চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য চলে আসতে পারেন কুমেক হাসপাতালে।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য হেল্প ডেক্স ও আর্থালজিয়া ক্লিনিক খোলা হয়েছে। কুমিল্লা তথা বৃহত্তর কুমিল্লা  (নোয়াখালী, ফেণী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া) সহ আশে পাশের সকলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে পারেন। হাসপাতালের পরিচালক 
ডা. স্বপন কুমার অধিকারী জানিয়েছেন হাসপাতালে যদি কেউ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয় তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ডাক্তার ও নার্স নির্ধারিত রয়েছে। তাদের যা যা পরামর্শ ও তদারকি করা দরকার সব কিছু ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আমি হাসপাতালের সকল প্রকার কাজের তদারকি ভাল ভাবে করছি কোথায়ও কেউ কাজে ফাঁকি যেন দিতে না পারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত ও সেবার মান বৃদ্ধি পেলে সকলের আত্মা দোয়া করবে এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। 

দু'ধারে বাঁশ বাগান, মাঝ পথে হাটি। গুনগুন গান করে, লক্ষী কালো বেটি। দু'জনার মন ভরে, সেই ... সুখের পীরিতি


অভাগা যেদিকে যায় নদী শুকায়ে যায়।

বশিরুল ইসলাম:
যখন ছোট ছিলাম তখন দাদী নানীদের মুখে শুনেছি অভাগা যেদিকে যায় নদীও শুকিয়ে যায় ঠিক সেই দৃশ্যটি আজ এই ভিডিওটি দেখলে বুঝা যায়। এ পৃথিবীটা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের জন্য আনন্দ উল্লাসের বড়ই উপযোগী জায়গা। আর, গরীবদের জন্য হলো প্রতিনিয়ত শোষিত, লাঞ্চিত ও অপদস্থ হওয়ার স্থান । অসহায় গরীবের হৃদয়ের আকুতি শুনার মত মানুষ এ সংসারে নেই বললেই চলে। সারাদিন হাড় ঘামানো পরিশ্রম করে তিন বেলা অন্ন ও লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য সমান্য বস্ত্রের জোগাড় করা তাদের কাছে বড়ই দুঃসাধ্য ব্যপার। আর, ধনীরা অর্থ প্রাচুর্যের মোহে এ সব মানুষ গুলোকে মানুষ মানতেও নারাজ, ধনীদের কাছে এসব অসহায় গরীব লোকগুলো হল নর্দমার কিট অপেক্ষায় আরো নগন্য। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এ জগত সংসার শুধু ধনী ব্যক্তিদেরই জন্য ... গরীবদের এখানে কোন .......।  মনের খেয়াল পূরনের জন্য এখানে দেশ বিদেশ ভ্রমন করে ধনীরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে.. আর স্বপ্ন পূরনতো দূরের কথা এখানে গরীবদের পেটের জ্বালা একবারের জন্যও নিবারণ করা অনেক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। বাহ্ একি আজব কারবার? বড়ই আজব এ জগত সংসার....। ভিডিওটি সংগৃহিত।

চান্দিনায় জাল সার্টিফিকেটে নিয়োগে উচ্চ আদালতে মামলা।

বশিরুল ইসলাম:
চান্দিনা উপজেলার
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের কারণে দৈনিক ডাক প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি শরিফ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন চান্দিনা উপজেলায় দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকটি অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা হয়েছে। এ বিষয়ে পূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার অভিযোগের তদন্ত করার দায়িত্ব ছিল, এখন আর তাদের তদন্ত করা দায়িত্ব নেই বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি ) হিসেবে আমি বিষয়টি তদন্ত করব, আমার উপর দায়িত্ব পরেছে।  
এদিকে নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করে চান্দিনা উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের নাটিঙ্গী গ্রামের মূর্তজ আলীর ছেলে এমরান হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার সহ আরো তিনজনকে আসামী করে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে। অভিযোগে তিনি নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে চান্দিনা উপজেলায় দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করেন। 
চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে জানা যায়,  জাল সনদ, ভূয়া জন্ম নিবন্ধন, ভূয়া নাগরিকত্ব সনদ, বিবাহ বয়সের তথ্য গোপন করে  চাকুরীতে আবেদনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে উপজেলা কার্যালয়ে। ওই সব অভিযোগের পরেও গত ১২ জুলাই উপজেলা কার্যালয়ে ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০জনকে সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। স্থানীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ঘুষ বাণিজ্য আর নানা স্বেচ্চারিতার। অশিক্ষিত আর ভূয়া সার্টিফিকেট যাচাই বাছাই ছাড়া এই নিয়োগ অনুষ্ঠিত হওয়ার একাধিক অভিযোগও রয়েছে। চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের হাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে জাল সনদের মাধ্যমে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগে অভিযোগ উঠায় গত ২৫ জুলাই দৈনিক ডাক প্রতিদিন ও অনলাইন পত্রিকা গুলোতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। 
এব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়নের নাটিঙ্গী গ্রামের মুর্তজ আলীর ছেলে এমরান নামে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে মামলা করেছে । যেহেতু উচ্চ আদালতের বিষয় এজন্য সব কিছু আপনাদেরকে জানানো যাবে না।  
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকারিয়া জানান, উচ্চ আদালতে মামলা করা হয়েছে মর্মে একটি আদালতের কপি হাতে পেয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে মার্ক করে বিষয়টি দেখার জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। 

কুমিল্লায় ২০১টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি, আগামী ৭দিনের মধ্যে জবাবের নির্দেশ ।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা শিক্ষা বোডের অধীনে পরিচালিত ২০১টি প্রতিষ্ঠানকে
চিঠি পাঠিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। আগামী ৭দিনের মধ্যে ফলাফল বিপর্যের কারণ ও আগামীতে করণীয় কি উল্লেখ পূর্বক চিঠির জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কুমিল্লা জেলার ৮৯টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ২৩টি, লক্ষ্মীপুর জেলার ১৭টি, চাঁদপুর জেলার ২৬টি, ফেনী জেলার ২২টি এবং নোয়াখালী জেলার ২৪টি।খারাপ ফলের কারণে শিক্ষাসহ চাকরি ক্ষেত্রে কুমিল্লা পিছিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষাবিদরা। কুমিল্লায় ফল বিপর্যয়ের জন্য বোর্ড কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ফলাফল খারাপ হওয়াকে কারণ হিসেবে দেখছেন। 
এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত রোববার ফল প্রকাশের সময় কুমিল্লা বোর্ডের ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছিলেন।
কুমিল্লার নামি প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, “প্রশ্ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি কড়াকড়ি হওয়ার কারণেও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল বির্পযয় ঘটেছে। ফলাফল বিপর্যয়ের কয়েকটির মধ্যে একটি কারণ ইংরেজি বিষয়ে ভালো শিক্ষক না থাকা ।” কুমিল্লায় এবার ইংরেজিতে পাসের হার ৬২ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর গণিতে পাস করেছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী।  কুমিল্লায় সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে মানবিক বিভাগে। বিজ্ঞানে ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৪৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করলেও মানবিকে এই হার ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এই বোর্ডে ফেল করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু ইংরেজিতে ফেল করেছে ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার ইংরেজিতে ফেলের সংখ্যা ২১ দশমিক ৪৮ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, কুমিল্লায় পাসের হার কোনোভাবেই ৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশের নিচে আসেনি। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৬১ দশমিক ২৯ শতাংশ। পরের বছর ২০১৪ সালে পাস করে ৭০ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ৪৯ শতাংশে।
উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে বের করতে একটি তদন্ত কমিটি করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার এক সভায় কমিটি গঠনের পাশাপাশি যেসব কলেজের ফল খারাপ হয়েছে, তাদের কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত ও হয়েছে বলে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ জানিয়েছেন। 
এবার এইচএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। সব বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার প্রায় ৬৯ শতাংশ। গত বছর কুমিল্লায় পাসের হার ছিল ৬৪ শতাংশ। 
কুমিল্লা বোর্ডের ছয় জেলার ৩৩৬টি কলেজ থেকে মোট ১ লাখ ৩৭২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছিল, তাদের মধ্যে পাস করেছে ৪৯ হাজার ৭০৪ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা  ছিল ১৯১২। এবছর জিপিএ-৫ কমে হয়েছে ৬৭৮ জন।
প্রধান মন্ত্রীর তাগিদের দুই দিনের মধ্যে গত মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা বোর্ডের বৈঠক হয়। এতে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল খালেকসহ সব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক জামাল নাসেরকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন উপ-পরিদর্শক বিজন কুমার চক্রবর্তী এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, “ফল বিপর্যয়ের কারণ ও আগামীতে কী করণীয় নির্ধারণ করতে খারাপ ফলাফলকারী কলেজগুলোকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

চান্দিনায় জাল সার্টিফিকেটে নিয়োগে উচ্চ আদালতে মামলা।

বশিরুল ইসলাম:

চান্দিনা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের কারণে দৈনিক ডাক প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি শরিফ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন চান্দিনা উপজেলায় দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকটি অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা হয়েছে। এ বিষয়ে পূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার অভিযোগের তদন্ত করার দায়িত্ব ছিল, এখন আর তাদের তদন্ত করা দায়িত্ব নেই বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি ) হিসেবে আমি বিষয়টি তদন্ত করব, আমার উপর দায়িত্ব পরেছে।  

এদিকে নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করে চান্দিনা উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের নাটিঙ্গী গ্রামের মূর্তজ আলীর ছেলে এমরান হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার সহ আরো তিনজনকে আসামী করে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে। অভিযোগে তিনি নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে চান্দিনা উপজেলায় দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করেন। 
চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে জানা যায়,  জাল সনদ, ভূয়া জন্ম নিবন্ধন, ভূয়া নাগরিকত্ব সনদ, বিবাহ বয়সের তথ্য গোপন করে  চাকুরীতে আবেদনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে উপজেলা কার্যালয়ে। ওই সব অভিযোগের পরেও গত ১২ জুলাই উপজেলা কার্যালয়ে ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০জনকে সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। স্থানীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ঘুষ বাণিজ্য আর নানা স্বেচ্চারিতার। অশিক্ষিত আর ভূয়া সার্টিফিকেট যাচাই বাছাই ছাড়া এই নিয়োগ অনুষ্ঠিত হওয়ার একাধিক অভিযোগও রয়েছে। চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের হাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে জাল সনদের মাধ্যমে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগে অভিযোগ উঠায় গত ২৫ জুলাই দৈনিক ডাক প্রতিদিন ও অনলাইন পত্রিকা গুলোতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। 
এব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি শুনেছি। হাতে এখন ও কোন কাগজ পায়নি। কিছুক্ষন পূর্বে জানতে পেরেছি ইউএনও স্যারের নিকট আদালতের কপি এসেছে, স্যার আমার কাছে পাঠিয়েছে কিন্তু আমি অফিসে নেই অফিসে যাচ্ছি আধা ঘন্টার মধ্যে আপনাকে সকল তথ্য দেওয়া হবে। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকারিয়া জানান, উচ্চ আদালতে মামলা করা হয়েছে মর্মে একটি আদালতের কপি হাতে পেয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে মার্ক করে বিষয়টি দেখার জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। 

চান্দিনায় ভূয়া সনদে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের অভিযোগ।

