স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাসকপ’র কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

বশিরুল ইসলাম: 
কুমিল্লার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বারপাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদ (বাসকপ) এর উদ্যোগে গত শুক্রবার ২৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আমিনুল ইসলাম টুটুল, ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মামুনুর রশিদ মামুন, ধনেশ^র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: হারুনুর রশিদ, ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার ও ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান সাজু, সমাজ সেবক হাজী আলী আশ্রাফ, হাজী আব্দুল হালিম সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কৃতি শিক্ষার্থী , অভিভাবক
ও  হতদরিদ্র পরিবারের সংগ্রামী শিক্ষার্থী বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জি. ইলিয়াছ আহমেদ এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মো: কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নির্বাহী সদস্য ইরফান, দপ্তর সম্পাদক মো: সজীব আহমেদ, সহ-সভাপতি মো: কামাল হোসেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো: আব্দুস সামাদ ও ধনেশ^র উচ্চ বিদ্যালয়ের  ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো: নুরুল আমিন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বারপাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদের এই মহতী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, তিনি সংবর্ধিত প্রত্যেক কৃতি শিক্ষার্থীদের এককালীন এক হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।  বিশেষ অতিথি মো: মামুুনুর রশিদ বলেন, বাসকপের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যেভাবে পাশে ছিলেন ভবিষ্যতেও থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি এই অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বারপাড়া ধনেশ^র সংযোগ সড়কটি শীঘ্রই নির্মাণ করা হবে। সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের যারা বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে শ্রেণী রোল এক থেকে পাঁচ এর মধ্যে থাকবে তাদের পড়াশোনার খরচ সংগঠন বহন করবে। বক্তব্যের পরে ২৯জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং দরিদ্র পরিবারের ৬৫জন সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। 

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

বশিরুল ইসলাম: 
বারপাড়া সমাজ কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আমিনুল ইসলাম টুটুল, ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মামুনুর রশিদ মামুন, ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান সাজু সহ এলাকার বিশিষ্ট্য সমাজ সেবক ও এলাকার নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, কৃতি শিক্ষার্থী , হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী বৃন্দ। 

১২ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন কুমেক হাসপাতাল।

রিপ্রেজেন্টেটিভ আর দালালদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ রোগীরা

বশিরুল ইসলাম: 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১২ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় ছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হয়নি রোগীদের জরুরী অস্ত্রপ্রচার। মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা। উপরন্তু দালাল আর রিপ্রেজেন্টেটিভদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ রোগীরা।  সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীর কারণে হাসপাতাল থেকে দালাল আর রিপ্রেজেন্টেটিভদের দূর করা যাচ্ছে না ।  হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করতে হয়েছে দালাল আর ঔষধ কোম্পানীর লোকদের হুমকির কারণে। 
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালে বুধবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার দিনের ১০.৩০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। জেনারেটরের সাহায্যে চালু রাখা হয়েছিল জরুরী স্থানের লাইট আর পাখা গুলো।  বিদ্যুতের কারণে হাসপাতালের আন্ত: বিভাগ ও বহি: বিভাগের রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। গরমে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা অস্বস্তি আর বিরক্তির সাথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা চিকিৎসা সেবার জন্য বহি: বিভাগে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে রোগী ও রোগীর স্বজনদের। অনেক রোগীকে চিকিৎসা সেবা না নিয়েই চলে যেতে দেখা গিয়েছে । দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় এবং জরুরী অস্ত্রপ্রচার না করার কারণে অনেক রোগীর অস্ত্র প্রচার  এক সপ্তাহ পিছিয়েছে। এতে রোগীদের যেমন কষ্ট বেড়েছে তেমন স্বজনদের বেড়েছে দুর্ভোগ।  শিশু সার্জারী ওয়াড, অর্থোপেডিক্স সার্জারী ওয়াার্ড, লেবার ওয়ার্ড ও অপারেশন ওয়ার্ড গুলো মোবাইলের আলো দিয়ে চিকিৎসা করার খবর পাওয়া গিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডাক্তার জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা মোবাইলের আলো দিয়ে অপারেশনের কাজ করতে হয়েছে আর সদিচ্ছা থাকলে তা সম্ভব। তবে দিনের সাড়ে ১০টায় বিদ্যুৎ আশায় আমরা ভাল ভাবে অপারেশনের কাজ করতে পারছি। বিদ্যুৎ থাকলে যেভাবে রিলাক্সের সাথে কাজ করা যায় বিদ্যুৎ না থাকলে সেভাবে কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। 
কুমেক হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, হাসপাতালে দালাল এবং ঔষধ কোম্পানীর লোকদের দৌরাত্মটা বেশি কিন্তু তাদেরকে নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। কেননা মাঝে মাঝে আমরা পুলিশ দিয়ে ধরে এদেরকে থানায় পাঠালে তারা আবার জামিনে চলে আসে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ও স্থানীয়দের সদিচ্ছা নেই। আমরা বেশি কিছু বলতে চাইলে আমাদের ও হুমকি শুনতে হয়। আমি বাধ্য হয়ে থানায় জিডি পর্যন্ত করতে হয়েছে। কিন্তু কি করবো এদেরকে কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা। 
কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা: স্বপন কুমার অধিকার জানান, হাসপাতালের বিদ্যুতের সমস্যার কথা যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এরা দিনের ১০টায় এসেছে । বর্তমানে হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। দালালদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাসপাতালে দালাল ঔষধ কোম্পানীর লোক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের লোকদেরকে আমরা বের করে দেওয়ার পর ও এরা ভিতরে প্রবেশ করে হাসপাতালের ডাক্তার ও রোগীদের বিরক্ত করে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে ও কোন রকম ফলপ্রসু হচ্ছে না। আমরা হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঔষধ কোম্পানীর লোক, দালাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অত্যাচার কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবো। 

কুসিক নির্বাচনের দুই কেন্দ্রের ভোট সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন।

