কুমিল্লা কোটবাড়ী জঙ্গী আস্তানায় জঙ্গী নেই, আছে শুধু বিষ্ফোরক

বশিরুল ইসলাম: 
কুমিল্লা কোটবাড়ী গন্ধমতি জঙ্গী আস্তানায় জঙ্গী নেই আছে শুধু বিষ্ফোরক। আস্তানার তিনতলা ভবনে জঙ্গী সন্দেহে গত তিনদিন ধরে ঘিরে রাখা হয়েছিল। আনা হয়েছিল সোয়াট, র‌্যাব, ক্রাইম সিন, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
শুক্রবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলের পাশের ২ কি:মি: এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এলাকার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির  সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। 
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহা. শফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের নিকট তথ্য ছিল ওই কক্ষে নোয়াখালীর আানিস প্রকাশ আনাস (২) এব রাজশাহীর রনি(২২) অবস্থান করছে। কিন্তু গত বুধবার দুপুরে র‌্যাব-পুলিশ ওই ভবন ঘিরে ফেলার আগেই হয়তো জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। তাই তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। ওই কক্ষে চারটি গ্রেনেড , পাঁচ কেজি ওজনের দুটি বোমা এবং দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ওই কক্ষে প্রচুর গ্যাস থাকায় গুলি উদ্ধার কিংবা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকালে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এসব বোমা ও গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করবেন। 
এর আগে শুক্রবার সকালে সোয়াট, র‌্যাব, ক্রাইমসিন ইউনিট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্য, পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে পৌছে জঙ্গীদের অচেতন করার জন্য পাইপের মাধ্যমে কক্ষে গ্যাস প্রবেশ করান এবং কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও প্রায় ১০০ রাউন্ড ফাকা গুলি করেন। 
পুলিশ সুপার শাহ মো: আবিদ হোসেন জানান, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে যে ভবনটি ঘিরে রাখা হয়েছিল সেটির ভেতর কোনো জঙ্গি পাওয়া যায়নি। তবে অনেক বিষ্ফোরক ও বোমা পাওয়া গিয়েছে। বোমা ডিসপোজাল ইউনিট এসব উদ্ধার কিংবা ধ্বংস করার পরই পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হবে। 
উল্লেখ্য এক জঙ্গির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার দুপুরে জঙ্গিদের অবস্থান সন্দেহে জেলার সদর দক্ষিণ থানার বাগমারা এলাকার গন্ধমতি নামক স্থানে তিন তলা বাড়ীর একটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে ওই বাড়ীর সকল ভাড়াটিয়াদের বের করে এনে বাড়ীটি নিয়ন্ত্রণে নেয় র‌্যাব-পুলিশ। আনা হয় সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। কিন্তু তিন দিনের অভিযান শেষে পাওয়া যায়নি কোন জঙ্গী। সিটি নির্বাচনের কারণে বৃহস্পতিবার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছিল। 

No comments:

Post a Comment