বশিরুল ইসলাম:
চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের হাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে জাল সনদের মাধ্যমে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। গত ১২ জুলাই চান্দিনা উপজেলায় দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৩০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩০জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।  ঐ পরীক্ষায় অস্টম শ্রেণী পাশের ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে হাসিম পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আবেদন করে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নির্বাচিত হয়েছে মর্মে জেলা প্রশাসক বরাবর গত ১৮ জুলাই একটি আবেদন পত্র জমা হয়েছে।   
                       
              স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায, দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে আবেদন আহ্বান করা হলে ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে  একাধিক আবেদনপত্র জমা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১২ জুলাই চান্দিনা উপজেলা কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে  ৩০জন ১ম স্থান অধিকারী প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।  নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে অভিযোগ উঠেছে হাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে। সে কোন স্কুলে লেখা পড়া করে নাই। তার গ্রামের  বাড়ী দাউদকান্দি। সে ছোট থেকে মামার বাড়ীতে থেকে কৃষি ও অন্যান্য কাজ করে আসছে। বর্তমানে সে ডেকোরেশনের কাজ করে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ভালভাবে তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবী এলাকাবাসীর । 
                                        
             নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল মমিন নামে স্থানীয় এক মুরুব্বী জানান, শরিফুল ইসলাম স্থানীয় এক মেম্বারের আত্মীয়। সে লেখাপড়া করে নাই । সে মেম্বারের সহযোগীতায় কোথায় থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছে তা জানিনা তবে আমি তাকে ছোট থেকে দেখে আসছি সে কোন স্কুলে লেখা পড়া করে নাই । উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করবে দূরের কথা সে তো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও লেখাপড়া  করে নাই। 
                                           
           এব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল আল মামুন জানান, আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচিত করেছি। যদি কাহারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ সহ সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তাকে বাদ দিয়ে যার কাগজপত্র সঠিক পাওয়া যাবে তাকে নেওয়া হবে। তাছাড়া আমাদের উপজেলায় যে সকল বিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে সে সকল বিদ্যালয় আসলে সার্টিফিকেট দিয়েছে কিনা তা যাচাই বাছাই করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলোকে প্রত্যয়ন পত্র দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
                                                  
               
 এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম জাকারিয়া জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচিত করেছি। যদি কাহারো বিরুদ্ধে তথ্য গোপন বা সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগ পাই এবং এর সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে ২য় জনকে নিব, যদি ২য় জনের কাগজ পত্র সঠিক পাওয়া না যায় তাহলে তৃতীয় জনকে নেব।

শিক্ষার্থীরা ফল কেন খারাপ করে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন নিউজ: 
আজ উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবছর  ফলাফল খারাপ হয়েছে।  আজ রবিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় ফল কেন খারাপ হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেন মন্ত্রী।  শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গতবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এবারের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবার ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘এবার পাস কম করায় আমরা বিস্মিত হইনি। পরীক্ষার খাতা ভালোভাবে মূল্যায়ন করার কারণেই এ ফল হয়েছে। গত মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায়ও একই ঘটনা ঘটেছিল। এসএসসিতে গতবারের চেয়ে এবছর ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে। সে ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে এইচএসসিতে কম খারাপ হয়েছে; বরং এটা সাফল্য।’
‘আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি, যার অধীনে পরীক্ষার খাতাগুলো বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। এখানে ঢালাওভাবে খাতা মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। প্রথমে আমরা প্রধান পরীক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। পরে তিনি অন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। খাতা দেখার বিশেষ মূল্যায়নের কারণেই ফলের এই পার্থক্য হচ্ছে। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই, এটা আমাদের সাফল্য। ভবিষ্যতে এটা ধীরে ধীরে একটা স্থির অবস্থায় এসে পড়বে।’  শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘খাতা দেখার এই পদ্ধতিতে সবাই একমত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমও এ ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করেছে।’  এবার ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো করেছে। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এবার ২ দশমিক ৮২ ভাগ বেশি পাস করেছে।
মাদ্রাসা, কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় আট হাজার ৮৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৯৪২ জন। এবার মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ জন। গতবারের চেয়ে এবার  প্রায় ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

ফেসবুকে বাজে বাজে মন্তব্য করবেন না-জাফরুল্লাহ শরাফত

তাহসান-মিথিলা ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন গত বৃহস্পতিবার। এ নিয়ে অনেকেই ফেসবুকে লিখেছেন। জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার জাফরুল্লাহ শরাফত চৌধুরীও এ নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন। শনিবার দুপুরে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন-
‘আমি খেলার জগতের মানুষ, গানের জগতের নই। তাহসান-মিথিলাকে নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আমাদের। শিক্ষক ও ব্র্যাড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আমি তাহসানকে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিতে নিয়ে আসি। ওকে আমি অনেক পছন্দ করি কারণ ও অনেক ভালো ছেলে, ভালো মানুষ। ওর সব ক্ষেত্রেই চাহিদা কম। ও আমাদের দেশের সম্পদ। ভালো শিক্ষক, ভালো গায়কা, ও নাটক করেও অনেক জনপ্রিয়।
দয়া করে তাহসান- মিথিলাকে নিয়ে ফেসবুকে বাজে বাজে মন্তব্য করবেন না। যারা করবেন আমার ফেসবুক বন্ধু যদি কেউ হয়ে থাকেন তাকে বাদ দেয়ার অধিকার আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। মিথিলার ছবি ব্যবহার করে কোনো বাজে মন্তব্য করবেন না। কারণ মিথিলাকে অসম্মান করে তাহসান কোনো কথা বলেনি। 
তাহসান আমার জানা মতে গানের জগতে অনেক ব্যবসা এনে দিয়েছে। নাটকেও। পথিক পথ চলতে গিয়ে হোঁচট খায়। ধূলা-বালি লাগে। ধূলাবালি আবার পড়ে যায়। দয়া করে ওদেরকে শান্তিতে থাকতে দ্যান।
তাহসান আমাদের কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক। ও অনেকের প্রিয় শিক্ষক। ওর থেকে অনেক শিক্ষা নেয়ার আছে। আশা করি, ওরা ওদের ভক্ত-অনুসারীদের একটা ভালো সংবাদ দেবে। অন্তত বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে।
শুভকামনা রইল তাহসানের জন্য। মিথিলার জন্যও শুভকামনা। ভালো থাকো, ভালো করো, এগিয়ে যাও। 

কুমিল্লায় বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে আরো একজনের মৃত্যু।

বশিরুল ইসলাম: 
কুমিল্লায় বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে আরো এক জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার (২২ জুলাই) সকাল ৭টায় বাঁশ কাটতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। গত তিন দিনে কুমিল্লাতে মোট বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে তিন জনের মৃত্যু হলো। নিহত ব্যক্তি কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বাজগড্ডা গ্রামের মৃত বশত আলীর ছেলে তোরব আলী (৫০)। 
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তোরব আলী ৫ কন্যা সন্তানের জনক। সে দিন মজুরের কাজ করে। ঐ দিন সকালে অন্যের বাঁশ ঝারে বাঁশ কাটতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। তার স্ত্রী ৬ মাসের অন্ত: সত্ত্বা। বাঁশ ঝাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের তারটি পরে ছিল। স্থানীয়রা কেউ বাঁশ কাটতে না যাওয়ায় সে সাহস করে বাঁশ কাটতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। এই অবস্থায় পরিবারটি দেখা শোনার আর কেউ নেই । 
উল্লেখ্য গত ১৯ জুলাই হোমনায় বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে স্বামী স্ত্রীর এক সাথে মৃত্যুর ঘটনার তিন দিনের মাথায় আবারো এই ঘটনা ঘটলো। সাধারণ লোকজনের দাবী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের খামখেয়ালীর কারণে এই ধরণের ঘটনা গুলো ঘটছে। তারা শুধু ধান্ধার সুযোগে থাকে। সাধারন মানুষের ক্ষতি হতে পারে এমন কোন কাজ সম্পন্ন করতে তারা প্রস্তুত না । তাদেরকে টাকা দিলে কাজ হয় নয়তো হয়না। 


২০ বছর রিকসা চালান মুরাদনগরের জেসমিন আক্তার

জেসমনি আক্তার। নারী রিকশাচালক। বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদগনর উপজলোর বামুটিয়া গ্রামে। বিয়ে করেছেন চান্দিনা উপজেলা মো: হারুন মিয়া রিকসা চালককে।  রিকসা চালান দেশের দ্বিতীয় রাজধানী চট্টগ্রামে। গত মঙ্গলবার দুপুরে জেসমিন আক্তারকে রিকশা চালানো অবস্থায় দেখা মিলে এ প্র
তিবেদকের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পৌর এলাকার সড়ক বাজার এলাকায়। সেখানে মাজারে  ওরস দেখতে এসে পরচিতিজনদের অনুরোধে রিকশা চালিয়ে তাক লাগিয়ে দেন স্থানীয়দের। 

ওই নারী এ প্রতবিদককে জানালেন, তিনি প্রায়  ২০ বছর ধরে রকিশা চালান। রিকশা চালক (পরবর্তীতে প্রবাসী) স্বামীর সঙ্গে রাগ করইে কিনা এ পেশাতে তার আসা। তিনি রিকশা চালান চট্টগ্রামে। নিজের আয়ে কেনা চারটি রিকশার তিনটি তিনি ভাড়া দিয়ে রেখেছেন।

জেসমিন  আক্তার আরো জানান, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা রিকশা চালক মো: হারুনুর রশিদের সাথে বিয়ের পর তিন সন্তানকে রেখে স্বামী প্রবাসে চলে যান। যাওয়ার সময় বাবার বাড়ি সহ  বিভিন্নি জায়গা থেকে ধার করে স্বামীকে এক লাখ টাকাদেন। কিন্তু  প্রবাসে গিয়ে স্বামী জানিয়ে দেয় তিনি আর জেসমিন  আক্তারের সঙ্গে সংসার করতে চান না। ‘স্বামী বিদেশ গিয়া কয় আমি আর অহন রিকশা ডাইবার না। বিদেশে থাহি। মাল ঢাহা কামাই। ঘর করব না কইয়া একটা ক্যাসেটে রেকর্ড পাডায়। এরপর থেইক্কা তাইনের সাথে যোগাযোগ নাই।