বশিরুল ইসলাম: 
গত ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্থগিত হওয়া দুটি ভোট কেন্দ্রে গতকাল পুনরায় কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোগ গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজে ৪৪.৭৭% ভোট পরেছে। চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় ভোট পরেছে ৭৭.৮০% । কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজে মোট ভোট গ্রহন করা হয়েছে ১২৪১টি এর মধ্যে বাতিল ভোটের সংখ্যা ১৬টি। চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় মোট ভোট গ্রহন করা হয়েছে ১৯৩২টি এর মধ্যে বাতিল ভোটের সংখ্যা ৯৩টি। ২৭ নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো: আবুল হাসান ট্রাক্ট্রর মার্কা এবং ২১ নং ওয়ার্ডে সাধারন আসনে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী কাজী মাহাবুবুর রহমান ঘুড়ি মার্কা।  ৭নম্বর  সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী উম্মে সালমা হেলিকপ্টার মার্কা।  ২১ নং ওয়ার্ডে সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিল কাজী মাহাবুর রহমান মোট ৩৭ ভোট পেয়ে কাউন্সিল নির্বাচিত  হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুবুর রশিদ মাহাবুব ঠেলাগাড়ি মার্কায় ভোট পেয়েছেন ১৩৮৯ ভোট। ২৭নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী আবুল হাসান ট্রাক্টর মার্কা ১৩৯৭ ভোট পেয়ে কাউন্সিল পদে নির্বাচিত হয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত মো: সাখাওয়াত হোসেন টিফিন ক্যারিয়ার মার্কা ১১৪৫ ভোট পেয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত ওয়াার্ড ৭ (সাধারণ ওয়াার্ড (১৯,২০,২১) উম্মে সালমা হেলিকপ্টার মার্কা ৫৮৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাজনীন আক্তার কাজল (বই) পেয়েছেন ৩৩৯৪ ভোট। সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৯ (সাধারণ ওয়ার্ড ২৫,২৬,২৭) রুবী আক্তার চশমা মার্কা ২৪৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেসমিন আক্তার লাকী মোবাইল ফোন মার্কা ভোট পেয়েছে ২৩৬৩ ভোট। 
 কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের কারণে দুটি কেন্দ্র ভোগ গ্রহন স্থগিত করা হলে গতকাল ২৫ এপ্রিল পুনরায় দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন করা হয়। কেন্দ্র দুটি হলো ৮১ নং কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ (কেন্দ্র-২) ও ১০১ নং চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা । গতকাল মঙ্গলবার ২৫ এপ্রিল ৭ নম্বর ও ৯নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২১ ও ২৭ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের ভোট গ্রহন করা হয়। কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্রে অর্থাৎ ২১নং ওয়ার্ডে ১১৯৬ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন কাজী মাহবুবুর রহমান ঘুড়ি মার্কা এবং চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা কেন্দ্রে অর্থাৎ ২৭ নং ওয়ার্ডে ১০৯৩ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত  হয়েছেন মো: আবুল হাসান। কাজী মাহবুবুর রহমানের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৩৭১৪ এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: মাহবুবুর রশিদ (মাহবুব) ঠেলাগাড়ি মার্কা  প্রাপ্ত  ভোটের সংখ্যা ১৩৮৯। এদিকে চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে মো: আবুল হাসান মোট ভোট পেয়েছে ১৩৯৭ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: শাখাওয়াত হোসেন টিফিন ক্যারিয়ার মার্কায় ভোট পেয়েছে ১১৪৫ ভোট। ২৭ নং ওয়ার্ডে মোট ভোট পরেছে ৬৮.২৪% এবং ২১নং ওয়ার্ডে মোট ভোট পরেছে ৫৭.৭৬%। 
সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৮৮৩ ভোট পেয়ে ৭ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছে উম্মে সালমা  হেলিকপ্টার মার্কা এবং নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছে ।  সাধারণ আসনে কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজে অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা মো: মনির হোসেন মিষ্টি কোমড়া ১৩, মো: মহসীন আহাম্মদ লাটিম মার্কা ২ ভোট, মো: মিন্টু এয়ারকন্ডিশন ১ ভোট। চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে অন্যান্য প্রার্থীর ভোটের সংখ্যা জামাল উদ্দিন মিষ্টি কোমড়া ১ ভোট, মো: আব্দুর রাজ্জাক ঘুড়ি ৮ ভোট, মো; মিজানুর রহমান করাত ৪ ভোট, মো: সহিদুল ইসলাম লাটিম ৪৯২ ভোট, মো সাফায়াত হোসেন টিফিন ক্যারিয়ার ২৪১ ভোট। তবে মো: সহিদুল ইসলাম মোট ভোটে মাত্র ২৪ ভোটের ব্যবধানে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। 
৯নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জোলেখা বেগম ডলফিন মার্কায় ৫০২ ভোট, মনো
য়ারা বেগম জিপ গাড়ি মার্কায় ২১৮১ ভোট, মোসা: সেলিনা আক্তার ১০৭৮ ভোট, রুবি আক্তার চশমা ২৪৫৫ ভোট, শাহিন আক্তার বই মার্কা ১১৩১ ভোট, শামছুন নাহার আনারস মার্কা ৩৩৩ ভোট পেয়েছে। ৭নম্বর সংরক্ষি মহিলা আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা উম্মে সালমা হেলিকপ্টার মার্কা ৫৮৯৯ ভোট, নাজনীন আক্তার বই মার্কা ৩৩৯৪ ভোট, মোসাম্মৎ হোসনেয়ারা বেগম চশমা মার্কা ৩২৮৬, মোসাম্মৎ পারভীন আক্তার জিপ গাড়ী ৭৪৬ ভোট, রাইয়ানুল জান্নাত রেজা আনারস ১২৪১ ভোট।
কুমিল্লা আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল বলেন,দুটি কেন্দ্রে দুটি পদে পুন: নির্বাচনের পর  প্রাপ্ত মোট ভোটের ভিত্তিতে ২১নং সাধারণ ওয়ার্ডে কাজী মাহবুবুর রহমান ও ২৭ নং সাধারণ ওয়ার্ডে মো: আবুল হাসান, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭নং ওয়ার্ডে উম্মে সালমা ও ৯নং ওয়ার্ডে রুবী আক্তার নির্বাচিত হয়েছে। কেন্দ্র দুটি হচ্ছে ২১নং ওয়ার্ডের কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ ও ২৭নং ওয়ার্ডের চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা কেন্দ্র। 



জলাদ্ধতায় নাকাল কুমিল্লা নগরবাসী

দোকান পাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ীতে পানি।

বশিরুল ইসলাম: 
জলাবদ্ধতা, কর্দমাক্ত আর অতি বৃষ্টি
তে নাকাল কুমিল্লা নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। বৃষ্টি আর সড়কে জমে থাকা পানির কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ পড়েছিল দুর্ভোগে। গত তিন দিন ধরে চলা বৃষ্টিতে স্কুলের শিক্ষার্থী কর্মজীবী শ্রেনী পেশার মানুষ জলাবদ্ধতা আর কর্দমাক্ততার কারণে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ীতে হাটু সমান পানি হওয়ায় ঘরবাড়ী কর্দমাক্ত হয়ে নোংড়া পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নির্মাণ সামগ্রী রেখে সড়ক অবরোধ রাখায় পানি বাসা বাড়ীতে জমাট হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতায় রুপ নিয়েছে। 
গতকাল সোমবার (২৪ এপ্রিল) কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের গেইটের সামনে জলাবদ্ধতা, স্টেডিয়ামের সামনে বিভিন্ন দোকান পাটে পানি থই থই অবস্থা। জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে ও জলাবদ্ধতার তীব্র অবস্থা চোখে পড়ে। পুলিশ সুপারের বাস ভবনের সামনে হাটু সমান পানির জলাবদ্ধতা দেখা গিয়েছে। নালা উপচে সড়কের মধ্যে পানি থই থই করছে। ঝাউতলা এলাকায়  একই অবস্থা। রেইসকোর্স কাঠের পোল এলাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তা সহ আশে পাশের বাড়ীঘরের নিচতলা। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পানির বিরম্বনার মধ্যে ও রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করতে দেখা গিয়েছে ।  শাসনগাছা ও বাদশা মিয়ার বাজার এলাকায় বৃষ্টির পানির চেয়ে কর্দমাক্ততার পরিমান বেশি হওয়ায় কুমিল্লা সহ শহরের বাহির থেকে আসা সাধারণ মানুষ অস্বাভাবিক দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে। ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজের গেইট থেকে ইপিজেড গেইট পর্যন্ত রাস্তা পানিতে তলিয়ে গিয়েছে ফলে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ও ইপিজেডের শ্রমিকদের পানির বিরম্বনায় পরে দুর্ভোগে পড়তে দেখা গিয়েছে।  থিরাপুকুর পাড় এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক বাড়ী ঘর ও রাস্তা ঘাট। কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট এলাকার ৪নং সেকশনে জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোডে ড্রেনে ময়লা আবর্জনা জমাটবদ্ধ হওয়ার কারণে হাসপাতালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেনটিতে এতই ময়লা আর আবর্জনা একটু বৃষ্টি হল্ইে পানি চলাচল করতে না পারায় কৃত্রিম জলাদ্ধতার সৃষ্টি হয়।  
এব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী ও কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক মো: জাহাংগীর আলম জানান, কুমিল্লা মহানগরীতে সোয়ারেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল নয় এগুলো ঠিকভাবে কাজ করেনা। পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না হওয়ার কারণে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হতে পারছেনা। আমার বাস ভবনের সামনের জলাবদ্ধতা এটি নিয়মিত ব্যাপার । সোয়ারেজ ব্যবস্থা বা পানি নিষ্কাশনের যেভাবে ব্যবস্থা থাকার কথা সে ভাবে নেই এজন্য এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।  এই ধরনের সমস্যার জন্য পুরো দায় সিটি কর্পোরেশনের।  পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ সচেতন না হওয়া পর্যন্ত  এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত  সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরায়ন আশা করা সম্ভব নয়। আমরা সিটিকর্পোরেশনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি কিন্তু তেমন কোন পরিবর্তন দেখছি না। 


কালিয়ারচর-কুটুম্বর সড়ক অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে। যাত্রীদের ভোগান্তি :

