অবশেষে কিছুক্ষন পরেই শুরু হচ্ছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ।

বশিরুল ইসলাম: 
 আজ সকল জল্পনা কল্পনা আর হিসাব নিকাশের সমাপ্তি হবে। কে হবে তাদের নগর পিতা বা মাতা তা আজকে ভোটের মাধ্যমে বেছে নেবে। আজ বৃহস্পপতিবার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে এক টানা ভোট চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। গতকাল (২৯ মার্চ) বিশেষ নিরাপত্তায় বলয়ের মাধ্যমে সকল ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠ ভোট উপহার দেওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটকে ঘিরে নগর জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ এবং এই উৎসবে ভোট দিতে প্রস্তুত ভোটররা। নারায়নগঞ্জ নির্বাচনের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নৌকা ও ধানের শীষের প্রতিকের মধ্যে লড়াই হবে আজ।
২৯ মার্চ কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে ৩.৩০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠ ও সুন্দর রাখার জন্য ৪৫৭২জন আইনশৃংখলাবাহিনীর প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করবে। এদের মধ্যে পুলিশ রয়েছে ১৬৭৮জন, আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য রয়েছে ১৯৭২জন সাথে সিনিয়র ১৪জন আনসার, র‌্যাব সদস্য রয়েছে ৩২২ এবং বিজিবি সদস্য রয়েছে ৬০০জন। এদের মধ্যে র‌্যাব ৩৮টি টিমে কাজ করবে এবং বিজিবি ৩০ প্লাটুনে কাজ করবে। তাছাড়াও অনাকাঙ্খিত ঘটনা নিয়ন্ত্রনের জন্য ইনটেলিজেন্স এর সদস্যরা কাজ করবে। ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোর জন্য স্পেশাল ফোর্সের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে । কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচনে অফিসে বাংলাদেশ আনসার ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্তৃক আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান । নির্বাচনে সার্বিক সহযোগীতা ও সমন্বয় করার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে আনসার সদস্য এসেছে প্রতি কেন্দ্রের জন্য ১৪জন । আমরা পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সকলের সাথে নির্বাচন সমন্বয় করছি। ইতোমধ্যে মালামামল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। এই ব্যাপক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
বিরামহীন এই নির্বাচনে কোন প্রার্থী কতটুকু ভোটারদের মন জয় করতে পেরেছে তা বুঝা যাবে আজ ভোটের মাধ্যমে। সর্বত্রই পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে। রাস্তায় রাস্তায় অলি গলিতে সব জায়গায় নৌকা ও ধানের শীষের পোষ্টারই বেশি। নির্বাচনী উত্তাপ ছেয়ে গেছে সিটি কর্পোরেশনের এলাকা গুলোতে। সেখানকার ছোট বড় সব হোটেল, চায়ের দোকানে চলছে জমজমাট নির্বাচনী আড্ডা। চায়ের দোকানে ভোটারগন গালগল্পে মেতে উঠেছেন। সর্বত্র আড্ডায় সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলরদের অতীত কর্মকান্ড হিসাব নিকাশের ইতি টানতে চায় ভোটাররা আজকের ভোটের মাধ্যমে।
কুসিক নির্বাচনে ৪ মেয়র প্রার্থী ১১৪জন কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৪০ জন প্রার্থী সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আওয়ামীলীগ তথা নৌকা প্রতীকে আঞ্জুম সুলতানা সীমা, বিএনপি তথা ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া ও মাঠে সক্রিয় না থাকলে ও জেএসডির মেয়র প্রার্থী শিরিন আক্তার তালা প্রতীকে, স্বতন্ত্র মেজর (অব) মামুনুর রশিদ মামুন টেবিল ঘড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন। সাধারণ মানুষের দাবী নৌকা ও ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী ছাড়া অন্য দুই মেয়র প্রার্থীকে দেখা যায়নি মাঠে। পরিবর্তন ও কুমিল্লার উন্নয়নের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে মোবাইলে চলছে প্রচারণা। গ্রাহকদের মোবাইল নাম্বারে অটোমেটিক চলে যাচ্ছে এই ম্যাসেজ।
কুসিক নির্বাচন বর্তমান নির্বাচন কমিশন, আওয়ামীগ ও বিএনপি অর্থাৎ তিন পক্ষের জনপ্রিয়তা ও অস্থিত্ব যাচাইয়ের এক কঠিন পরীক্ষা । এদিকে ভোটাররা অতীতে কুমিল্লায় কে কি অবদান রেখেছে কে কি উন্নয়ন করেছে সেটি ও বিবেচনায় নিবেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া নতুন মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা জিতে গেলে কুমিল্লায় আগের তুলনায় কাজ একটু বেশি হবে বলে মনে করছে সাধারণ নাগরিক। কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন যেহেতু সরকার ক্ষমতায় সেহেতু সীমাকে কাজ বেশি দেওয়া হবে এবং সীমা ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে ভালভাবে কাজ করবেন। অপর দিকে সাক্কু পাশ করলে এক হলো কুমিল্লায় কাজ কম হবে অন্যদিক দিয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অনেকটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সার্বিক বিবেচনায় কুমিল্লা বাসী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে তাদের নতুন মেয়র হিসেবে পেতে চাইবেন এমন ধারণাই করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ও মূল প্রতিদ্বন্দ্বি হচ্ছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে। এই নির্বাচনে লড়াই চলছে দ্বিমুখী। তাই এ লড়াইকে সামনে রেখে আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছে দুই দল। স্থানীয় শক্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে কেন্দ্রীয় শক্তি। ফলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন রাজনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে রূপ নিতে যাচ্ছে। আওয়ামলীগ দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা নির্বাচনে শতভাগ পাশের নিশ্চয়তা নিয়ে তিনি বলেন, আমি নৌকা প্রতিক পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতিক দিয়েছেন, আমি নিশ্চিত নৌকার পালে বিজয় নিশান লাগিয়ে ঘরে ফিরব। আপনারা সকলে একত্রিত হয়ে নৌকায় উঠুন স্লোগান তুলুন, কুমিল্লায় মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোন স্থান নেই। আমি গণরায় মেনে নেব। এদিকে প্রতীক পাওয়ার পর বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নির্বাচন নিয়ে কুমিল্লার মানুষের মাঝে গণজোয়ার ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক ও সুষ্ঠু ভোট হলে কুমিল্লায় অতীতের মতো সাধারণ মানুষ কুমিল্লার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমাকেই বেছে নেবে।
এদিকে নির্বাচনী বিধিমালা ২০১০ এর ৭৪ বিধি অনুসারে ২৮ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহনের পূর্ববর্তী ৩২ ঘন্টা এবং ভোট গ্রহনের পরবর্তী ৪৮ ঘন্টা ১এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোন ব্যক্তি কোন জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা উহাতে যোগদান ও মিছিল সকল প্রকার প্রচার প্রচারণা বন্ধ বলে আঞ্জলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে ২৭মার্চ ২০১৭ তারিখ দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩১ মার্চ সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও ২৯ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩০ মার্চ দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কতিপয় নৌযান/ স্থলযানবাহন যেমন লঞ্চ, স্পীড বোট, বেবীটেক্সি, অটোরিক্সা, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো চলাচলের উপর নির্বাচন কমিশন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

No comments:

Post a Comment