কুমেক হাসপাতালে ৮মাসের আন্তসত্ত্বা রোগীর রহস্যজনক মৃত্যু।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছালেহা বেগম (১৯)  নামে  ৮ মাসের অন্ত:সত্ত্বা রোগীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সে আদর্শ সদর উপজেলার ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দৌলতপুর গ্রামের শাহ জাহান মিয়ার ৪র্থ মেয়ে। ৯ মাস পূর্বে  সামাজিক ভাবে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিল একই ইউনিয়নের বিবির বাজার এলাকার অরণ্যপুর গ্রামের মো: আজাদ মিয়ার সাথে। ছালেহার প্রসব বেদনা দেখা দিলে গত ১৫ জুলাই কুমেক হাসপা
তালে গাইনী ওয়ার্ডে ডা. করুনা রানী কর্মকারের অধীনে  ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে ছালেহাকে ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী সকল প্রকার পরিক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। মৃত্যুর ১০ মিনিট পূর্বে ও ছালেহার স্বজনরা তার সাথে কথা বলে। কিন্তু হঠাৎ করে মুখে ফেনা এসে মৃত্যু হয় ছালেহার। ছালেহার মৃত্যুতে স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে স্বজনদের আহাজারীতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠলে সাংবাদিক আনোয়ারের পরিবেশ শান্ত করে বলেন, এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এখানে কোন রকম বিশৃংখলা করা ঠিক হবেনা। তাই আপনারা শান্ত হয়ে আজ বাড়ীতে চলে যান আগামীকাল অফিস খোলা হবে আপনারা সঠিক বিচার চেয়ে আবেদন করলে সঠিক বিচার পাবেন। 
এব্যাপারে ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রোগীর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাধার কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তারপরেও ময়নাতদন্ত না করা পর্যন্ত সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। রোগী আট মাসের আন্তসত্ত্বা এবং তার পেটে দুই বাচ্চা আছে। তিনি আরো জানান, মৃত্যুর ২/৩ ঘন্টা আগেও মেডিসিন ডাক্তার ঐ রোগীটি এসে দেখে গিয়েছে  পাশাপাশি আমরা সব সময় রোগীটি অবজারবেশনে রাখছি। 

কুমিল্লা বিভাগ হবে ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই নামে................মোস্তফা কামাল

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, বিশেষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে জানান :
 বহুল আলোচিত কুমিল্লা বিভাগের নাম ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই-এ তিনটির যেকোন একটি হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্থানীয় সময় ১৯ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় জাতি
সংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ পরবর্তী এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ হয়ে গেছে। নামকরণের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোন সময় এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
“দারিদ্র্য নির্মূল এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক জাতিসংঘের ‘হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম (এইচএলপিএফ)’ এর কার্যক্রম গত ১০ জুলাই থেকে শুরু হয়ে  শেষ হয় ১৯ জুলাই। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ সম্মেলনে যোগ দেয়। সম্মেলনে যোগদানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই মূলত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূর এলাহী মিনার সঞ্চালনায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারি আবুল কালাম আজাদ, স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এইচএলপিএফ এর মূল অংশ ছিল ‘ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ’ বা ভিএনআর সেগমেন্ট। ১৭-১৯ জুলাই পর্যন্ত মন্ত্রী পর্যায়ের এই সিগমেন্টে স্বপ্রনোদিতভাবে বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের ৪৪টি সদস্য রাষ্ট্র স্ব স্ব দেশের এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। বাংলাদেশ এ রিপোর্ট উপস্থাপন করে ১৭ জুলাই অপরাহ্ণে ভিএনআর-এর ৩নং সিগমেন্টে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৫ সালে এমডিজি বাস্তবায়ন শেষে জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জন্য এসডিজি প্রণয়ন করে। এমডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমডিজি বাস্তবায়নে তাঁর সরকারের সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘জাতিসংঘ এমডিজি অ্যাওয়ার্ড’সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এমডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই বাংলাদেশ সরকার এসডিজি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্টভাবে এবং লক্ষ্য স্থির করে কাজ শুরু করে। সরকার এসডিজি’র সফল বাস্তবায়নের লক্ষে একজন “এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী” নিয়োগ দিয়েছে যা বিশ্বের অনেক দেশেই নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসডিজি গ্রহণের পর গত দেড় বছরে বাংলাদেশ এর বাস্তবায়নে কতটা সফলতার সাথে এগিয়ে চলছে, এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জসমূহ কী এবং এসকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলসমূহ কী তা নিয়ে বিস্তারিতভাবে বাংলাদেশ স্বপ্রনোদিতভাবে একটি জাতীয় রিপোর্ট প্রণয়ন করে যা এইচএলপিএফ-এর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিসগমেন্ট ভিএনআর-এ উপস্থাপন করা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভিএনআর সিগমেন্টে নেতৃত্ব দেন। “ইরাডিকেটিং প্রোভার্টি এন্ড প্রমোটিং প্রোসপারিটি ইন এ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড  শিরোনামে এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক বাংলাদেশের এই জাতীয় রির্পোট উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নের মুখ্য সমন্বয়কারী মো: আবুল কালাম আজাদ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এই রির্পোট উপস্থাপন করা হয়। এসডিজি’র ১৭টি অভীষ্টের মধ্যে বাংলাদেশের রিপোর্টটিতে ৭টি অভীষ্ট যথা: দারিদ্র্য নির্মূল (অভীষ্ট-১), ক্ষুধামুক্তি (অভীষ্ট-২), সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ (অভীষ্ট-৩), লিঙ্গ সমতা (অভীষ্ট-৫), শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো (অভীষ্ট-৯), জলজ জীবন (অভীষ্ট-১৪) ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব (অভীষ্ট-১৭)- বাস্তবায়নের অগ্রগতি উল্লেখ করা হয়। এসডিজিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে উল্লেখ করে এর বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত বিভিন্ন কৌশল যেমন- সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসডিজিকে সন্নিবেশিত করা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে এসডিজিকে অন্তর্ভুক্ত করা, এসডিজি ট্রাকার সৃষ্টি, আন্ত:মন্ত্রণালয় এসডিজি বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন, মন্ত্রণালয়ের ম্যাপিং এবং ডেটাগ্যাপ এনালাইসিস এর মতো বিষয় গুলোও এখানে তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, ভিএনআর প্রেজেন্টেশনে দেশের উন্নয়নের পরিমাপক হিসেবে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রদর্শন করা হয়। এখানে দেখানো হয় উচ্চ ও নি¤œ দারিদ্র্য রেখা যথাক্রমে ২৪.০৩% ও ১২.০৯% ভাগে নেমে এসেছে, যা ১৯৯১ সালে ছিল যথাক্রমে ৫৬.০৭% ও ৪১.০১%। প্রধানমন্ত্রীর প্রাধিকার প্রকল্প একটি বাড়ি একটি খামারের পাশাপাশি উঠে আসে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণ, ডিজিটাল ফিনানসিয়াল সার্ভিস এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা প্রদানের লক্ষে গৃহীত বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি গুলো। পদ্মা সেতুসহ মেগা অবকাঠামো প্রকল্পসমূহও এ রিপোর্টে স্থান পায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫টি ভিশন, যথা: ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, ২০৩০ সালে এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের মহাসড়কে উপনীত হওয়া, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়া, ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তিতে বাংলাদেশকে উন্নয়নের বিস্ময়ে পরিণত করা এবং ২১০০ সালে ডেল্্টা প্লান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিরাপদ ব-দ্বীপ হিসেবে গড়ে তোলা। 
মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফাকামাল বলেন, বাংলাদেশ থেকে আগে অর্থ পাচারের সুযোগ থাকলেও, এখন আর তেমন বেআইনী পথে যাবার প্রয়োজন হবে না। বৈধভাবে উপার্জিত অর্থ পাচারের কোন প্রয়োজন হবে না। ইচ্ছা করলেই যে কোন দেশে যে কোন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা যাবে। বিদেশীরা যেমনিভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছেন, একই সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশীদের জন্যেও। মন্ত্রী বলেন, ব্যাংক থেকে বিপুল অংকের ঋণ নিয়ে যারা প্রতারণা করেছেন, তাদের বিচার চলছে। কেউই রেহাই পাবে না দুর্নীতি করে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ১০ দিনব্যাপী এইচএলপিএফ এর এই অধিবেশনের সার্বিক সমন্বয় করেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের সাথে আরও অংশ নেন পরিকল্পনা কমিশনের জেনারেল ইকোনোমিকস ডিভিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম ও পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল করিম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জিআইইউ এর মহাপরিচালক আবদুল হালিম।
রিপোর্ট : সাখাওয়াত হোসেন সেলিম
সম্পাদক, ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম
নিউইয়র্ক, ফোন : ১-৬৪৬-২৪৪-৯৯২৯।

কুমেক হাসপাতালের পরিবেশ আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক উন্নত হচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে হাসপাতালের বাহির ও ভিতরের দৃশ্য। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ফ্লোর, সিড়ি, সামনের রাস্তা , ড্রেন ও হাসপাতালের আঙ্গিনা সব কিছুতেই পরিবর্তন। হাসপাতালে আগের মত কোন দুর্গন্ধ নেই। রোগী ও রোগীর স্বজনরা এখন হাসপাতালে অবস্থান করে সন্তুষ্ট।  অনেক আগে এই হাসপাতালে এসেছিলাম কিন্তু এতো সুন্দর পরিবেশ আর ডাক্তার,
নার্স, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর আচরণ পায়নি এখন কয়েক দিন হয় হাসপাতালের সকলের আচরণে আমরা সন্তুষ্ট। তারা এখন আমাদের সাথে অনেকটা স্বজনের মত আচরণ করছে। গতকাল ১৮ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১০টায় হাসপাতালে প্রবেশ করে ক্যাজুলিটি, বার্ণ ও প্লাস্টিক ওয়ার্ডে কোতয়ালী থানার কমলাপুর গ্রামের রুহুল আমিন নামের রোগীর কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
সরেজমিনে ক্যাজুলিটি ওয়ার্ডে প্রবেশ করে দেখা যায় সেখানে ওয়ার্ড মাস্টার আকতার হোসেনের নেতৃত্বে সেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহানারা আক্তার শানু ও ওয়ার্ড মাস্টার মো: ইলিয়াছ মিয়া, জরুরী বিভাগের ইনচার্জ দুলাল চন্দ্র সূত্রধরের উপস্থিতিতে জরুরী বিভাগের  নার্সিং স্টাফ ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা স্ব স্ব কাজে ব্যস্ত। হাসপাতালের এ দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে টাইলস সহ অন্যান্য সব কিছুই যেন নতুনের মত। রোগীদের বিছানার চাদর, বিছনার নিচে ময়লা রাখার গামলাটি যেন একদম নতুনের মত। এই দৃশ্য পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে ওয়ার্ড মাস্টার আকতার হোসেনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, অত্র হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী ও সহকারী পরিচালক ডা. ফরিদুল আলম মহোদয়ের জোড়ালো নির্দেশে আমরা হাসপাতালের সকল স্টাফ হাসপাতালের ভাবমূর্তি উন্নয়নে এবং রোগীদের উন্নত সেবা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেনীর জনবল সংকট রয়েছে তার পরেও আমরা সরকার ও হাসপাতালের ভাবমূর্তি উন্নয়নে স্বল্প জনবল দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচিছ। আমাদের হাসপাতালের তিনজন ওয়ার্ড মাস্টারকে পরিচালক মহোদয় কাজে গতি আনার জন্য গত ১৬ জুলাই কাজ বন্টন করে দেন। তাই আমরা প্রত্যেকে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। 

বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে হোমনায় স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে স্বামী স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  বিদ্যুৎ পৃষ্টে নিহতরা হল- শ্রীপুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে মো.মজিবুর রহমান (৪৮) ও তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৩৭)। গতকাল বুধবার বিকাল ৪ টার দিকে ওই গ্রামে শান্তি পাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, তিনি (নিহত মজিবুর) বুধবার বিকেলে মাছ শিকারের উদ্দেশে বাড়ির কাছে সড়কের ধারে পল্লী বিদ্যুতের একটি সিমেন্টের খুঁটি ঘেষে চাই বা আন্তা পাততে গিয়ে ওই খুঁটিতে লেগে বিদ্যুৎ পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎ পৃষ্ট হন তার স্ত্রী রাজিয়া। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। নিহত ওই পরিবারের ৩ বছরের একটি ছেলে ও ৭ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। অবুঝ শিশু দুটির কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন পাড়া প্রতিবেশীরা । নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে খবর পেয়ে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। 
শ্রীপুর গ্রামের ১নংওয়ার্ড  মেম্বার নজরুল ইসলাম বলেন , মজিবুর তার ঘরের কাছে একটি জমিতে চাই পাততে যান । ওই জমিতে পুরনো খুটির পাশে নতুন খুটিতে বিদ্যুতের লাইটটি সরানো হলেও পুরনো খুটিতে একটি তার ঝুলানো ছিল । সম্ভবত সেই তারের মাধ্যমে বিদ্যুতায়িত হয়ে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে ।
এ ব্যাপারে হোমনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আক্তার হোসেন জানান, বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে লোকও পাঠানো হয়েছে। সিমেন্টের খুঁটি বিদ্যুতায়িত হওয়ার কথা নয়। তারা মাছ ধরতে গিয়ে অসাবধনতাবশত বিদ্যুতের তার স্পর্শ করায় এ ঘটনা ঘটেছে কিনা বলা যাচ্ছে না। তবে এ মর্মান্তিক ঘটনায় একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
হোমনা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রসুল আহমদ নিজামী বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে দুই জনের মৃত্যুর  সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে কুমেক ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে। 

অবশেষে ভাগ্যের চাকা ঘুরছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফারুকের।

বশিরুল ইসলাম:
অবশেষে ভাগ্যের চাকা ঘুরছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফারুকের। হাজারো দুর্দশা, অভাব অভিযোগের টানা পোড়েনে থাকা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের অসহায়ত্বের অবসান ঘটছে । আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর শহীদ, যোদ্ধাহত ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও তাদের সন্তানদের নানাভাবে সহযোগীতা করছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চাকুরীতে কোঠা পদ্ধতি চালু করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। যুদ্ধের পর
দেবিদ্বার মোহনপুর এলাকা থেকে চান্দিনা গল্লাই ইউনিয়নের মিরাখলা গ্রামে রেজিয়া নামীয় মহিলাকে বিয়ে করে কবরস্থানের উপর বসবাস করতে থাকে মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের । পরে অনেক কষ্টে সামান্য জায়গা ক্রয় করে সেখানে বসবাস শুরু করে।  অভাব অনটনের পরিবারে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করে অর্থাভাবে অবশেষে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।  তাকে জাতীয় ভাবে সমাহিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে তার স্ত্রী রেজিয়া কোন রকম সংসার চালাতে থাকেন। অবশেষে তার ছেলে ফারুক গত ১২জুলাই মিরাখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে নির্বাচিত হওয়ায় পরিবারটি অনেক খুশি। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফারুক জানান, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। সরকার মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হিসেবে আমাদেরকে মূল্যায়ন করছে। আজ আমার বাবা জীবিত নেই তিনি থাকলে আরো বেশি খুশি হতেন। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হিসেবে আমি অনেক খুশি মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের পরিবারদের সরকার অনেক মূল্যায়ন করছে। আমি মনে করি আমার বাবা শুধু চান্দিনা আর দেবিদ্বারের নয় সারা দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধা। 

চাচীর সাথে ভাতিজার অবৈধ সম্পর্ক ধামা চাপার অভিযোগ।

বশিরুল ইসলাম:
বুড়িচং উপজেলার কোরপাই এলাকায় বিএনপি নেতার ছেলের অবৈধ সম্পর্ককে জোর পূর্বক ধামা চাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই উপজেলার কোরপাই এলাকার নয়াবড়ী এলাকার গত দুই বছর পূর্বে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে চাচি ও ভাতিজা। এরই মধ্যে দুই বার বাচ্চা নষ্টের ও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। 
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোরপাই এলাকার চাচী ও ভাতিজার সম্পর্ক নিয়ে অনেক গুঞ্জন হয়। ভাতিজা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার লোকজন কিছু বল্লে উল্টো হুমকি ধমকি দেওয়া হতো। পরে দুই বার বাচ্চা নষ্টের পর স্থানীয়রা মহিলার প্রবাসী স্বামীকে ব্যাপারটি জানালে সে এলাকার অন্যান্যদের নিকট খোজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে দ্রুত দেশে চলে আসে। প্রবাসী সেলিম দেশে আসা মাত্র তার আপন ভাতিজা ইয়াছিন (৩২) হুমকি দিতে থাকে । যদি এগুলো নিয়ে বারাবারি করা হয় তাহলে জীবনে মেরে ফেলা হবে। তাকে বাড়ীতে থাকতে দেওয়া হবেনা। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান মেম্বারকে ছাড়া প্রভাবশালীদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বসে প্রবাসীর স্ত্রী’র নিকট থেকে ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে ৫০টি বেতরাঘাত করে দুজনকে সাবধান করা হয় যেন ভবিষ্যতে আর এসব কার্যকলাপ না করে। 

এদিকে প্রবাসী সেলিমের স্ত্রীকে বিভিন্ন ভাবে জিম্মি করে অবৈধ কার্যকলাপের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তাকে হুমকি দিয়ে  একের পর এক অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়েছে।  সালিশে এব্যাপারে অভিযোগ করা হলে মেমোরিটি পুড়িয়ে ফেলা হবে বলে জানিয়েছে সালিশের মাতাব্বররা। তবে আশংকার রেশ কাটেনি প্রবাসী সেলিম ও তার স্ত্রীর।

৪ওয়ার্ড মেম্বার মোবারক হোসেন জানান, আমি গত এক বছর পূর্বে মহিলাটির সাথে কথোপকথনের আওয়াজ মোবাইলে রেকর্ড করে শুনিয়েছে। তার পর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ধারণের ব্যাপারটি আমি শুনেছি কিন্তু দেখিনি। এলাকায় এ নিয়ে অনেক গুঞ্জন হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বসেছে মিমাংসার চেষ্টা চলছে।  
এ ব্যাপারে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, আমি ঘটনাটি সম্পর্কে জানিনা। তবে যদি কেউ ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে থাকে তাহলে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। থানায় অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। 

উক্ত ঘটনায় বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে  তিনি জানান, ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখা সম্পূর্ণ বে-আইনী এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ এ রকম করে থাকলে স্ট্যাম্প উদ্ধার করার জন্য  বিজ্ঞ আদালতে মামলা করতে পারে অথবা থানায় এসে অভিযোগ করলে আমি অভিযোগ নেব এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

কুমেক হাসপাতালের পরিবেশ আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে।

বশিরুল ইসলাম:


কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। পাল্টে যাচ্ছে হাসপাতালের বাহির ও ভিতরের দৃশ্য। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ফ্লোর, সিড়ি, সামনের রাস্তা , ড্রেন ও হাসপাতালের আঙ্গিনা সব কিছুতেই পরিবর্তন। হাসপাতালে আগের মত কোন দুর্গন্ধ নেই। রোগী ও রোগীর স্বজনরা এখন হাসপাতালে অবস্থান করে সন্তুষ্ট।  অনেক আগে এই হাসপাতালে এসেছিলাম কিন্তু এতো সুন্দর পরিবেশ আর ডাক্তার, নার্স, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর আচরণ পায়নি এখন কয়েক দিন হয় হাসপাতালের সকলের আচরণে আমরা সন্তুষ্ট। তারা এখন আমাদের সাথে অনেকটা স্বজনের মত আচরণ করছে। গতকাল ১৮ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১০টায় হাসপাতালে প্রবেশ করে ক্যাজুলিটি, বার্ণ ও প্লাস্টিক ওয়ার্ডে কোতয়ালী থানার কমলাপুর গ্রামের রুহুল আমিন নামের রোগীর কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়। 
সরেজমিনে ক্যাজুলিটি ওয়ার্ডে প্রবেশ করে দেখা যায় সেখানে ওয়ার্ড মাস্টার আকতার হোসেনের নেতৃত্বে সেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহানারা আক্তার শানু ও ওয়ার্ড মাস্টার মো: ইলিয়াছ মিয়া, জরুরী বিভাগের ইনচার্জ দুলাল চন্দ্র সূত্রধরের উপস্থিতিতে জরুরী বিভাগের  নার্সিং স্টাফ ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা স্ব স্ব কাজে ব্যস্ত। হাসপাতালের এ দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে টাইলস সহ অন্যান্য সব কিছুই যেন নতুন করে সাজানো। রোগীদের বিছানার চাদর, বিছনার নিচে ময়লা রাখার গামলাটি যেন একদম নতুনের মত। এই দৃশ্য পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে ওয়ার্ড মাস্টার আকতার হোসেনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, অত্র হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী ও সহকারী পরিচালক ডা. ফরিদুল আলম মহোদয়ের জোড়ালো নির্দেশে আমরা হাসপাতালের সকল স্টাফ হাসপাতালের ভাবমূর্তি উন্নয়নে এবং রোগীদের উন্নত সেবা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেনীর জনবল সংকট রয়েছে তার পরেও আমরা সরকার ও হাসপাতালের ভাবমূর্তি উন্নয়নে স্বল্প জনবল দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচিছ। আমাদের হাসপাতালের তিনজন ওয়ার্ড মাস্টারকে পরিচালক মহোদয় কাজে গতি আনার জন্য গত ১৬ জুলাই কাজ বন্টন করে দেন। তাই আমরা প্রত্যেকে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। 

পেশাজীবী সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিকদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা পেশাজীবি সাংবাদিক ইউনিয়ন সকল সাংবাদিকদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। গত ৪ বছরে এই সংগঠনটি হাটি হাটি পা পা করে আজকে এই পর্যায়ে এসেছে শুধু মাত্র সাংবাদিকদের একতা, সততা আর সমন্বয়ের কারণে। কেননা এই সংগঠনের সকল সাংবাদিক একতার সাথে ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাজ করে। আমার বিশ^াস ভবিষ্যতে ও এই সংগঠনের সকল সাংবাদিক ঠিক একই ভাবে আগামী দিন গুলোতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।  গতকাল কুমিল্লা ঢুলিপাড়া ফান টাউন পার্ক হল রুমে কুমিল্লা পেশাজীবি সাংবাদিক ইউনিয়নের ঈদ পূর্ণমিলনী-২০১৭ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকার কুমিল্লা প্রতিনিধি ও নয়ারবি পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক  মো: জোনায়েদ শিকদার তপু এ সব কথা বলেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকের প্রত্যাশার ব্যুরো চীফ মো: জাহাঙ্গীর আলম, দীপ্ত টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি মো: শাকিল মোল্লা। সংগঠনের  সভাপতি মো: আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মো: জুয়েল রানার সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মো: বাবর হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো: আলে ইমরান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: বশিরুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আক্তার, অর্থ সম্পাদক এসএম শাহাদাৎ হোসেন, প্রচার সম্পাদক ডা: আবদুল আউয়াল সরকার, সহ-প্রচার সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ক্রিয়া সম্পাদক মামুনুর রশিদ, সহ-ক্রিয়া সম্পাদক ফখরুল ইসলাম জিমি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্য তৌহিদ হোসেন সরকার, সদস্য ইসলাইল হোসেন, আসাদুজ্জামান নুর, মারুফ আহমেদ, সাইদুর রহমান সোহাগ, মাইটিভির চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি মো: জসিম উদ্দিন, দৈনিক  কুমিল্লার আলো পত্রিকার সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, কুমিল্লার দর্পন পত্রিকার সাংবাদিক মীর মারুফ তাহসিন সহ প্রমুখ। 