বশিরুল ইসলাম:
চান্দিনা কালিয়ারচর কুটুম্বপুর সড়কটি ট্রাকের অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে থাকায় সাধারণ ও যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাধাইয়া ইউনিয়নের কুটুম্বপুর শিলবাড়ীর সামনে রাস্তার উপর অবৈধ পার্কিং করে আসছে রাস্তার দুই পাশে ট্রাক। স্থানীয় চেয়ারম্যান এব্যাপারে নিষেধ করার পরেও চেয়ারম্যানকে তোয়াক্কা না করেই অবৈধ পার্কিং করে রাস্তাটি ট্রাক রেখে দখলে করে রেখেছে । 
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কুটুম্বপুর এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ট্রাকের মালিক হয়ে ট্রাকগুলো রাস্তার উপরে পার্কিং করে আসছে। তাদেরকে বারবার নিষেধ করার পরেও কথা শুনছে না। কুমিল্লা-০৭ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি মহোদয় এই রাস্তা দিয়ে প্রায় সময় আসা যাওয়া করে থাকে। কিন্তু স্থানীয় ট্রাক মালিকরা এই বিষয়টি জানে এবং যে দিন এমপি মহোদয় বাড়ীতে আসা যাওয়া করে সেই দিন শুধুমাত্র এক পাশে পার্কিং করে যার কারণে এমপি মহোদয়ের নজরে পরছেনা। কিন্তু বাকী দিন গুলো রাস্তার উভয় পাশে ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির সাথে যাতায়াত করতে হয় এই রাস্তা দিয়ে। ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে না পারায় সাধারণ মানুষ রাস্তার মাঝ খান দিয়ে চলতে হয়। ফলে অনেক সময় দুর্ঘনার সম্মুখীন হতে হয়। তাছাড়াও কুটুম্বপুর-কালিয়ারচর রাস্তায় মাঝে মাঝে ডাকাতি ছিনতাই ও চুরি হয়ে থাকে। স্থানীয়দের ধারণা এই ট্রাক গুলো দিনে ও রাতে রাস্তায় পার্কিংয়ের কারণে ডাকাতরা ট্রাকের পাশে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। গভীর রাতে সিএনজি বা প্রাইভেটকার অথবা বা অন্য যে কোন যানবাহন  একা পেলে সেই যানবাহনকে গতিরোধ করে যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। গত কিছুদিন পূর্বে গল্লাই ইউনিয়নের বসন্তপুর স্কুল শিক্ষককে কুপিয়ে টাকা পয়সা  নিয়ে যায় ডাকাত দল। 
মাধাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অহিদ সাহেবের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, এই জায়গা ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে আমি নিজে ও বিরক্তির মধ্যে আছে। এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ফোন করে বিরক্ত করে। আমি ট্রাকের ড্রাইভার ও মালিকদের এবিষয়ে বলার পরেও তারা কোন রকম কর্ণপাত করছে না। এ বিষয়ে এমপি মহোদয় ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট আলোচনা করেছে কিন্তু কোনরকম কাজ হচ্ছে না। 
এব্যাপারে চান্দিনার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, আমি ব্যাপারটি জানিনা আমাকে কেউ জানায়নি। আমি আপনার নিকট থেকে যেহেতু জানতে পেরেছি আমি ঘটনাস্থলে যাব যারা ট্রাক পার্কিং করে রাস্তা দখলে রেখেছে তাদের ট্রাক আটক করে তাদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা সহ সাজা প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে যেন রাস্তা কেউ ট্রাক পার্কিং না করে সে বিষয়ে আমরা সাধারণ মানুষকে ও সতর্ক করে আসব। 




ইলিশ নেই, বাজারে মাছের দাম একটু বেশি

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা মাছের বাজারে কোন ইলিশ নেই আছে কাতলা, রুই, সিলভার ও বৃগেট মাছ। মাছের দাম অন্যান্য সময়ের তুলনায় একটু বেশি। বিক্রেতারা বলছেন স্বাভাবিক কেননা মাছের আকার এবং সাইজের কারণে মাছের দাম কম বেশি হয়ে থাকে। 
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পুরো বাজারে কোন ইলিশ নেই। কেননা এই সময় ইলিশের প্রজনন সময়। সেপ্টেম্বর-নভেম্বর এই তিন মাস ইলিশ ডিম দিয়ে থাকে। তাই এই সময়ে ইলিশ মাছ ধরা সরকার নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। সাধারণ মানুষ ও নানা কারণে ইলিশ মাছ এই সময়ে খাওয়া বর্জন করেছে।  বাজারে সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে যেই মাছ সেগুলো হলে রুই, কাতলা, সিলভার কাপ আর বৃগেট। মাছের সাইজ ও একটু বেশি। পাঁচ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ৪০০টাকা কেজি, পাঁচ কেজি ওজনের রুই মাছ ৫২০টাকা কেজি এবং  পাঁচ কেজি ও ছয় কেজি ওজনের বৃগেট ও সিলভার কাপ মাছ ৪০০টাকা থেকে ৫০০টাকা কেজি। ছাইল্লাকান্দির মাছ বিক্রেতা কাশেম ও কালাম জানান, আমাদের এখানে যত মাছ দেখছেন সব দেশি প্রজাতির মাছ । এই মাছ তুলনামূলকভাবে দাম বেশি হওয়ার কথা কিন্তু বাজারের অবস্থা এমন বেশি দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। যেই দামে ক্রয় করেছি সেই দামেই বিক্রি করছি। তবে লোকসানের সম্ভাবনা তেমন একটা নেই কেননা মাছ প্রচুর পরিমানে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছ নেই কেন জানতে চাইলে এই মাছ বিক্রেতা জানান, ইলিশ মাছ সরকার ও নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে তাছাড়া সাধারণ মানুষ ও এই মাছের প্রতি আগ্রহ কম দেখাচ্ছে তাই আজকে বাজারে ইলিশ মাছ নেই। আজ বড় বড় কাতলা আর রুই মাছ বেশি বিক্রি হচ্ছে। ছবি গুলো রাজগঞ্জ বাজার থেকে তুলা। 




বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বর্ষবরণ পহেলা বৈশাখ ।

বশিরুল ইসলাম:

সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে  প্রশাসন সহ উপজেলা প্রশাসন বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজন করেছে নানা অনুষ্ঠান মালার। কুমিল্লা ধর্মসাগর পারস্থ জামতলায় এবং মহিলা কলেজ মাঠে কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বিশে^র সকল প্রান্তের সকল বাঙ্গালী আজ নতুন বছরকে বরণ করছে বাংলা নব বর্ষ । ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছে অতীতের সকল দুঃখ, গ্লানি। সকলের কামনা  যেন নতুন বছরটি সুন্দর ও সুখকর হয়। ব্যবসায়ীরা নতুন করে ব্যবসা শুরু করার লক্ষে এই দিনটিকে বরণ করে নেয়। বাঙ্গালীরা এই দিনে ভাল ভাল খাবারের আয়োজন করে। আত্মী স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাত করে। তবে এই দিনের সাথে পান্তা ইলিশ কিংবা ধর্মীয়  কোন সম্পর্ক নেই এবং পান্তা ইলিশ খেতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা ও নেই। বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস এবং বৈশাখের ১তারিখ পহেলা বৈশাখ আজ । বাংলা সনের প্রথম দিন তথা বাংলা নব বর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিম বঙ্গে শুভ নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙ্গালীরা ও এই উৎসবে অংশ নেয়। সে হিসেবে এটি বাঙ্গালীদের একটি সার্বজনিন উৎসব। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিম বঙ্গে সকল সরকারি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। বিশে^র বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষাভাষি লোকজন পহেলা বৈশাখে নানা অনুষ্ঠান ও খাবারের আয়োজন করে থাকে। গত বছর থেকে বাঙ্গালী তথা বাংলা ভাষার লোকজন একটু ব্যতিক্রম আয়োজন করছে। পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ খাবার বন্ধ রাখার ঘোষনা করছে। কেননা এই সময়ে মা ইলিশ ধরা হয়ে থাকে ফলে ইলিশের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশংকা থাকে। তাই বাঙ্গালী গত বছর থেকে পহেলা বৈশাখের দিন ইলিশ খাওয়াকে একটু কম গুরুত্ব দিচ্ছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমের এই সময়ে জাটকা নিধন কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে বৈশাখে ইলিশ বর্জনের ঘোষনা দিয়েছে। নববর্ষের সাথে পান্তা ইলিশের কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো জানান,  গত বছর থেকে খাবারের মেনুতে ইলিশ মাছ বাদ দিয়েছি । গত ১২ এপ্রিল বুধবার তার নিজ কার্যালয়ে বলেন মঙ্গল শোভা যাত্রার সাথে ধর্মীয় কোন সম্পর্ক নেই এবং এই নিয়ে কেউ যেন কোন রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ না করে। মঙ্গল শব্দটি যদিও মনে হয় হিন্দু শব্দ কিন্তু এটির সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। এটি বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক উৎসব।  
প্রজননের সময় অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়াও অভয়াশ্রম গুলোতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে  ইলিশ শিকার বেআইনী ঘোষনা করেছে সরকার। মাছের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ানো, মাছের অতিরিক্ত দাম যেন না বাড়ে এরকম বিভিন্ন কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকগন পহেলা বৈশাখে ইলিশ বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন। 
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভারত বর্ষে মুঘল স¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর স¤্রাটরা কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করতো। কিন্তু হিজরী সন চাদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ের কৃষকদেরকে খাজনা পরিষদে বাধ্য করা হতো। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের জন্য মুঘল স¤্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। 
১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০-১১ মার্চ  থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয় এবং কার্যকরী হয় স¤্রাট আকবর সিংহাসন আরোহনের সময় ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলী সন পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলাবর্ষ নামে পরিচিত হয়। মূলত স¤্রাট আকবরের আমল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। তখন সবাই চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজন মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হত। পরদিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ এলাকার লোকদের মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতো। আর এই উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো এবং সেই থেকে এটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে দাড়িয়েছে। তখল এই দিনটির প্রধান ঘটনা বা উদ্দেশ্য ছিল হালখাতা তৈরি করা বা নতুন হিসাব বই খোলা। 
আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্ত্তণ ও পূজার আয়োজন করা হয়। পরে ১৯৩৮ সালে ও একই রকম ভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৯৬৭ সন থেকে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। 

