চিকিৎসককে সতর্ক করা হয় । সেই বহিস্কারাদেশের সময় তৌফিকুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল এবং সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু ছাত্রের নাম আসায় বহিস্কার হওয়া কিছু শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আক্রমন করে। সেই আক্রমনেই তৌফিক আজ এ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। 


মনোহরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপি’র ভাতিজার আক্রমনে আহত ২।

নিজস্ব প্রতিবেদক
:
কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাও ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপি’র ভাতিজা আমিরের আক্রমনে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ২জন। আহতদের মধ্যে একজন আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন। উক্ত ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। 
আহত শাহ আলম প্রকাশ মানিকের মা ফিরোজা বেগম জানান, আমাদের পুকুরটি চারজন অংশীদারে মালিক। কিন্তু এককভাবে পুকুরের মাছ বিক্রি করে আন্দিরপাড় গ্রামের ইয়াহিয়াকারীর ছেলে মহসিন (৩৫) । এই ঘটনায় তার দেবর রফিকুল ইসলাম এলাকার মিহির মিয়ার চা দোকানে বসে মহসিনকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করে। মহসিন কথার এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রফিকের গায়ে গরম পানি মারে এবং সেখানে রফিক আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করার পর এলাকায় তার বাতিজা শাহ আলম ওরফে মানিক মিয়া স্থানীয়দের বিষয়টি অবহিত করে থানায় অভিযোগ করলে স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি সমাধানের জন্য ১নং ওয়ার্ড মেম্বার বাবুল হোসেনকে দায়িত্ব দেয়। সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার শামছুন্নাহার অর্থাৎ মহসিনের স্ত্রী বিষয়টি মানছেনা। পরে পুংগা গ্রামের প্রভাবশালী ও স্থানীয় এমপি’র ভাতিজা আমির হোসেন বিচার করার নামে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে  একই থানার শান্তির বাজার এলাকায় নিয়ে তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করে। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য চিতোষী বাজার হাসপাতালে নিয়ে যান।  হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে তাকে সরকারি হাসপাতালে পাঠালে বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার দাবী মহিলা মেম্বার এলাকায় পূর্বে এরকম নানা ঘটনা ঘটিয়েছে। মহিলা মেম্বারের এই রকম কুকীর্তির কারনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাই বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো: তাজুল ইসলাম  এমপি মহোদয় ও প্রশাসনের নিকট তার আকুল আবেদন বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করলে এলাকাবাসী শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। 
উক্ত ঘটনায় বাইশ গাও ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান জানান, আমি প্রথম ঘটনাটি জেনেছি। পরের ঘটনাটি জানতে পারিনি। আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসলে যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবো। 


মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকলকে কাজ করতে হবে.................................... তাহসিন বাহার সুচনা।

বশিরুল ইসলাম:
মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকলকে কাজ করতে হবে। মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। তাই কুমিল্লায় সকলকে সাথে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে এক হয়ে কাজ করবে জাগ্রত মানবিকতা ও বারপাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদ। মাদক আর সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কখনো এক সাথে থাকতে পারেনা। মাদক ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন করছে। মাদক সমাজের শান্তি শৃংখলা নষ্ট করছে। মাদকের কারণে আজ পিতা মাতা সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে। গত ৪ জানুয়ারী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন বারপাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদের আয়োজনে চিত্রাংক ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগীতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা ০৬ সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি’র সুযোগ্য কন্যা তাহসিন বাহার সুচনা এসব কথা বলেন। 
বিশেষ অতিথি ছিলেন ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মামুনুর রশিদ মামুন, কুমিল্লা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মো: মহিউদ্দিন লিটন, রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লা সিটির সহ সভাপতি ডা. মো: রাসেল আহমেদ চৌধুরী, ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জামিলা আক্তার লিপন,  কেটিসিসি-এ লি: এর পরিচালক  ও ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর আলম, সমাজ সেবক হাজী মো: আলী আশ্রাফ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: জয়নাল অবেদীন। উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাখাওয়াত হোসেন, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি কাজী মাহাবুব আলম, প্রতিষ্ঠাতা মো: আবদুস সামাদ ও সমাজ সেবক মো: আবুল বাশার। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরো বলেন, বারপাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদ এলাকায় শিক্ষার উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখে চলেছে তা প্রশংসনীয়। বর্তমানে যেখানে যুব সমাজ মাদকের ছোবলে আক্রান্ত সেখানে এই এলাকার ছাত্র সমাজ যে উ˜্যােগ নিয়েছে তা অন্যান্যদের জন্য অনুকরণীয়। বর্তমানে মাদকের যে বিস্তার তার অবসানে জাগ্রত মানবিকতা ও বাসকপ এক হয়ে কাজ করবে এবং বারপাড়া থেকেই কর্মসূচী শুরু হবে। সংগঠন ও এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি বারপাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা থাকার ঘোষণা দেন।  তাছলিমা লিপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার ইলিয়াছ আহমেদ। উল্লেখ্য বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ১৫ ডিসেম্বরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু শ্রেনী থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত আট শতাধিক শিক্ষার্থী চিত্রাংকন ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিয়োগীতায় অংশ গ্রহন করে। এদের মধ্য থেকে ৯০জন শিক্ষার্থীকে এ অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।