খানা খন্দ আর গর্তে ভরপুর

কোটবাড়ী বিশ^রোড -টমছমব্রিজ-চাঁপাপুর সড়ক 
বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা শহরের কোটবাড়ী বিশ^রোড-টমছমব্রিজ হয়ে বাখরাবাদ  চাপাপুর রাস্তা দীর্ঘ ছয় বছর মেরামত করা হয়নি। এ রাস্তা দিয়ে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলা সহ নোয়াখালী, চাদপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষীপুর জেলা ও উপজেলা থেকে আগত রোগী ও রোগীর স্বজনরা  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করে। শাসনগাছা ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হওয়ায় এই সড়কটি এখন হাসপাতাল ও কুমিল্লা শহরে প্রবেশে প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। কোটবাড়ী বিশ^রোড-টমছমব্রিজ-বাখরাবাদ চাঁপাপুর সড়কটির এতোই বেহাল অবস্থা যে দুই পাশে খানা খন্দ আর গর্তে ভরে গিয়েছে। রাস্তা দিয়ে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কিছু কিছু যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আবার কিছু বিকল হয়ে পরছে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। বিশেষত গর্ভবতী মহিলা সহ অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ্য রোগীদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। অনেকে সময় রাস্তায় ডেলিভারী হচ্ছে।  প্রশাসনের দৃষ্টি পড়লেও আগামী পাঁচ মাস আগে মূলত বড় ধরনের মেরামত কাজ হচ্ছেনা। । সাধারণ মানুষের দাবী সড়ক বিভাগ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। এই রাস্তা দিয়ে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী যাতায়াত করে অনেক রোগী সহ রোগীর লোক যাতায়াত করে অথচ এই রাস্তাটির এই অবস্থা। গত কিছু দিন পূর্বে এক ডেলিভারী রোগী ইপিজেডের সামনের রাস্তায় ডেলিভারী করতে বাধ্য হয়েছে।  রাস্তাটি দিয়ে রোগীদের যাতায়াতে প্রচন্ড কষ্ট হয় বলে জানিয়েছে চান্দিনা থানার বাবুল নামের এক রোগীর স্বজন।
প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউট, আদর্শ সদর উপজেলা কার্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কুমিল্লা ম্যাটস, হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পরিবেশ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্র সমূহ, ফানটাউনে আসা বিনোদন প্রেমী, ময়নামতি হাসপাতাল সহ আরো কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল জেলা ও উপজেলা থেকে আগত কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং  রোগী ও সাধারণ জনগন। 
কিন্তু গত ৬বছরের ও অধিক সময় ধরে এই রাস্তার বড় ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় রাস্তাটি প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী। তারপরও সড়ক বিভাগ মাঝে মাঝে এই রাস্তায় ডিপার্টমেন্টাল মেরামতের কাজ করে থাকে। ছোট ছোট মেরামত কাজ গুলো ইট শুরকি দিয়ে করার কারণে একটু বৃষ্টিতে ভিজে বড় গাড়ির চাপায় নষ্ট হয়ে পুনরায় সেখানে আবার গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে ছোট ছোট গর্তগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে খাদে পরিণত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে রাস্তা ঘুরে দেখা যায়, টমছম ব্রিজ চৌরাস্তা থেকে শুরু করে চাঁপাপুর পর্যন্ত প্রায় ছোট বড় ৩০টি গর্ত রয়েছে। এই গর্ত গুলোতে অনেক সময় অটোরিক্স, রিক্সা, রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স পরে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আর সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। শুধু তাই নয় অনেকে এই গর্তের কারণে দূর্ঘটনার স্বীকার ও হচ্ছে।   একই সাথে যেমন রোগীর ক্ষতি হচ্ছে সাথে সাথে যানবাহনের ও ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইবনেতাইমিয়া স্কুল, ইপিজেডের সামনের রাস্তা, ঢুলিপাড়া চৌমুহনী, ফুল বন বেকারী ও ডায়না বেকারীর সামনে , কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  সম্মুখে, হেলথভিউ সিটিস্ক্যান সার্ভিসেস, সানি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একই অবস্থা। এই রাস্তা দিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোক সহ বাখরাবাদ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ঔষধাগার ঔষধ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাই সাধারণ মানুষের দাবী দেশ যেভাবে এগুচ্ছে রাস্তাঘাট গুলোও যেন সেভাবে মেরামত করা হয়।   
বাংলালিংকে কাস্টমারকেয়ারে কর্মরত মো: মমিনুল ইসলাম জানান, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আসা যাওয়া করার সময় অবস্থা এমন মনে হয়  যেন এই এলাকায় কোন জন প্রতিনিধি নেই এবং সরকারী কোন লোক আসা যাওয়া করেনা। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে মাথা সক্ত হয়ে গিয়েছে অটোরিক্সার ধাক্কায়। গর্তে পরে অটোরিক্সার রডের আঘাতে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্যথা হয়ে যায়। অথচ এই রাস্তায় একটি উপজেলা সহ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও কার্যালয় রয়েছে। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় আরো মনে হয় এই কোন অজোপাড়াগায় এসেছি । রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে সুস্থ্য লোকের ও শারীরিক সমস্যা হয় আর অসুস্থ্য লো
ক আরো অসুস্থ্য হয়।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ার কারণে কিছু দিন পর পর রাস্তাটি নষ্ট হয় । রাস্তাটি নষ্ট হলে ও মাঝে মাঝে আমরা ডিপার্টমেন্টাল মেরামত কাজ করে আসছি। আমরা এই রাস্তাটিকে প্রজেক্টের আওতায় এনে বড় ধরনের কাজ করার জন্য ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে রাস্তার বড় ধরনের মেরামত কাজ ধরব। রাস্তাটি দৈর্ঘ্যে ২৩.৫ কি:মি:। তার মধ্যে বিজিবি হেডকোয়ার্টার  থেকে বরুড়া হাসপাতাল পর্যন্ত ১০ কি: মি: ১০ফিট প্রশস্তের এই রাস্তাটি ১৮ফি প্রশস্তে উন্নীত করণ এবং কোটবাড়ী বিশ^রোড থেকে টমছমব্রিজ হয়ে চাঁপাপুর পর্যন্ত ৫.৫ কি: মি: ১৮ফুট  রাস্তাটি প্রথমে ইটসুরকি আর বালু দিয়ে একটি লেয়ার করার পর আবার পাথরের একটি লেয়ার এরপর ব্লাকটেপ করা হবে। আগের তুলনায় কোটবাড়ী-টমছমবিজ্র-চাপাপুর সড়কটি মজবুত করে করা হবে। কেননা এই রাস্তা দিয়ে অতিভাড়ী যান চলাচল করে থাকে। যদিও এই রাস্তা মহসড়কের আওতায় নয় তবুও এই রাস্তাটি মহাসড়কের ন্যায় ব্যবহার হচ্ছে।  কাজটি প্রজেক্টের আওতায় আসছে সুতরাং কাজটি ভালমানের হবে বলে আমার বিশ^াস। তবে কুমিল্লা শহরের পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে ও রাস্তা গুলো দ্রুত নষ্ট হয়। 

প্রেমিকার বাবাকে সাহায্য করতে গিয়ে ফেসে গেলেন ফরহাদ মজহার

কব-িপ্রাবন্ধকি ফরহাদ মজহাররে বান্ধবী র্অচনা রানীকে র্আথকি সহযোগতিা করার জন্যইে অপহরণরে নাটক। ফরহাদ মজহার তার বান্ধবীর সঙ্গে ঘটনার আগ-েপরে মোবাইল ফোনে যে ধরনরে কথা বলছেনে, কথোপকথনরে রর্কেডও আইন-শৃঙ্খলা বাহনিী সংগ্রহ করছে।ে উভয়রে মোবাইল থকেে যে ম্যাসজে আদান-প্রদান করছেনে এ রর্কেডও রয়ছেে আইন-শৃঙ্খলা বাহনিীর হাত।ে ৩ জুলাই ভোরে তনিি মোহাম্মদপুর স্যার সয়ৈদ রোডরে বাসা থকেে বরে হন। এরপর নখিোঁজ হন। তার পরবিাররে পক্ষ থকেে বলা হয় তাকে অপহরণ করে নয়িে যায় র্দুবৃত্তরা। তার পরবিাররে কাছে মুক্তপিণ দাবি কর।েমহানগর গোয়ন্দো পুলশি (ডবি)ি ও পুলশি সদর দফতররে সমন্বয়ে ফরহাদ মজহাররে কথতি অপহরণরে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। আধুনকি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এ তদন্ত।ে তদন্তে শনাক্ত করার হয় এক নারীর মোবাইল ফোন। এ ফোনরে সঙ্গে ফরহাদ মজহাররে হয়ছেে কথা র্বাতা। এ মোবাইল ফোনরে সূত্র ধরে খোঁজ পান তদন্তকারী র্কমর্কতারা এক নারীর। ঐ নারী হলনে ফরহাদ মজাহাররে “উবনিীগ” নামরে এনজওি’র সাবকে র্কমী। তার নাম র্অচনা রানী (২৮)। তনিি সহজ সরল এক নারী। বাঁচার তাগদিে অনকে কাঠখড় পুড়য়িছেনে। ২০০৫ সালে উবনিীগ নামক এনজওিতে চাকরি ননে তনি।ি র্অচনা রানী ভাবছনে এই বুঝি তার এক ঠাঁই হলো। কন্তিু কাজরে ফাঁকে ফরহাদ মজহাররে সঙ্গে তার হয়ে উঠে ঘনষ্টিতা। প্রথম লালন ফকরিরে আর্দশে ফরহাদ মজহারকে গুরু মনেে ফকরিী বায়াত ননে। এর থকেে শুরু হয় তাদরে ঘনষ্ঠিতা। পরর্বতীতে মন দওেয়া নওেয়া এবং দহৈকি সর্ম্পক। তদন্ত র্কমর্কতাদরে বলনে, তনিি ফরহাদ মজহারকে মনপ্রাণে ভালবাসনে ও ভক্তি করনে। প্রায়ই র্অচনা রানীর বাসায় যাতায়াত এবং দহৈকি মলোমশো করতনে ফরহাদ মজহার। ফরহাদ মজহার তাকে র্আথকি সহযোগতিা করতনে। বাড়ি ভাড়া থকেে শুরু করে সংসাররে অন্যান্য খরচ দতিনে তনি।ি ২০০৭ সালে র্অচনা রানী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়নে। ওই সময় তার অবধৈ র্গভপাত ঘটনানো হয়। ঐ র্গভপাত ঘটাতে গয়িে ঐ সময় র্অচনা রানী শারীরকি ক্ষতগ্রিস্ত হন। সুস্থ হয়ে উঠতে তার অনকে সময় লাগ।ে ঐ সব ঘটনা ফরহাদ মজহাররে পরবিারে জানাজানি হলে র্অচনা রানী উবনিীগ থকেে চাকরি হারান। তনিি চাকরি হারালওে ফরহাদ মজহাররে র্আথকি সহযোগতিা অব্যাহত থাকায় র্অচনা রানীর কোন সমস্যা হয়ন।ি র্সবশষে তনিি আবার ৪ মাসরে অন্তঃসত্তা হয়ে পড়নে। তনিি ফরহাদ মজহারকে বলনে, আপনার সর্ম্পক এখন আমার পটে।ে  ফরহাদ মজহার  র্অচনা রানীকে আশস্ত করনে য,ে এবার তোমাকে ভাল ডাক্তার দখোনো হব।ে আগরে মত তোমার শারীরকি ক্ষতি যাতে না হয়। সে বষিয়টি ফরহাদ মজহার গুরুত্ব সহকারে দখেছনে। ইতমিধ্যে র্অচনা রানীর বাবা অসুস্থ হয়ছেনে। বাবার চকিত্সিার জন্য র্অচনা রানীর দরকার অনকে টাকা। ফরহাদ মজাহাররে কাছে সইে পরমিাণ র্অথ নইে। অবশষেে র্অথরে নপেথ্যে ফরহাদ মজহাররে অপহরণরে নাটক। এ নাটক ছলি তার পরবিাররে কাছ থকেে ৩০ লাখ টাকা আদায় করা। র্অচনা রানীর দওেয়া তথ্য, কথপোকথন রর্কেড ও বভিন্নি তথ্য প্রমাণরে ভত্তিতিে তদন্তকারী র্কতৃপক্ষ নশ্চিতি হন যে ফরহাদ মজহাররে অপহরণরে ঘটনা “সাজানো নাটক।” ঘটনার দনি সকাল ১১টার দকিে ফরহাদ মজহার স্ত্রীকে ফোন করে বলনে, ৩০ লাখ টাকা তোমার কাছে রখেে দওি এবং তোমার কাছে ঐ টাকা চাইলে বলবে ডলেভিার হয়ে গছে।ে ফরিে এসে বাকটিা দখেব। খুলনা গয়িে তনিি নউির্মাকটেে (খুলনা) গছেনে ও বরে হয়ছেনে। ঐ দনি সন্ধ্যায় খুলনা থকেে র্অচনা রানীকে তার দুইটি নম্বররে প্রথম দফা ১৩ হাজার টাকা ও দ্বতিীয় দফায় দুই হাজার টাকা পাঠয়িছেনে ফরহাদ মজহার। সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মনিটি ও সন্ধ্যা সাতটা ১৯ মনিটি। বাসরে টকিটে নজিে ক্রয় করছেনে। তারও প্রমাণ তদন্তকারী র্কতৃপক্ষরে হাত।ে তার কথতি অপহরণরে সময় মাইক্রোবাসরে কথা বলা হলওে গতকাল মঙ্গলবার র্পযন্ত ঐ মাইক্রোবাসরে কোন হদসি পাননি গোয়ন্দো র্কমর্কতারা।