নতুন বছরের উৎসবের সংঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্টির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় যোগাযোগ। গ্রামে মানুষ ভোরে ঘুম থেকে  উঠে, নতুন জামা কাপড় পরে এবং আতœীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাড়িঘড় পরিস্কার করা হয় এবং সুন্দর করে সাজানো হয়। বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা ও থাকে। কয়েকটি গ্রামের মিলিত এলাকা, খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার। মেলাতে থাকে নানা রকম কুঠির শিল্প জাত সামগ্রীর বিপণন, থাকে নানা রকম পিঠা পুলির আয়োজন। অকেন স্থানে ইলিশ মাছ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।  এই দিনের একটি পুরুনো সংস্কৃতি হলো গ্রামীন ক্রিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন এর মাধ্যে থাকে নৌকা বাইচ, লাঠি খেলা কিংবা কুস্তি। বাংলাদেশে এইরকম সবচেয়ে আসরটি হয় ১২ বৈশাখ, চট্টগ্রাম- এর লালদিঘী ময়দান । এটি জব্বারের বলি খেলা নামে পরিচিত । এই দিনে ঢাকায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে থাকে । বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকা শহরে পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয় রমনা বটমূলে  পহেলা বৈশাখ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলত কণ্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে আহ্বান জানান । স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও প্রকৃত পক্ষে যে গাছের ছায়ার মঞ্চ তৈরি হয় সেটি বট গাছ নয় , অশ^ গাছ। ১৯৬০- এর দশকে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানটের এই বর্ষবরণ  অনুষ্ঠানের সূচনা । ঢাকার বৈশাখী উৎসবের একটি আবিশ্যিক অঙ্গ মঙ্গল শোভা যাত্রা । ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সকালে এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয় । এই শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয় । শোভাযাত্রা সকল শ্রেণী পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে । শোভাযাত্রার জন্য বানানো হয় রং-বেরঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপি । ১৯৮৯সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ । ঈশা খাঁর সোনারগাঁয় ব্যতিক্রমী এক মেলা বসে , যার নাম বউমেলা । জয়রামপুর গ্রামের মানুষের ধারণা, প্রায় ১০০ বছর ধরে পয়লা বৈশাখে শুরু হওয়া এই মেলা পাঁচ দিনব্যাপী চলে । প্রাচীন একটি বটবৃক্ষের নিচে এই মেলা বসে, যদিও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সিদ্ধেশ^রী দেবীর পুজো হিসেবে এখানে সমবেত হয় । বিশেষ করে কুমারী , নববধূ , এমনকি জননীরা পর্যন্ত তাদের মনস্কামনা পূরণের আশায় এই মেলায় এসে পূজা অর্চনা করেন । সন্দেশ-মিষ্টি-ধান-দূর্বার সঙ্গে মৌসুমি ফলমূল নিবেদন করে ভক্তরা । পাঁঠাবলির রেওয়াজও পুরনো। বদলে যাচ্ছে পুরনো অর্চনার পালা । এখন কপোত- কপোতি উড়িয়ে শান্তি বার্তা পেতে চায় ভক্তরা দেবীর কাছ থেকে । বইমেলায় কাঙ্খিত মানুষের খোঁজে কাঙ্খিত মানসীর প্রার্থনা কিংবা গান্ধর্ব প্রণয়ও যে ঘটে না সবার অলক্ষে, তা কে বলতে পারবে । বন্দর নগরী চট্রগ্রামে পহেলা বৈশাখের উৎসবের মূল কেন্দ্র ডিসি পাহাড় পার্ক । সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এখানে পুরোনে বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করার জন্য দুই দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের করা হয় । মুক্ত মঞ্চে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে নানা গ্রামীণ পন্যের পশরা । থাকে পান্তা ইলিশের ব্যবস্থাও । চট্রগ্রামে সম্মিলিত ভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের উদ্যোগ ১৯৭৩, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে । রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চেষ্টায় উদযাপিত হয়ে আসছে । ইস্পাহানী পাহাড়ের পাদদেশে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় । ১৯৭৮ সালে এই উৎসব এখন ডিসি হিল পার্কে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে । বাংলাদেশের পার্বত্য চট্রগ্রাম এলাকার প্রধান তিনটি হ্মুদ্রজাতিস্বত্তা রয়েছে যাদের প্রত্যেকেরই বছরের নতুন  দিনে উৎসব আছে । ত্রিপুরাদের বৈশুখ, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব । বর্তমানে তিনটি জাতিস্বত্ত¦া একত্রে এই উৎসবটি পালন করে । যৌথ এই উৎসবের নাম বৈসাবি । উৎসবের নানা দিক রয়েছে । এর মধ্যে একটি হলো মার্মাদের পানি উৎসব । বাংলাদেশ এবং ভারত ছাড়াও পৃথিবীর আরো নানান দেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ে থাকে । অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে যেমন ঃ সিডনি , মেলবোর্ন , ক্যানবেরাতে বৈশাখী মেলার মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয় । বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নাচ- গান- ফ্যাশন শো- খাবারের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির এ ধারাকে আনন্দময় করে তোলে । অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সর্ববৃহৎ বৈশাখী মেলা অনুুষ্ঠিত হয়।  আগে বার্নউড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলেও ২০০৬ সাল থেকে সিডনি অলিম্পিক পার্কে মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মেলায় বিপুল পরিমাণ লোকের সমাগন ঘটে এবং প্রবাসী বাঙালিদের জন্য এটি একটি আনন্দঘন দিন । সুইডেনেও বিপুল উৎসাহের সাথে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়। ইংল্যান্ড অবস্থানকারি বাঙ্গালীরা স্ট্রীট ফেস্টিভাল (পথ উৎসব)  পালন করে। এই উৎসবটি লন্ডনে ও করা হয়। 

আগামীকাল পহেলা বৈশাখ বাংলা নব বর্ষ

বশিরুল ইসলাম:
বৃহস্পতিবার চৈত্র সংক্রান্তি। একটি বছরের গ্লানি মুছে দেয়ার মাধ্যমে বিদায় নিলো ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। রাত পোহালেই আর একটি নতুন বাংলা সালের শুরু। শুভ নববর্ষ। স্বাগত ১৪২৪। ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’- সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে সূচি করে তুলতেই আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম দিনটি চিরায়ত আনন্দ-উদ্দীপনা আর বর্ণাঢ্য উৎসবের মধ্য দিয়ে হাজির হবে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। সেই নব প্রভাতে বাঙালি জাতির কায়মনো প্রার্থনা- যা কিছু ক্লেদ, গ্লানি, যা কিছু জীর্ণ-শীর্ণ-বিদীর্ণ, যা কিছু পুরাতন জরাগ্রস্থ-সব বৈশাখের রুদ্র দহনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাক। এদি
কে নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানস্থল কুমিল্লা জামতলা ও মহিলা কলেজ  ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার নতুন স্বপ্ন, উদ্যম আর প্রত্যাশার আবির ছড়ানো বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ। গ্রীষ্মের দাবদাহ এড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাঠ-ঘাট, পথে-প্রান্তরে ঢল নামবে লাখো উচ্ছসিত জনতার। দিবসটিকে কেন্দ্র করে নববর্ষকে স্বাগত এবং দেশবাসিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জাতির উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন।

আমাদের জাতিসত্তার মৌলিক ও অনন্য পরিচয় এবং বাঙালির প্রভূত রূপায়ণ ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অমোঘ উপাদান এই পয়লা বৈশাখ। দেশের মূল স্তম্ভ কৃষক সমাজ আজও বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে, ফসল রোপন ও ঘরে তোলার পালাও চলে সেই পঞ্জিকা অনুসারে। ফসলি সাল গণনার জন্য একদা যে বাংলা সনের উৎপত্তি তা সুদীর্ঘকাল ধরে শহর-বন্দর, গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এদেশের মানুষের হৃদয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি হিসেবে শক্ত আসন গেড়ে বসেছে। বাংলা নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ রীতি এখনও এদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির আমেজ নিয়ে টিকে রয়েছে। খেরোখাতায় পুরাতন হিসেব মিটিয়ে নতুন বছরে নতুন করে সবকিছু শুরু করার জন্য এদিন ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্টদের দাওয়াত দিয়ে এখনও মিষ্টি মুখ করান।

কাল সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার। উৎসবে মেতে ওঠার উপসর্গ খুঁজে ফেরা বাঙালিদের জন্য নারী-পুরুষ-শিশু,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র নির্বিশেষে জাতীয়ভাবে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠার দিন। শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং রং-বেরঙের নারী-পুরুষের পোষাক এবং সজ্জায় বর্ণিল হয়ে উঠবে রাজধানীসহ গোটা দেশ। প্রাণ চাঞ্চল্যে মুখরিত হয়ে রাজধানী ঢাকার দৃশ্যপটও বদলে যাবে । কাকডাকা ভোর থেকেই নগরীর পথে পথে বাঙালি সংস্কৃতি লালনকারী আনন্দ পিপাসু নগরবাসীর ঢল নামবে । পরিধেয় বস্ত্রেও থাকবে বৈশাখী উৎসবের লাল-সাদার বাহারি নক্সার পোশাক।

