কুমেক হাসপাতালে ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের কর্মবিরতী

বশিরুল ইসলাম:
ডাক্তারের সুরক্ষা দিন রোগী সুরিক্ষত থাকবে, রোগীর সেবা করতে এসেছি মার খেতে আসিনি, নারী চিকিৎসকদের প্রতি রোগীর স্বজনদের অন্যায় অশালীন আচরণের প্রতিকার চাই, নিরাপদ কর্মস্থল চাই, অনিরাপদ কর্মস্থল সুষ্ঠ চিকিৎসা সেবার অন্তরায়, বহিস্কৃত চার ইণ্টার্ণ চিকিৎসকের বহিস্কারাদেশ অবিলম্বের প্রত্যাহার চাই এই রকম নানান প্লেকার্ড, ব্যানার নিয়ে মানব বন্ধনে অংশ গ্রহন করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইণ্টার্ন চিকিৎসক বৃন্দ। ইণ্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের কুমেক হাসপাতাল শাখার সভাপতি নুর উদ্দিন মো: ফয়সাল জানান, সারা দেশের ন্যায় আমরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এই অবস্থান ধর্মঘট, কর্মবিরতী ও মানববন্ধন করে আসছি। আগামী বাহাত্তর ঘন্টার মধ্যে আমাদের দাবী না মানা হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচীতে যাব। আন্দোলনরত ইণ্টার্ণ চিকিৎসকবৃন্দ জানান,  ৪ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকাল ৮ঘটিকা হইতে বাংলাদেশের সকল মেডিকেল হাসপাতালের ইণ্টার্ন চিকিৎসকবৃন্দ লাগাতার কর্মবিরতী শুরু করেছে। আগামী ৭২ঘন্টার মধ্যে অন্যায়ভাবে চার ইণ্টার্ণ চিকিৎসকদের গৃহীত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। পুন: তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনপূর্বক দোষী রোগীর স্বজনদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় হাসপাতাল সমূহের অন্যান্য চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা করা হবে। কর্মবিরতী চলাকালীন সময়ে ইণ্টার্ণ চিকিৎসকবৃন্দ নিজ নিজ ক্যাম্পাসে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যানার প্লেকার্ড সহ প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। বার বার বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইণ্টার্ন চিকিৎসক সহ সকল স্তরের চিকিৎসক আক্রান্ত হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারী মাসেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকবৃন্দ হামলার স্বীকার হয়েছে। এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ন্যুনতম কোন প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে নাই। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়ায় ইন্টার্ণ চিকিৎসক ইভটিজিং ও শারীরিক লাঞ্চনার শিকার হলে উল্টো তাদেরকেই কঠোর শাস্তি দেয়া হচ্ছে। সমসাময়িক এ সকল ঘটনা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচেছ। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই বাংলাদেশের জনগন সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা পাবে। এ কারণে ইণ্টার্ণ চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইণ্টার্ন চিকিৎসকদের শাস্তি স্থগিত এবং বাংলাদেশের সকল চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবীতে উক্ত কর্মসূচী ঘোষনা করা হচ্ছে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীল সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। 
উক্ত ঘটনায় কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা: স্বপন কুমার অধিকারী হাসপাতালে কর্তব্যরত সিনিয়র অধ্যাপকবৃন্দকে নিয়ে এক জরুরী সভার আয়োজন করেন। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তারদের  মতামত ও পরামর্শ নিয়ে পরিচালক মহোদয় ইণ্টার্ণ চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট চিকিৎসা সেবা যেন কোনভাবে ব্যহত না হয় সে জন্য বিকল্প ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেন। তিনি জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালের ডাক্তারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে সেখানে রোগীদের যেন চিকিৎসা নিতে কোন রকম সমস্যা না হয় তার মনিটরিং করবেন বলে সভায় জানান। হাসপাতালে আগত কোন রোগী যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় হাসপাতালে কর্তব্যরত সকলের প্রতি আহ্বান জানান। উক্ত জরুরী সভায় ডাক্তারদের  পক্ষ থেকে আন্দোলনে একাত্ততা পোষন করেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা: আব্দুল আউয়াল সোহেল, সিনিয়র ডা: আবুল বাশার, গাইনী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: করুনা রানী কর্মকার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইএনটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, রেডিওথেরাপী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: জাহাঙ্গীর হোসেন ভূইয়া,  সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা: জাহাঙ্গীর হোসেন ভুইয়া ও হাসপাতালের প্রধান কমকর্তা কামরুল ইসলাম প্রমুখ। 

No comments:

Post a Comment