কোটবাড়ী বিশ্বরোড -টমছমব্রিজ-চাঁপাপুর সড়কে

  খানা খন্দ আর গর্তে ভরপুর 

বশিরুল ইসলাম:
                   
কুমিল্লা শহরের কোটবাড়ী বিশ্বরোড-টমছমব্রিজ হয়ে বাখরাবাদ  চাপাপুর রাস্তা দীর্ঘ ছয় বছর মেরামত করা হয়নি। এ রাস্তা দিয়ে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলা সহ নোয়াখালী, চাদপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষীপুর জেলা ও উপজেলা থেকে আগত রোগী ও রোগীর স্বজনরা  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করে। শাসনগাছা ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হওয়ায় এই সড়কটি এখন হাসপাতাল ও কুমিল্লা শহরে প্রবেশে প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। কোটবাড়ী বিশ^রোড-টমছমব্রিজ-বাখরাবাদ চাঁপাপুর সড়কটির এতোই বেহাল অবস্থা যে দুই পাশে খানা খন্দ আর গর্তে ভরে গিয়েছে। রাস্তা দিয়ে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কিছু কিছু যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আবার কিছু বিকল হয়ে পরছে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। বিশেষত গর্ভবতী মহিলা সহ অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ্য রোগীদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। অনেকে সময় রাস্তায় ডেলিভারী হচ্ছে।  প্রশাসনের দৃষ্টি পড়লেও আগামী পাঁচ মাস আগে মূলত বড় ধরনের মেরামত কাজ হচ্ছেনা। । সাধারণ মানুষের দাবী সড়ক বিভাগ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। এই রাস্তা দিয়ে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী যাতায়াত করে অনেক রোগী সহ রোগীর লোক যাতায়াত করে অথচ এই রাস্তাটির এই অবস্থা। গত কিছু দিন পূর্বে এক ডেলিভারী রোগী ইপিজেডের সামনের রাস্তায় ডেলিভারী করতে বাধ্য হয়েছে।  রাস্তাটি দিয়ে রোগীদের যাতায়াতে প্রচন্ড কষ্ট হয় বলে জানিয়েছে চান্দিনা থানার বাবুল নামের এক রোগীর স্বজন।
                                                      প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউট, আদর্শ সদর উপজেলা কার্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কুমিল্লা ম্যাটস, হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পরিবেশ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্র সমূহ, ফানটাউনে আসা বিনোদন প্রেমী, ময়নামতি হাসপাতাল সহ আরো কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল জেলা ও উপজেলা থেকে আগত কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং  রোগী ও সাধারণ জনগন। 
কিন্তু গত ৬বছরের ও অধিক সময় ধরে এই রাস্তার বড় ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় রাস্তাটি প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী। তারপরও সড়ক বিভাগ মাঝে মাঝে এই রাস্তায় ডিপার্টমেন্টাল মেরামতের কাজ করে থাকে। ছোট ছোট মেরামত কাজ গুলো ইট শুরকি দিয়ে করার কারণে একটু বৃষ্টিতে ভিজে বড় গাড়ির চাপায় নষ্ট হয়ে পুনরায় সেখানে আবার গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে ছোট ছোট গর্তগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে খাদে পরিণত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে রাস্তা ঘুরে দেখা যায়, টমছম ব্রিজ চৌরাস্তা থেকে শুরু করে চাঁপাপুর পর্যন্ত প্রায় ছোট বড় ৩০টি গর্ত রয়েছে। এই গর্ত গুলোতে অনেক সময় অটোরিক্স, রিক্সা, রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স পরে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আর সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। শুধু তাই নয় অনেকে এই গর্তের কারণে দূর্ঘটনার স্বীকার ও হচ্ছে।   একই সাথে যেমন রোগীর ক্ষতি হচ্ছে সাথে সাথে যানবাহনের ও ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইবনেতাইমিয়া স্কুল, ইপিজেডের সামনের রাস্তা, ঢুলিপাড়া চৌমুহনী, ফুল বন বেকারী ও ডায়না বেকারীর সামনে , কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  সম্মুখে, হেলথভিউ সিটিস্ক্যান সার্ভিসেস, সানি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একই অবস্থা। এই রাস্তা দিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোক সহ বাখরাবাদ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ঔষধাগার ঔষধ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাই সাধারণ মানুষের দাবী দেশ যেভাবে এগুচ্ছে রাস্তাঘাট গুলোও যেন সেভাবে মেরামত করা হয়।   
                                      বাংলালিংকে কাস্টমারকেয়ারে কর্মরত মো: মমিনুল ইসলাম জানান, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আসা যাওয়া করার সময় অবস্থা এমন মনে হয়  যেন এই এলাকায় কোন জন প্রতিনিধি নেই এবং সরকারী কোন লোক আসা যাওয়া করেনা। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে মাথা সক্ত হয়ে গিয়েছে অটোরিক্সার ধাক্কায়। গর্তে পরে অটোরিক্সার রডের আঘাতে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্যথা হয়ে যায়। অথচ এই রাস্তায় একটি উপজেলা সহ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও কার্যালয় রয়েছে। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় আরো মনে হয় এই কোন অজোপাড়াগায় এসেছি । রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে সুস্থ্য লোকের ও শারীরিক সমস্যা হয় আর অসুস্থ্য লোক আরো অসুস্থ্য হয়। 
                                    কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ার কারণে কিছু দিন পর পর রাস্তাটি নষ্ট হয় । রাস্তাটি নষ্ট হলে ও মাঝে মাঝে আমরা ডিপার্টমেন্টাল মেরামত কাজ করে আসছি। আমরা এই রাস্তাটিকে প্রজেক্টের আওতায় এনে বড় ধরনের কাজ করার জন্য ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে রাস্তার বড় ধরনের মেরামত কাজ ধরব। রাস্তাটি দৈর্ঘ্যে ২৩.৫ কি:মি:। তার মধ্যে বিজিবি হেডকোয়ার্টার  থেকে বরুড়া হাসপাতাল পর্যন্ত ১০ কি: মি: ১০ফিট প্রশস্তের এই রাস্তাটি ১৮ফি প্রশস্তে উন্নীত করণ এবং কোটবাড়ী বিশ^রোড থেকে টমছমব্রিজ হয়ে চাঁপাপুর পর্যন্ত ৫.৫ কি: মি: ১৮ফুট  রাস্তাটি প্রথমে ইটসুরকি আর বালু দিয়ে একটি লেয়ার করার পর আবার পাথরের একটি লেয়ার এরপর ব্লাকটেপ করা হবে। আগের তুলনায় কোটবাড়ী-টমছমবিজ্র-চাপাপুর সড়কটি মজবুত করে করা হবে। কেননা এই রাস্তা দিয়ে অতিভাড়ী যান চলাচল করে থাকে। যদিও এই রাস্তা মহসড়কের আও
তায় নয় তবুও এই রাস্তাটি মহাসড়কের ন্যায় ব্যবহার হচ্ছে।  কাজটি প্রজেক্টের আওতায় আসছে সুতরাং কাজটি ভালমানের হবে বলে আমার বিশ^াস। তবে কুমিল্লা শহরের পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে ও রাস্তা গুলো দ্রুত নষ্ট হয়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোডে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লায় সিভিল সার্জন ডা. মো: মুজিবুর রহমান অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে যে সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক তাদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ও অন্যান্য গুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন এমওসিএস ডা. মো: সাহাদাত হোসেন। 
উল্লেখ্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে ভূয়া  ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ সমস্ত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে রোগীদের সেবার নামে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়। চিকিৎসার নামে চলে নৈরাজ্য এবং অনেক সময় এগুলোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া যায়। অনেক সময় ভূয়া ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান দিয়ে চলে। তাই গতকাল এই ধরণের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: মুজিবুর রহমান। 