ফারুক হত্যার ঘটনায় ৬ মামলার আসামী সোলেমান আটক।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা সদর উপজেলার পালপারা ব্রিজের ১কি: মি: পশ্চিমে ভোর ৫টায় ফারুক মিয়া (২৮) নামে পত্রিকার হকারকে হত্যার ঘটনায়  ষোলনল গ্রামের সাক্কু মিয়ার ছেলে সোলেমান নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সে ঐ এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং চাঁদা বাজ বলে জানিয়েছে পুলিশ। 
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ষোলনল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে। সে কিছুদিন পূর্বে ও ফারুকের নিকট টাকা চেয়েছিল। সে পূর্বে বিল্লাল চেয়ারম্যানের সাথে থাকতো এবং কাজ করতো বর্তমানে সে সিরাজ মেম্বার এর সাথে চলে এবং তার সাথে কাজ করে। শুরু থেকেই স্থানীয়রা ধারণা করে আসছে সোলেমান ফারুক হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। গত দুই দিনে থানা পুলিশ ও পিবিআই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুড়িচং থানার চয়গড়িয়া এলাকা থেকে সোলেমানকে আটক করে । কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, চাঁদাবাজী, বিষ্ফোরক সহ ৫টি মামলা রয়েছে। 
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর পর থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই পুলিশ ও কাজ করতে থাকে। বুড়িচং থানার বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া খেয়ে সোলেমান থানা পুলিশের হাতে ধরা পরেছে। এই ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করার জন্য  মামলাটি পিবিআই  পুলিশ আবেদন করেছে।  
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সালাম মিয়া জানান, ঘটনার পর পর পুলিশ সদস্যরা আসামীকে খোজার জন্য তৎপর থাকে। গত দুই দিনের অভিযানে গতকাল ৩টায় বুড়িচং থানার চয়গরিয়া এলাকা থেকে সোলেমানকে আটক করা হয়। কোতয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। ফারুক হত্যার ঘটনায় সে ৬মামলার আসামী। 
কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পালপাড়া ব্রিজ এলাকায় ফারুক হত্যার ঘটনায় সোলেমান নামে এক আসামীকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাদ চলছে। আশা করি তার নিকট থেকে হত্যার রহস্য জানতে পারব। 
উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার ভোর ৫টায় পালপাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে ভুইয়ার বাড়ীর রাস্তার মাথায় ফারুককে হত্যা করে দুর্বত্তরা।  ঐ ঘটনাস্থল থেকে ১ জোড়া জুতা ও  ব্যাংক রশিদ উদ্ধার । নিহত ফারুক মিয়া আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর জামবাড়ি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। প্রতিদিনের মতো ভোরে বাড়ি থেকে পত্রিকা বিলি করার জন্য সে ভোর ৪.৩০ টায় বের হয়। তার সাথে ২লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা ছিল। গত সোমবার দিবাগত রাতে সমিতির টাকা ব্যাংকে জমা করার জন্য টাকা গুলো নিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে সমিতি বা বাড়ীর আশে পাশের কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। তবে কিছুদিন পূর্বে ও তার মোবাইল রেখে দিয়েছিল পালপাড়া ব্রিজ এলাকার কিছু বখাটে। পরবর্তীতে ব্যাপারটি বিভিন্নভাবে সমঝোতা হয় এবং মোবাইল ফেরত দেয়। ঐ ঘটনার পর থেকে গোমতী নদীর পাড় দিয়ে কিছুদিন হয় সে আসা যাওয়া না করে বাড়ীর ভেতর দিয়ে পালপাড়া ব্রিজের নিকট এসে গোমতির পাড় উঠতো। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করছেন অনেকে। ঐ পরিবারে ফারুক সহ আরো এক ভাই ও এক বোন রয়েছে। ভাইটি মানুষিক ভারসাম্যহীন, মা অনেক আগেই মারা গিয়েছে বাবা ও অসুস্থ্য দীর্ঘদিন ধরে। পরিবারটি একমাত্র ফারুকের উপর নির্ভরশীল ছিল। দেড় বছর হয় বিয়ে করেছিলেন বুড়িচং উপজেলার পাহারপুর এলাকার আব্দুল মালেকের মেয়ে তাসলিমা আক্তারকে। চার মাসের একটি ফুটফুটে কণ্যা সন্তান  রয়েছে। 

অবশেষে মুখ খুল্লেন চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাস

বশিরুল ইসলাম:
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিয়ে  নিয়ে মুখ খুলেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। আজ সোমবার তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে শাকিবের সঙ্গে বিয়ে প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। এসময় তার কোলে ছিল শাকিবের ঔরসজাত সন্তান আব্রাহাম খান জয়।

টিভি চ্যানেল, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা, ফেইসবুক ও অপু বিশ^াসে
র বক্তব্যে জানা যায়, শাকিব খান ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে কাজী আনে এবং গুলশানের বাসায় বিয়ে হয়। বিয়ে পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর কোলকাতার একটি ক্লিনিকে সন্তানের জন্ম হয়। শাকিবের অনুরোধে দীর্ঘদিন লোক চক্ষুর আড়ালে ছিল অপুবিশ^াস। ২০০৬সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ চলচিত্রের মাধ্যমে তাদের প্রথম জুটি হয়।
খবর প্রকাশ হলে দেশজুড়ে বিষয়টি নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। শাকিবও বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে অপুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানের দায়িত্ব নিলেও অপুর দায়িত্ব তিনি নেবেন না। এ প্রসঙ্গে অপুর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এসব হাস্যকর কথা। আমাকে শাকিব অনেক শাস্তিই দিয়েছে। নতুন করে আর কী শাস্তির ভয় দেখাবে। সময়ই বলে দেবে কে কার দায়িত্ব নেয়। আমি আর ভয় পাই না। সময়ের হাতেই সব ছেড়ে দিয়েছি।’
অপু আরও বলেন, ‘ওকে ভালোবেসে সব দায়িত্বই আমি পালন করেছি প্রেমিকা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে। আমার পক্ষে আর গোপনে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। সন্তানের স্বার্থেই আমাকে প্রকাশ্যে আসতে হলো।’ অপু বিশ্বাস জানান, আজ রাতে তার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন । সেখানে জানাবেন আরও অনেক অজানা কথা।

এদিকে শাকিব খান আগামীকাল ১১ এপ্রিল সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসবেন এব্যাপারে কিছু বলার জন্য। 

কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট এলাকায় মৃত নবজাতক শিশু উদ্ধার

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার হাউজিং এস্টেট এলাকায় কুমিল্লা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোডের উত্তর পাশে কাটুর্নের ভেতর কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতক শিশু মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে স্থানীয়রে দেখে পুলিশে খবর দিলে কোতয়ালী থানা পুলিশ শিশুটির মৃত দেহ উদ্ধার করে। 
স্থানীয়রা জানায়, কে বা কাহারা আজ  (১০ এপ্রিল) ভোরে ড্রেনের পাশে এই শিশুটিকে কার্টুনে করে রেখে গিয়েছে তা আমরা দেখতে পাইনি। এক টুকাই মহিলা কাটুনটি দেখে ড্রেন থেকে তুলে নেওয়ার জন্য কাটুনটি টেনে উপরে তুলা মাত্র সে কার্টুনের ভিতর এই শিশুটিকে দেখতে পায় এবং সাথে সাথে চিৎকার করে উঠলে আশে পাশের লোকজন দৌড়ে আসে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম মিয়া ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে নিয়ে যায়।  স্থানীয়রা ধারণা করছে শিশুটি জারজ সন্তান তাই কে বা কাহারা শিশুটিকে এখানে কাপড় দিয়ে বেধে কার্টুনে করে রেখে গিয়েছে। 
এব্যাপারে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। 

কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি মহোদয়ের আস্থাভাজন বিশিষ্ট সমাজসেবক, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কুমিল্লা জেলা শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল কাদের ভাইকে আসন্ন সদর উপজেলার উপ-নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দেখতে চাই।


সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্যেও ফসলী জমি বসতবাড়ীর সাথে ইটভাটার মহোৎসব

বশিরুল ইসলাম: 
পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা ফসলী জমি ও বসতবাড়ীর সাথে ইটভাটার স্থাপনে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও ফসলী জমি ও মানুষের বসবাসের স্থানে ইটভাটার মহোৎসবে মেতে উঠেছে একটি চক্র। কুমিল্লা জেলার ১৬টি উপজেলায় মোট নিবন্ধনকৃত ইট ভাটার সংখ্যা ৩১৭টি এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলায় ৩৯টি, সদর দক্ষিণ উপজেলায়-৩১টি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়-৪৯টি, মুরাদনগর উপজেলায়-৫০টি, নাঙ্গলকোট-২৩টি, লাকসাম-১২টি, মনোহরগঞ্জ-৬, ব্রাহ্মনপাড়া-৯টি, দেবিদ্বার-২৩টি, বুড়িচং-২৫টি, তিতাস-৮টি, চান্দিনা-২০টি, বরুড়া-১৩টি, হোমনা-২টি, দাউদকান্দি ৬টি ও মেঘনা ১টি। কিন্তু সাধারণ মানুষের ধারণা উল্লেখিত সংখ্যার অধিক ইটভাটা রয়েছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। 

মাঠ পর্যায়ে কোন রকম পর্যবেক্ষন ছাড়াই ইটভাটার অনুমোদন ও নবায়ন করে দিচ্ছে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তি। সরকার যেখানে ২০২১ সালের মধ্যে দুষনমুক্ত বসবাসযোগ্য একটি সুস্থ্য, সুন্দর ও নিরাপদ মডেল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের খামখেয়ালীপনা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলে। পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিধি বিধানের সুষ্ঠ ও যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সকলকে যেখানে উদ্বুদ্ধ করা কথা সেখানে তাদের তেমন কোন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের চোখে পড়ছে না। সরকার যেখানে পরিবেশ সংরক্ষন ও উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে চায় সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। দুষন ও অবক্ষয়মূলক কর্মকান্ড সনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা যাদের দায়িত্ব অথচ তারা নিয়ন্ত্রনহীন ভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে ইটভাটা গুলোকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে। সকল প্রকার দুষণ ও অবক্ষয়মূলক কর্মকান্ড সনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যাদের দায়িত্ব অথচ তারাই দায়িত্বহীনতার কাজ করে। তাই সাধারণ মানুষের দাবী দেশের সামগ্রিক পরিবেশ সংরক্ষন ও পরিবেশগত মান উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশ আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। সকল ক্ষেত্রে পরিবেশ সম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে, নাগরিকগনের প্রতি সততা, শুদ্ধতা এবং স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সব সময় পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও মনিটরিং করতে হবে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেনা। কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ ।

দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবাদি জমির ইট ভাটা লোকালয়ে অবস্থিত হওয়ায় ইট ভাটার কালো ধুয়ায় পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। নির্গত ধোয়ার কারণে পাশ^বর্তী ফসলের ক্ষেত ও জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফসলি আবাদি জমির উপর ঘরে উঠেছে অসংখ্য ইটভাটা। পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র ধ্বংস করে ইটভাটা গুলোতে পুরোদমে চলছে ইট তৈরি ও পোড়ানোর কাজ। জমির প্রাণ নষ্ট করে তোলা হচ্ছে টপসয়েল। প্রয়োগ হচ্ছে না পরিবেশ আইন। হারাচ্ছে জমির উর্বরতা। হ্রাস পাচ্ছে উৎপাদন ও আবাদি জমির পরিমান। সোনার টুকরো ফসলি জমি নষ্ট করে ও দখলে নিয়ে চলছে ইটভাটার কাজ। পরিবেশ বাচাও ফসলি জমি বাচাও  এমন স্লোগান নিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন, কাষ্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল সংযোজন কর (মুসক) আর পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অমান্য করার কড়া নজরদাড়ির চিঠি পত্র জারি করা হলেও তা সাধারন মানুষের উপর বাস্তবায়িত হচ্ছে কিন্তু মানছেনা ইট ভাটার মালিকগন। এছাড়া ব্রিক ফিল্ডের মালিকদের বিরুদ্ধে ইট ভাটা ও সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারকে অভিনব কায়দায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিত, ক্রেতাকে ঠকানোর অভিনব কায়দা করার অভিযোগ প্রতিনিয়ত।

ভাটায় কর্মরত শ্রমিকরাও ধুলো আর ধোয়ার কারণে স্বাসকষ্ট সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আইন অমান্য করে বসতবাড়ীর মাঝে ও কৃষি জমিতে গড়ে উঠা এসব ইট ভাটার ফলজ বৃক্ষ ধ্বংস ও পরিবেশ দূষণ করছে। ইটভাটার মালিকগন জমির মালিকদের টাকার লোভ দেখিয়ে আবাদি জমির টপসয়েল ক্রয় করছে। ভাটার ধোয়ায় পরিবেশ দুষনের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মচারী এই ধরনের কাজে জড়িত বলে দাবী সাধারণ মানুষের। জানা যায়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন অনুযায়ী ইট ভাটা স্থাপনের জন্য ভূমি ব্যবহারের দিক নির্দেশনা মূলক সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত আইন অনুযায়ী ইটভাটা স্থাপনের জন্য কেবল অকৃষি জমি ব্যবহার করা যাবে। অথচ ইট ভাটা দুই তিন ফসলী জমির উপর গড়ে উঠেছে। এই ইটভাটা কয়েক একর জমি দখলে নিয়েছে। এছাড়া ও ভাটার আশে পাশের কয়েক একর জমি ইটভাটার কারণে উর্বরতা হারাচ্ছে। আবাদি বা ফসলী জমির পাশে ইট ভাটা গড়ে উঠায় ভাটার নি:সৃত ধোয়ায় পাশ^বর্তী জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শীতকালীন সবজি লাউ, টমেটো, মুলা ও চলমান মৌসুমের সবজি সমূহ নষ্ট হয়ে যায়। জমির অন্যান্য ফসল গুলোতে ও আশানুরুপ ফলন পাওয়া যায়না। এছাড়াও ইটভাটা সংলগ্ন এলাকাগুলোর আম, কাঠাল, পেয়ারা ও কলা সহ বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছে ফল ধরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে কৃষি নির্ভর দেশে আবাদী জমি ও বনভূমি উজাড় এবং পরিবেশ দূষণের কবলে পড়ে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এব্যাপারে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দেশের আবাদী জমি বনভূমি ও পরিবেশকে মারাত্মক বিপর্যের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে একমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরে নিকট  সাধারণ লোকজন অভিযোগ নিয়ে গেলে জনবল সংকট দেখিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয় অথবা অনেক অনুরোধের প্রেক্ষিতে আবেদন করা হলে ও তা কখনো সরেজমিনে পরিদর্শণ করা হয়না বা অনেক গুলোর মধ্যে দুয়েকটা। তাও যাতায়াত খরচ বা বিভিন্ন খরচ দিতে হয় গোপনীয়ভাবে। সাধারন মানুষ ইটভাটা বন্ধের আবেদন করে ও কোন রকম প্রতিকার পাচ্ছেনা। অথচ ইটভাটা আইন এবং নীতিমালা সরকারের জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে ১৯৮৪ সালের ইটভাটা বন্ধের আইনে যে কোন কৃষি জমি, আবাসিক এলাকা, পৌর এলাকায় কোন অবস্থাতেই ইটভাটা স্থাপন করা যাবেনা এবং মাটি সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোন কৃষি জমির উপরি ভাগ কেটে ওই মাটি ব্যবহার করা যাবে না। ইটভাটার অনুমতির ক্ষেত্রে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের পাশাপাশি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, বন ও পরিবেশ বিভাগ, কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যয়ন পত্র গ্রহন করতে হবে। ইট ভাটায় কোন অবস্থাতেই কাঠ, টায়ার এবং পরিবেশ দুষিত হয় এমন কোন কিছু পোড়ানো যাবেনা। আইন অমান্যকারীদের জন্য নূন্যতম দুই বছরের জেল ও জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দন্ড আরোপ করে সংশ্লিস্ট ইটভাটা বন্ধ করে দেয়ার কথা আইনে বলা হয়েছে। কিন্তু এই নীতি মালার কোনটির প্রয়োগ নেই কুমিল্লায়। ইটভাটা গুলো সরকারকে কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় সুকৌশলে কর ফাকি ভ্যাট ফাকি দিচ্চে বলে জানা গেছে। পরিবেশ বিদদের মতে কৃষি জমিতে ইটভাটা করা যাবেনা। সেই সাথে জনবসতির ৩কি: মি: মধ্যে ইটভাটা না করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও রয়েছে। তাদের মতে আবাসিক সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা সিটিকর্পোশেন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়রন্য বাগান ব জলাভূমি, কৃষি প্রধান এলাকা এবং পরিবেশ সংকটপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবেনা। কিন্তু কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সহ জেলার বিভিন্ন পৌরসভা এলাকায় রয়েছে শতাধিক ইটভাটা। ইটভাটার মালিকদের আইন অমান্য করার সুযোগ করে দিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ফসলি জমির উপরিভাগ কেটে নিলে ফসলের প্রধান খাদ্য নাইট্রোজেন, পটাশ, জিংক, ফসফরাস, সালফার, ক্যালসিয়ামসহ অর্গানিক বা জৈব উৎপাদনের জন্য অপূরনীয় ক্ষতি হচ্ছে। ফসলি জমিগুলো ভবিষ্যতে বন্ধ জমিতে পরিণত হবে এবং বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দিবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইটভাটার মালিক জানান, আমার ইটভাটায় পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তর  এজন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়েছে। তাদেরকে ম্যানেজ না করলে আমার ইটভাটা বন্ধ করে দিবে। তাদের কাছে আইনের শেষ নাই ইটভাটা সরিয়ে নিতে হবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই রকম শর্ত দিয়ে দিয়েছে তারপরেও চালিয়ে আসছি। কি করব ভাই অনেক টাকা মূল ধন এছাড়া উপায় ন্ইা। অন্য একজন জানান, স্যার কয়েক বছর আগে এসেছিল এখন আর আসে না অফিসের লোক আসে তাকে গাড়ীভাড়ার খরচ দেই তিনিই সব ব্যবস্থা করে দেন। 