সমস্যা আর জনবল সংকটে কুমেক ফরেনসিক বিভাগ।

বশিরুল ইসলাম। 
নানা সমস্যা আর জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগ। স্পর্শকাতর  এই বিভাগে ৬টি ডাক্তার পদ থাকলে ও সেখানে মাত্র ৪জন ডাক্তার দিয়ে চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, ময়নাতদন্ত ও ভিকটিম পরীক্ষা। অভাব রয়েচে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সুবিধার। অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় এমবিবিএস পাশ করা শিক্ষার্থীরা শিখার সুযোগ কম পাচেছ ফলে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছেনা
। ফরেনসিক বিভাগে ডাক্তারদের কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও তারা নিরাপত্তার কারণে কাজ করতে চান না। কেননা এখানে অপমৃত্যু, হত্যা, আত্মহত্যা ও ধর্ষণের মত স্পর্শ কাতর বিষয় গুলো পরিচালনা করতে হয়।  অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক প্রধান দুইটি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান, ভিকটিম পরীক্ষা সহ মৃত দেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়।  অনেক সময়  ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেরিতে দিতে হয়। যার ফলে ভিকটিম বা ভিকটিমের স্বজনরা সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়।   এখানে বায়োলজীক্যাল পরিক্ষা হলেও অনেক পরীক্ষা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগ থেকে করে আনতে হয়। যার ফলে দীর্ঘ সূত্রিতা দেখা দেয়। এই বিভাগের ডাক্তারদের সরকারি ছুটি নেই, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের অতিরিক্ত ভাতা নেই এমনকি  যাতায়াতের জন্য যাতায়াতা ভাতাও নেই। ফলে ডাক্তারগন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে দায়িত্ব পালনে অনিহা প্রকাশ করে এবং ডাক্তার এসে থাকতে চায়না অন্যত্র চলে যায়। তাছাড়াও মর্গের ভেতরে একটি পাখা থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে, এসি ঠিকভাবে কাজ করেনা, মর্গের চারপাশের কাঁচ গুলো ভাঙ্গা, একটু বৃষ্টি হলে সব ভেতরে চলে আসে, দেওয়াল গুলো স্যাত স্যাতে হয়ে সেখানে আগাছা জন্ম নিচ্ছে। 
বিশ^স্ত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ জনবল সংকটে । নানা সংকট আর সমস্যার  মধ্য দিয়ে কাজ করছে বিভাগটি। এই বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি পদের মধ্যে প্রধান ২টি পদ খালি। ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক পদটি শূণ্য, সহযোগী অধ্যাপক পদে ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা.  কামদা প্রসাদ সাহা, সহকারী অধ্যাপকের পদটিও শূণ্য, প্রভাষক পদে ৩জন দায়িত্ব পালন করছেন ডা. ওমর ফারুক, ডা. শারমিন সুলতানা ও ডা. সালমা আক্তার।  এখানে ময়নাতদন্তের সরঞ্জামের অভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় ও বিলম্বে প্রতিবেদন দিতে হয়। তাছাড়া বিভিন্ন কারণে অকারণে ও বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়। এই বিভাগের ডাক্তাররা অনেক সময় আদালতে হাজির হয়ে স্বাক্ষী দিতে হয়, ভিকটিম পরীক্ষা করতে হয়, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা আবার মিডিয়ার সাথে কথাও বলতে হয়। অধিকাংশ সময় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনেক দেরিতে পায় ভিকটিম বা তার স্বজনরা। যার ফলে মামলা বা বিচার কার্যে বিলম্ব হয় এবং ভিকটিম বা তার স্বজনরা সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা থাকে।   বিভিন্ন ডাক্তারদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, একটা সময় ফরেনসিক মেডিসিনে ভাল শিক্ষক ছিল কিন্তু এই বিভাগে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় দক্ষ শিক্ষক তৈরি হচ্ছে না। বিদেশে মেডিকেলে এই বিষয়ে লেখাপড়া করে শুধু মেডিকেল কলেজে নয় পুলিশ ও আর্মি ফোর্সে কাজ করা যায়, কিন্তু আমাদের দেশে এই সুযোগ কম। তাই অনেকে মনে করেন এভাবে চলতে থাকলে এক সময় এমবিবিএস, ¯œাতোকোত্তর, ডিপ্লোমা কোর্সের প্রশ্নপত্র, ক্লাশ, পরীক্ষা এবং খাতা দেখা সহ সার্বিক বিষয়ে দক্ষ মানুষ পাওয়া যাবেনা। তবে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের আগ্রহী করতে সরকারের উচিত এই বিভাগের ডাক্তারদের জন্য আলাদা সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা তাহলে কেউ না কেউ অনুপ্রাণিত হবে।  পাশাপাশি ডাক্তারদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই হয়তো জনবল সংকট কিছুটা হলেও কেটে যাবে। 
এব্যাপারে ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, মৃত দেহের ময়নাতদন্ত কেন করি আমি নিজেই জানিনা। কেননা আমি একাডেমিক শিক্ষক। আমার কাজ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা। তাছাড়া ফরেনসিক বিভাগটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কাজ করছি। এই বিভাগে যে পরিমান জনবল দরকার সে পরিমান নেই। তিনজন ডাক্তার, একজন পিয়ন, একজন আয়া আর একজন ডুম দিয়ে চলে এই বিভাগটি। এই বিভাগে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে, বন্ধের দিন, রাতেও কাজ করতে হয়। কিন্তু তারপরেও এই বিভাগটিকে জরুরী বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য অতিরিক্ত কোন সরকারি ভাতাও দেওয়া হয়না। তাই অনেক ডাক্তার এই বিভাগে কাজ করতে এসে চলে যায় এবং কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করে। 
এব্যাপারে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মহসিনউজ্জামান চৌধুরী জানান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ডাক্তার স্বল্পতা রয়েছে। আমরা এব্যাপারটি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছি। কলেজে পর্যাপ্ত জনবল সংকট রয়েছে। জনবলের তুলনায় কাজের পরিমান অনেক বেশি। তাছাড়া ফরেনসিক বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়।স্পর্শকাতর এই বিভাগে যারা কাজ করে তাদের কোন রকম ইনটেনসিভ না থাকায় ডাক্তারগন কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করে। মেডিকেল রিপোর্ট দিলে কারো বিপক্ষে আবার কাহারো পক্ষে যায়। নানা মামলাতে এ বিভাগের শিক্ষকদের স্বাক্ষী দিতে হয়। সেখানে ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। তাই কেউ বাধ্য না হলে এই বিভাগে আসতে চাননা। আবার এই বিভাগের ডাক্তারদের নানা কারণে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয় । 

কুমিল্লার চান্দিনায় মিথ্যা মামলায় ছাত্রলীগ নেতাকে হয়রানির অভিযোগ।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লার চান্দিনায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান সোহাগকে প্রধান আসামী করে চান্দিনা থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  মামলার বাদী একই উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের নাওতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল ওহাব মিয়ার পুত্র । রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত মেহেদী হাসান সোহাগ।   
                  বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, গত ১জুলাই সকালে স্কুলে যাওয়া ছাত্রীদেরকে ইভটিজিংয়ের দায়ে কামাল নামে এক যুবককে থাপ্পর মারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান সোহাগ।  ঘটনা সকাল ১১টায়  কামাল হোসেন নামে এক যুবকের সাথে কিন্তু  রাত ৮.৩০টায় কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা  ইব্রাহিম নামের এক যুবককে। ঘটনার সাড়ে নয় ঘন্টা পরে ইব্রাহিম খলিল হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন অনেকে।  ইব্রাহীম খলিল নাওতলা গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।  এদিকে একই গ্রামের আলী আহাম্মদের ছেলে সাব্বির আহমেদ তছলিম নামে আরো এক যুবককে ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে তার হাসপাতালে ভর্তি সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ইব্রাহিমকে ১০হাজার টাকায় মাথা কেটে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন হচ্ছে। গত ১জুলাই ইব্রাহীম হাসপাতালে ভর্তি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ২জুলাই দুপুরে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়।  সূত্র থেকে আরো জানা যায়,  বাদী থানায় অভিযোগ করেছে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত কিন্তু থানায় মামলা দায়ের হয়েছে রাজনীতির মাঠে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগে উল্লেখিত বিষয় এক মামলা হয়েছে অন্য বিষয়ে।  
                       আহত ইব্রাহিমের বাবা আব্দুল কাদের জানান, আমার ছেলেকে গত ৩/৪দিন হয় পাচ্ছিনা। লোক মুখে শুনেছি আমার ছেলে কুমিল্লা আছে। ইব্রাহিমের মা আয়েশা বেগম জানান, গত রাতে আমার ছেলে বাসায় এসেছিল, ভোরে চলে গিয়েছে। আমার ছেলের মাথায় বেন্ডেজ দেখেছি। কোথায় গিয়েছে জানিনা। ইব্রাহিমের ভাই ইসমাইল জানান, কিছুদিন হয় আমার ভাইকে খুজে পাচ্ছিনা। যখন ঘটনা ঘটেছে তখন আমার ভাই ছিলনা কিন্তু পরে শুনতে পেয়েছি আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত লেগেছে। 
                           এদিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান সোহাগের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এবং রাজনৈতিক আক্রোশে একটি চক্র মেতে উঠেছে। আমার ব্যাপারে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা । অভিযোগ পত্র যাহা উল্লেক করা হয়েছে তাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা। 
                                         
 চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, আমাদের থানায় গত ৩জুলাই ৬জনকে আসামী করে কামাল নামে এক যুবক একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা তদন্তে যে তথ্যটি পেয়েছে সেই তথ্যের ভিত্তিতে থানায় মামলা হয়েছে। আমরা সকল বিষয় যাচাই বাছাই শেষে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। নিরপরাদ কাউকে হয়রানি করা হবে না আর অন্যায় করে কেউ পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউটে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ পদে যোগদান।

স্টাফ রিপোর্টার:
 মোসা: মোবাশি^রা আখতার কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউটে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ পদে যোগদান করেছেন। তিনি ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার অস্ট গ্রামে জন্মগ্রহন করেন । তার বাবা ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। ১৯৭৮ ইং সালে নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে ১৯৮১ সালে পাশ করে ১৯৮২ ইং সালের কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।  এর পর ব্রাহ্মনপাড়া বুড়িচং উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৮ বছর ৪মাস অত্যন্ত সুনামের সহিত কাজ করেন।  বর্তমানে তিনি এক সন্তানের জননী,বিয়ে করেছেন
নোয়াখালী জেলার ব্যবসায়ী মো: আমির হোসেনকে।  ১৯৭৬ ইং সালে এসএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে বিএসসি নার্সিং শেষ করে মাস্টার অব পাবলিক হেল্থ (এমপিএইচ) এর উপর পাশ করেন অতিশ দীপঙ্কর বিশ^বিদ্যালয় থেকে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে বিভিন্ন নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটে ট্রেইনার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পেয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্ত ৃক  উত্তম সেবার স্বীকৃতি হিসেবে সেবাপদ্ক (স্বর্ণ  পদক)। ২০০৬ ইং সালে কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউটে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে যোগদানের পর গত ২৮ জুন ২০১৭ ইং একই ইনস্টিটিউটে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন।
কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ মোসা: মোবাশি^রা আখতার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি স্বপ্ল সময়ের জন্য দায়িত্বে আছি। মাত্র ৪মাস আমি এখানে দায়িত্ব পালন করবো এবং চার মাস পরে আমার চাকুরী জীবনের সমাপ্তি হবে।  চেষ্টা করবো স্বপ্ল সময়ে আমার দায়িত্বটুকু আমি সঠিকভাবে পালন করতে। আপনাদের সকলের সহযোগীতা আর দোয়া নিয়ে দায়িত্বকালীন পুরো সময়টা সঠিকভাবে ব্যয় করতে চাই। 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জলাবদ্ধতা