 উল্লেখ্য বিশ^ব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনবরত পরিবেশ দূষণের কারণে অন্যান্য বিষয় সহ জলবায়ুর পরিবর্তন পৃথিবীর বুকে জীবনের জন্য মারাত্মকভাবে ঝুকিপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে। সারা পৃথিবীর পরিবেশবিদরা বিশ^নেতাদের কাছে পরিবেশ দূষণ ও পরিবেশ সংরক্ষন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলির উপর দৃষ্টি আকর্ষণ করা চেষ্টা করে আসছে। বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট পরিবেশ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে । শুরুতে মাত্র ২৭জন জনবল নিয়ে জনস্¦াস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাংলাদেশে পরিবেশ বিষয়ক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে পরিকল্পনা কমিশনের অধীনে একজন সদস্যের নেতৃত্বে ২৬জন জনবল নিয়ে পরিবেশ দুষণ নিয়ন্ত্রন সেল গঠিত হয় এবং একই বছর পরিবেশ দুষণ নিয়ন্ত্রন প্রকল্প গ্রহন করা হয়। ১৯৮৫ সালে দুষণ নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ও ১৯৮৯ সালে পুনরায় নাম পরিবর্তন করে মহা পরিচালকের নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তর নামকরণ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া, বরিশাল, এবং সিলেট মোট ৬টি বিভাগীয় অফিসের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে আসলে ও ২০১০ সালে সরকার ২১টি জেলা অফিসের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে ৪৬৮টি নতুন পদ সৃষ্ট করে। বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবল সাড়ে সাত শতের অধিক। কিন্তু তারপরেও  সঠিকভাবে পরিবেশ সংরক্ষন ও পরিবেশ দূষনের বিষয় গুলো ভাল ভাবে দেখাশোন করা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের অভিমত সরকার যেখানে বিশ^ জলবায়ু বিপর্যয়ের হাত থেকে বাংলাদেশকে বাচানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বেতন নিচ্ছে। পরিবেশ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন কাজই তারা করছে না। বরং তারা পরিবেশ দুষিত হয় এমন কাজই টাকা হলে করার সুযোগ করে দিচেছ। কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তর সম্পর্কে এমনটিই ধারনা সাধারণ মানুষের।

মোশারফ হোসেন নামে একজন অভিযোগ পত্র দিয়ে বলেন ভাই আমার বাড়ীর দুই পাশে দুইটি ইটভাটা আমি জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করলে স্যার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরে আমি গেলে স্যার বিরক্ত অনুভব করে। স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলে এটা জেলা প্রশাসক দেখবে আমি দেখতে পারব না। আামি অভিযোগ পত্র প্রত্যাহার করেছি। 

চান্দিনায় ড্রেজার দিয়ে সরকারি খাল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি, প্রশাসন নিরব।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার ৫নং কেরণখাল ইউনিয়নের দোতলা গোবিন্দপুর মৌজায় দোতলা এলাকায়  সরকারি খাল ও খালের পার ড্রেজার দিয়ে গভীরভাবে কেটে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি করছে দোতলা গ্রামের মৃত হানু মিয়ার ছেলে আবুল হাসেম ওরফে হাসেম মোল্লা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,
আবুল হাসেম ওরফে হাসেম মোল্লা ৪৫শতক খাস জমি সহ সরকারি খাল এবং খালের পার ড্রেজার দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে লক্ষ লক্ষ টাকা বিক্রি করছে। এলাকার কিছু লোক তার নিকট থেকে টাকা নিয়ে তাকে এ কাজে সহযোগীতা করছে। এব্যাপারে প্রশাসনকে জানানোর পরে ও প্রশাসন এসে দেখে হাসেম মোল্লাকে খাল ভরাটের নির্দেশ দিয়ে চলে যায় কিন্তু দীর্ঘ অনেক দিন পার হলেও হাসেম মোল্লা খাল ভরাট করেনি বরং সে খালের আশে পাশের লোকদের হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। সে এলাকায় স্থানীয় চেয়ারম্যান মহোদয় এবং দোতলার মাদ্রাসার শিক্ষক সাত্তার সাহেবের দোহাই দিচ্ছে। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষক সাত্তার সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বীকার করে বলেন আমি এসব কাজের সাথে জড়িত নই আমার নাম ভাঙ্গিয়ে থাকলে সে এটি ঠিক করে নাই আমি কখনো একাজের সাথে জড়িত ছিলামনা বর্তমানে ও নাই। এদিকে চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও তাকে পাইনি।

এ ব্যাপারে চান্দিনা সহকারী কমিশনার ভূমি মো: আমিনুর রহমান জানান, আমি খালটি ভরাটের নির্দেশ দিয়েছে। সে খালটি আস্তে আস্তে ভরাট করছে। কেরণখাল ইউনিয়নের ভূমি সহকারীকে কাজটি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছে । প্রয়োজনে আমি সহ আপনি এক সাথে গিয়ে ভরাট করা হয়েছে কিনা দেখে আসব।


চান্দিনা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন

বশিরুল ইসলাম:
চান্দিনা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। চান্দিনা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মুন্সীকে আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন কে প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শুহিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইমাম হোসেন সরকারকে ২য় যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। গত ২৯ মার্চ বুধবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মো: ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন রশিদ এই কমিটি অনুমোদন করেন। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন মো. জসিম উদ্দিন, মো. মনির খন্দকার, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান শরীফ, ইঞ্জিনিয়ার মো: নাজমুল হাসান, কাউন্সিলর মো: আব্দুস সালাম, কাউন্সিলর মো: দুলাল হোসেন, কাজী তোফায়েল আহমেদ জনি, মো: জুয়েল মুন্সী, মো: মোস্তফা কামাল, মো: জহিরুল ইসলাম জাবেদ, মো: কামাল হোসেন, গাজী মো: ছাদেক হোসেন, মো: নাজমুল হাসান স্বপ
ন, মো:কাউছার আহমেদ, মো: সোহেল রানা, মো: ছিদ্দিকুর রহমান ছোটন, মো: মেহেদী আল আমিন খান সজীব, মোসা: নাছরিন আক্তার। 

চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে মো. গিয়াস উদ্দীন কে ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত করায় অধ্যাপক আলী আশ্রাফ এমপি ও মুনতাকিন আশরাফ টিটু ভাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


কুসিক নির্বাচনে ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা মহড়া ছিল নজরকাড়ার মত।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ৩০ মার্চ ২০১৭ ইং তারিখ নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা মহড়া ছিল চোখে পড়ার মত। ঐ দিন সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোডে হাউজিং এস্টেট এলাকায় তাদের মহড়া আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সাইরেন বাজিয়ে দ্রুতবেগে যাচেছ সামনে ফায়ার সার্ভিসের লোগো সহ সাথে ফায়ার রেসকিউ ও শান্তি সেবা ত্যাগ লেখা সম্বলিত স্টিকার যুক্ত মোটরসাইকেলের পিছনে ছিল ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী । মহড়ায় নেতৃত্বে ছিলেন কুমিল্লা ইপিজেড ফাড়ির সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম  সাথে ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। 

সন্তান সংসারের ফুল

বশিরুল ইসলাম: 
 Ibne Bashirযে বাগানে ফুল নেই, যে নদীর ঢেউ নেই, যে বসন্তে কোকিলের গান নেই, সেই শুষ্ক বাগান, মরা গাঙ আর অবেলার বসন্ত আমাদের মনে দোলা দেয় না। এমন বাগান নদী ও বসন্ত কাছে টানে না। আমাদের হৃদয় পড়ে থাকে ফুলে ফুলে, পথে প্রান্তরে । বন বাদর আর নদীর ঢেউয়ে। পাখির সুর, ভ্রমরের গুণগুণ, শিশিরের জল, অবারিত জোছনা আমাদের পুলকিত করে। জীবন সংসারে সন্তানই ফুল। শিশুরা পাখি। ওদের কান্নাই নদীর ঢেউ। ভ্রমরের গান। শিশুর আদর সোহাগে আছে জোছনার আকুলতা ও তারার বেদনা। সন্তানের নরম গালে চুমুর আলপনা পৃথিবীর সব সুখ শান্তি ও বেদনা কাব্যের চিত্রকল্প। সন্তান স্বর্গের উপমা। জান্নাতের প্রজাপতি। সন্তানের প্রতি মোহাচ্ছন্ন ভালবাসা, হৃদয় নিঙড়ানো আলতো আদর ও ইবাদত মানে ইসলাম। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ধন ঐশ্বর্য ও সন্তান-সšুÍতি পার্থিব জীবনের অলংকার-শোভা। সুরা কাহাফ : ৪৬
কোরআন আরও বলছে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তায়ালারই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। সুরা শুরা : ৪৯-৫০
জীবন গাঙে ভরা বর্ষার পূর্ণতা দেয় সন্তান। পরস্পরের আবেগ উচ্ছ্বাস ও ভালবাসার মোহনা এই আদরেরা। কোরআন আমাদের শিখিয়েছে সন্তানের আকুলতা। প্রভুর কাছে সন্তানের আবেদন। হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা বানিয়ে দাও এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের জন্যে আদর্শ স্বরূপ কর। সুরা ফুরকান: ৭৪
আরও বর্ণিত হয়েছে, হযরত জাকারিয়া (আ:) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, হে আমর রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। সুরা আল-ইমরান : ৩৮  আমাদের প্রিয়নবী ও মানবতার পতাকাবাহী হজরত মুহাম্মদ (সা:) শিশুদেরকে জান্নাতের প্রজাপতি বলে উপমা

দিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা সূত্রে বর্ণিত মহানবী সা. বলেন, তোমাদের শিশুরা জান্নাতের  প্রজাপতি। ইমাম বুখারি, আল আদাব আল মুফরাদাত , নবীজি আরও বলেছেন, তোমরা শিশুদের ভালবাস এবং তাদের প্রতি দয়া করো। তাদের সঙ্গে কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে পূর্ণ করো। তাদের কল্যাণে তোমরা রিজিক পেয়ে থাকো বলে জেনে রাখো। বুখারি মুসলিম
সন্তানের হাসিতে আলোকিত হোক আমাদের ভোর। রাতের নরম আলোয় জ্বলজ্বল করুক শিশুদের দাঁত। জীবন সংসারে ছড়িয়ে পড়ুক শিশুর দুত্যিময় হাসি।
পশ্চিমা প্রীতি যেন আমাদের পেয়ে না বসে। আমাদের পবিত্র কোলে যেন জায়গা করে না নেয় কুকুর-বিড়াল। পশ্চিমারা কুকুরের বিয়ে দেয়, নিজে সাজে কুমারী মাতা। থাকার ঘরে বাস করে কুকুর, শিশু কাদে ডে-কেয়ারে। অভাগা জননী রাজপথে অধিকারের লড়াই করে, স্বাধীনতার আত্মচিৎকার করে, তার সন্তানই জন্মের ভোর থেকে আদর সোহাগ পাওয়ার অধিকার হারিয়ে গুমরে কাঁদে। কুকর বিড়াল নয়; সন্তানই আলোকিত করুক সংসার, জীবন। শিশুর হাসিতে সুগন্ধময় হোক ঘর। সংগৃহীত

আমি সেই ‘সামান্য একজন নার্স’ নার্সের এই হৃদয় বিদারক পোস্ট ইন্টানেটে ভাইরাল!

বশিরুল ইসলাম: 
অস্ট্রেলিয়ার এক নার্সের হৃদয় বিদারক পোস্ট ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে! টুইটারে এই পোস্টের পর হাজারও মানুষ তাকে স্যালুট জানিয়েছেন। কেউ তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। তার এ পোস্টের পর হাজার হাজার মানুষের নার্সের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়েছে। হাসপাতালে মৃত্যু পথযাত্রী রোগীকে রাতদিন সেবা করে সুস্থ করে তোলেন নার্সরা। কিন্তু রোগী সুস্থ হলে দিন শেষে তার পুরো কৃতিত্ব পান ডাক্তার। নার্সদের কথা কারো মনেই থাকে না। সবাই মনে করে নার্স তো তেমন কিছুই জানে না। সে তো ‘সামান্য একজন নার্স’। কটুক্তি সইতে না পেরে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এক নার্স টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছেন। যেখানে তার মনের সকল ক্ষোভ উঠে এসেছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এক নার্স একটি আবেগঘন স্মৃতি টুইটার পোস্ট করে।  আর সেই পোস্ট পড়ে অনেক ইউজার নার্সকে স্যালুট জানিয়েছেন। অনেক ইউজার নার্সদের ছোট করে দেখার জন্য তার কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
টুইটারে পোস্ট দেওয়া ওই নার্সের নাম কাইটলিঙ্ক ব্রাসিংটন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের টোয়াম্বার এক হাসপাতালে চাকরি করেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে নার্সের চাকুরি করছেন । সম্প্রতি তার এক প্রতিবেশীর কাছে থেকে তিনি অপ্রীতিকর আচরণের শিকার হয়েছেন। আর তাই মনের দুঃখে এমন হৃদয়বিদারক পোস্ট দিয়েছেন। “আমি সামান্য একজন নার্স। প্রতিদিন সকালে নিজের সাধারণ নার্সের পোশাকটি গায়ে পরে ব্যস্ত হাসপাতালে ছুটে চলি। প্রতিদিনের মত আজও আমি হাসপাতালে বের হয়েছি। রাস্তার পাশের এক দোকানে গুঁড়ো দুধ কেনার জন্য দাঁড়ালাম। সেখানে এক প্রতিবেশীর সাথে দেখা হলো। আমাকে দেখে তিনি চমকে উঠলেন। তিনি বললেন, আমাকে কোনদিন নার্সের পোশাকে দেখেননি তিনি। আমি যে ‘সামান্য একজন নার্স’ তিনি সেটি জানতেন না। তাই আজ আমাকে নার্সের পোশাকে দেখে বুঝতে পারলেন আমি ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি আজ প্রায় ১৮ বছর ধরে নার্সের চাকরি করি। ‘নার্স’ শব্দটি আমি অনেকবার শুনেছি। আজকের শব্দটা শুনে আমার হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠলো। আজকে জানতে পারলাম, ‘আমি দুই টাকার সামান্য একজন নার্স।’ ‘আমি একজন নবজাতককে এই পৃথিবীতে আসতে সাহায্য করি। কোন কোন সময় নবজাতকের মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস দিয়ে তাকে প্রথম নিঃশ্বাস নিতে সাহায্য করি। অথচ আমি ‘একজন সামান্য নার্স’। ‘আবার একজন মৃত্যু পথযাত্রী আমার হাত ধরে পৃথিবীর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। আমি তার ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ না করে তাকে পরিস্কার পরিছন্ন করি। তারপর সম্মানের সাথে পরিবারের হাতে তুলে দেই। অথচ ‘আমি একজন সামান্য নার্স’। ‘আমি সন্তান হারানো বাবাকে শান্তনা দেই। গর্ভধারিনী মা আমার বুকে মাথা রেখে অশ্রু ফেলে। আমি তার শরীরে হাত বুলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও তার কষ্ট ভোলাতে সাহায্য করি। কিন্তু ‘আমিই সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি রোগীর সিপিআর (কার্ডিওপুলমোনারী রিসেসসিটেশন) করে তার জীবন ফিরিয়ে আনি। নতুন করে তাকে বাঁচার স্বপ্ন দেখাই। আমি সেই ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি মেডিকেল অফিসারের চোখ, কান ও হাতের কাজ করি। তারা আমার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে আপনাকে ওষুধ দিয়ে সারিয়ে তোলেন। অথচ আমি ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি একজন নবজাতকের বুকে কান দিয়ে তার ফুসফুসের শব্দ শুনতে পাই। তার কোন অঙ্গের অবস্থা কেমন আছে তা জানতে পারি। তা জেনে তার পরিচর্যা শুরু করি। আমি সেই ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি রোগী, পরিচর্যাকারী ও জুনিয়র নার্সদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি। অথচ আমি ‘সামান্য একজন নার্স’।  ‘একজন রোগীর স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্ষেত্রে আমি তার উকিলের কাজ করি। আমার কাছে সবার আগে গুরুত্ব পায় আমার রোগীর সুস্থতা। রোগীকে সুস্থ করার জন্য আমি ডাক্তারের সাথে যুদ্ধ করি। অথচ আমি ‘একজন সামান্য নার্স’। ‘আমি আপনার বাবা মা বা আদরের সন্তানের সেবা করতে গিয়ে নিজের বড়দিন পালন করতে পারি না। আমার সন্তানদেরও জন্মদিন পালন করতে পারি না। অথচ আমি ‘খুব সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি রোগীর শরীরে রক্ত দিতে পারি। রক্ত চেকআপ করতে পারি। ছোটখাটো কাটাছেঁড়াও করতে পারি। ক্ষত স্থান সেলাই করতে পারি। অথচ ‘আমি সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি নবজাতক, শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক সবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট পরিচালনা করতে পারি। তা সত্বেও ‘আমি সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি আপনার শিশুর বৃক্করসের ওষুধের ডোজ দিতে পারি। যাতে আপনার শিশুর জীবন বাঁচে। তা সত্বেও ‘আমি সামান্য একজন নার্স’। ‘আমার এতদিনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষের জীবন বাঁচছে। প্রতিদিন জরুরী রোগীদের সেবার করার জন্য দুপুরের খাবার সময় মত খেতে পারি না। অথচ আমি ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘এতকিছুর পরও যদি আমি ‘সামান্য একজন নার্স’ ই হই তাহলে হাস্যকরভাবে আমি খুবই গর্বিত। আমি গর্বিত এই ভেবে যে আমি ‘একজন সামান্য নার্স’।”