দখলের কবলে হাসপাতালের সামনের খাল ও ফুটপাত। 

বশিরুল ইসলাম:
 কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন জমে থাকা আবর্জনার কারণে ধীরে ধীরে হাসপাতালের সামনের খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে জমে যায় পানি সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা । ফলে জলাবদ্ধতার কারণে এক দিকে যেমন হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে হাসপাতালে আসা সকলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে । দীর্ঘদিন ধরে দখলদারদের দখলের কবলে রয়েছে এই খালটি। সংস্কার না হওয়ার কারণে ও খালটি দিয়ে পানি সড়তে পারছেনা এতে করে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা জন্ম নিচ্ছে মশা ও রোগবাহী জীবাণু। জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে হাসপাতাল সংলগ্ন আশে পাশের এলাকাগুলোতেও। ফুটপাত দখলের কারণে মানুষ চলাচল করতে পারছেনা অনেকটা বাধ্য হয়ে মানুষ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে যাহার কারণে সৃষ্টি হয় যানজট ঘটে দুর্ঘটনা। 
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,  হাসপাতালের সামনের খালটি মূলত এটি বড় একটি ড্রেইন। এটি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এখনো পড়েনি। কিন্তু তারপরেও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু প্রতি বছর এই ড্রেনটির কাজ করে থাকে। শুধু তাই নয় মেয়র সাহেব নিজে উপস্থিত থেকে কাজ করতেও দেখেছে সাধারণ লোকজন। কিন্তু এ বছর মেয়র সাহেবের সমস্যার কারণে তিনি কাজটি করতে আসেননি। তারপরেও আমাদের মনে হয় তিনি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলে কাজটি অতি দ্রুত করে দিবেন। খালটির অনেক জায়গা এখন দখল হয়ে যাচ্ছে। ফুটপাত ও দোকান পাটের কারণে দখল হয়ে রয়েছে খাল ও খালের পাড়। তাই প্রশাসনের নিকট দাবী ফুটপাত দখল মুক্ত করে সাধারন মানুষের চলাচলের পথ সুগম করবে ও খালটি পরিস্কার করে হাসপাতাল ও আশে পাশের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন করবে। 
এব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা: স্বপন কুমার অধিকারী জানান, আমরা সিটি কর্পোরেশ
নের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। মৌখিক ভাবে তাদেরকে জানিয়েছি তারা কাজ করে দিবে বলেছে। অনেক দিন অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু কাজ হচ্ছেনা।
সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু এব্যাপারে জানানা, হাসপাতালের সামনের জায়গাটি মূলত আমার আওতায় নেই তারপরেও আমি প্রতিবছর এই ড্রেইনটি পরিস্কার করে থাকি। কিন্তু এবছর আমার ব্যক্তিগত সমস্যা থাকার কারণে কাজটি একজনের দায়িত্বে দিয়ে ছিলাম কিন্তু সে কাজটি করেনি। বৃষ্টি থামলে আমি কাজটি শেষ করব। 
এব্যাপারে ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মামুনুর রশিদ মামুন জানান, আমি এমপি মহোদয়কে ব্যাপারটি জানিয়েছি তিনি মেয়র সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেছেন। ড্রেইনটি বড় বিধায় এটি ভেকু দিয়ে পরিস্কার করতে হয় আমাদের নিকট ভেকু নেই তাই মেয়র সাহেব এটি করে থাকে। আপনারা মেয়র সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কাজটি করে দিবেন। এছাড়াও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিটি কর্পোশেনকে চিঠি দিয়েছে। 

কুমেক হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ চলছে।

আগামীকাল সোমবার  বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। 
বশিরুল ইসলাম: 
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে গর্ণপূর্ত বিভাগ। গত ২৬জুন সন্ধার পর  বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে দৈনিক ডাক প্রতিদিন পত্রিকা ও অন্যান্য মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সকাল ৯টা থেকে কাজ শুরু করে, চলতে থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। আজ সোমবার ১৬৪ ঘন্টা পর আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে কুমেক হাসপাতালে।
সরেজমিনে গিয়ে কাজে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৭ জুন গণপূর্ত বিভাগ ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য কাজ শুরু করে। বিআরবি কোম্পানীর সাথে ক্যাবলের জন্য যোগাযোগ করে না  পাওয়ায়  বিদ্যুৎ বিভাগের কাছ থেকে তারটি সংগ্রহ করা হয়। এই তারটি ব্যয়বহুল এবং  বাজারে এটি সচরাচর পাওয়া যায়না। গতকাল রবিবার ৩০মিটার এই তারটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে পৌছার সাথে সাথে কাজ শুরু করে গনপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীগন। প্রতি মিটার তারের মূল্য ১২৭০০ টাকা । তাছাড়া আনুষাঙ্গিক কাজ সব মিলিয়ে প্রায় ৯লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। 
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় গতকাল রবিবারে ও দেখা যায় হাসপাতালে আসা শিশু ও রোগীর স্বজনের দুর্ভোগ। কেউ হাত পাখা, কেউ কাগজের ঠোঙ্গা দিয়ে গায়ে বাতাস করছে। অন্ধকারের কারণে অনেক সাংবাদিক মোবাইলের আলো দিয়ে ভিডিও ধারণ করতে ও দেখা গিয়েছে। 
এব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা জানান, গতকাল রবিবার আমরা ক্যাবলটি হাতে পেয়েছি। ঘটনার সাথে সাথে আমাদের লোকজন কাজ শুরু করে। আশা করি রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সোমবার থেকে যথারীতি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। কাজটি আরো দ্রুত সম্ভব হতো যদি ক্যাবলটি বাজারে সচরাচর পাওয়া যেত। 
উল্লেখ্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৬জুন ঈদের দিন বিকাল ৩টা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আজ  ১৬৪ ঘন্টা পর আবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হল। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীরা ভোগান্তিতে পরে।  এছাড়াও  বিদ্যুৎ ছিলনা  হাসপাতালের পরিচালকের ডাক বাংলোতে, কলেজের হোস্টেলে ও হাসপাতালের ডরমেটরীতে।  

মধ্যযুগীয় কায়দায় নারী নির্যাতনের অভিযোগে

চান্দিনা থানা পুলিশ কর্তৃক আটক-১।
বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার মাইজখার ইউনিয়নে মধ্যযুগীয় কায়দায় এক গৃহ বধূকে নির্যাতনের অভিযোগে চান্দিনা থানা পুলিশ কর্তৃক রাজ্জাক মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি মাইজখার ইউনিয়নের মজিদ মিয়ার পুত্র নির্যাতিত মহিলা  মাইজখার ইউনিয়নের মো: গনি মিয়ার মেয়ে। তাকে একই বাড়ীর মজিদ মিয়ার পুত্র রাজ্জাক ও হারুনুর রশিদ গাছের সাথে বেধে রাতভর নির্যাতন করলে নির্যাতিত মহিলার বাবা থানায় অভিযোগ করলে তাকে আটক করা হয়।  
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুই বছর পূর্বে রাজ্জাক মিয়ার সাথে বিবাহ হয় ভিকটিম মোছেনার (৩০)। বিবাহের পর থেকে মোছেনা স্বামীর বাড়ীতে থাকতো। স্বামীর বাড়ীতে থাকা অবস্থায় মোছেনা গর্ভবতী হলে রাজ্জাক মিয়া ও স্থানীয় মহরম মিয়ার স্ত্রী  সালেহা গ্রাম্য ডাক্তারের নিকট নিয়ে মোছেনার বাচ্চা নষ্ট করে। সন্তান নষ্টের পর থেকে মোছেনা মানুষিক চাপে ভোগতে থাকে।  যৌতুকের টাকার জন্য মোছেনাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। নিজের সুখের কথা চিন্তা করে ১০ হাজার টাকা করে দুই বারে বিশ হাজার টাকা পরিশোধ করে মোছেনা। পরবর্তীতে তার নিকট আরো বেশি টাকা দাবী করলে মোছেনা অত্যন্ত নিরিহ পরিবারের বিধায় সে টাকা দিতে পারেনি ফলে রাজ্জাক মিয়া মোছেনাকে বিয়ের কথা অস্বীকার করে । এদিকে স্থানীয় মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে ও ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্জাক মিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় মেম্বার ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা তার ভয়ে মুখ খুলতে চায়না। সে এতোই প্রভাশালী সাংবাদিকদেরকে ও উচ্চ বাচ্চ কথায় গালি গালাজ করে। গত ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মোছেনাকে তার স্বামী ও ভাইয়েরা মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সাথে বেধে রাতভর শারিরিক নির্যাতন করে।  উক্ত ঘটনায় ইউসুফ মেম্বার স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে দশ হাজার টাকায় রফদফা করে। কিন্তু সেই দশ হাজার টাকা ও মোছেনার হাতে এসে পৌছায়নি। সকালে স্থানীয় মেম্বার ইউসুফ মিয়াকে খবর দিলে তিনি এসে মোছেনার হাত পা খুলে দেয় এবং তাকে চিকিৎসার জন্য চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার মোছেনার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। বর্তমানে মোছেনা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 
স্থানীয় রফিক মিয়ার স্ত্রী লিলুফা জানান, আমি নিজ চোখে দেখেছি রাজ্জাক মিয়া গভীর রাতে মোছেনার বাসায় আসা যাওয়া করতো। তাকে আমি নিজে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি আপনি যে আসেন এলাকার লোক অনেক কিছু মনে করে। সে বলে আমি বিয়ে করেছি আমার স্ত্রী’র নিকট আমি আসি কে কি বল্ল তা আমার দেখার বিষয় নয়। এই কথা গুলো আমি তার ভাইয়ের নিকট বলতে চাইলে সে আমাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখায় আমার কল্লা ফালাইয়া দি
ব ।
উক্ত ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় মেম্বার ইউসুফ মিয়াকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, গত ২৭ জুন অর্থাৎ ঈদের পরের দিন সকালে রাজ্জাক মিয়া আমাকে ফোনে বলে মেম্বার সাহেব আমরা রাতে চুর ধরেছি আপনি আমাদের বাড়ীতে আসেন চোরকে নিয়ে যান। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মোছেনা বাধা অবস্থায় এবং তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন। আমি সাথে সাথে স্থানীয় লোকদের সহযোগীতায় গাছের সাথে বাধা অবস্থা থেকে খুলে দেই। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাই। এরপর আমি আর কিছু বলতে পারছিনা।  তবে আমি শুনেছি মোছেনা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। টাকার ব্যাপারটি জানতে চাইলে তিনি জানান, এই টাকাটা মেয়ের চিকিৎসার বাবদ দেওয়ার জন্য বলেছিলাম কিন্তু কেন রাজ্জাকের লোকজন টাকা দেয়নি তা বলতে পারছিনা। 
অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই নুরুজ্জামান জানান, অভিযোগের সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মোছেনাকে গাছের সাথে বেধে নির্যাতনের সত্যতা পেয়েছি। স্থানীয় মেম্বার মোছেনাকে গাছের সাথে বাধা অবস্থা থেকে খোলে চিকিৎসার জন্য চান্দিনা হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কুমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছে শুনতে পেয়েছি। তবে মেয়ের সাথে রাজ্জাক মিয়ার বিয়ের ব্যাপারটির সত্যতা এখনো পাইনি। 
চান্দিনা থানার পুলিশ পরিদর্শক মো: নাছির উদ্দিন মৃধা  জানান, আমাদের থানায় ভিকটিম মোছেনার বাবা গনি মিয়া বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্ত রাজ্জাক মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রাজ্জাক মিয়ার বক্তব্য ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আমরা তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করি।