অপহরনের ৪ দিনেও সন্ধান মিলেনি রবিউল

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা থেকে অপহরণ হওয়া রবিউল আউয়ালের (২৫) এখনো কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। অপহরণের পর  ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। গত ২৬ নভেম্বর রাত ১২টায় পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে জানায় স্বজনরা। উক্ত ঘটনায় সদর দক্ষিণ থানায়  ২৭ নভেম্বর একটি নিখোজ ডায়েরী করে রবিউল আউয়ালের স্ত্রী মোসা: খাদিজা আক্তার(২৪) ডায়েরী নং-১৮০০। রবিউল আউয়াল চান্দিনা থানার গল্লাই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে সে কুমিল্লা মহানগরীর ২য় মুরাদপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। 

জানা যায়, রবিউল আউয়াল অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডিএনএন-এ লেখা কপি পেস্ট ও লেখা সংশোধনের করে পোস্ট করতো মাসে ১২হাজার টাকা বেতনে। গত দুই বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত রবিউল। অভাব অনটনের সংসারের অল্প শিক্ষিত ছেলেটি বেশি দূর লেখা পড়া করতে না পারলে ও সে লেখা কপি, পেষ্ট করার কাজে ছিল অভিজ্ঞ। বিভিন্ন নিউজ পোর্টালের সাইট থেকে লেখা কপি করে তা সংশোধন করে গুছিয়ে ডিএনএন সাইটে প্রকাশ করতো। যে সাইটে লেখা প্রকাশ করা হতো সেই সাইটের  কর্তৃপক্ষ তাকে মাসে বেতন দিতো। তবে ঐ দিন ২৬ নভেম্বর তার ইন্টারনেট সংসোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ডোজ ইন্টারনেটকে ফোন দিলে তারা আসে এবং তাকে সংযোগ দেওয়ার কথা বলে বাসা থেকে ফোন করে নিয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার পর  তাকে একটি হাইয়েক্স গাড়ীতে রেখে তার তথ্য মতে বাসায় এসে একটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করলে তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ভাষায় কথা বলে এবং গালমন্দ করে হুমকি দেওয়া হয় তাদেরকেও তুলে নিবে। পরের দিন সকালে বিষয়টি সদর দক্ষিন থানায় জানালে তারা একটি নিখোজ ডায়েরী করার পরামর্শ দেন এবং সেখানে একটি নিখোজ ডায়েরী করা হয়। 

রবিউলের স্ত্রী খাদিজা জানান, আমাদের ইন্টারনেট কানেকশান কে বা কাহারা কেটে দেয়। পরে ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য ডোজ ইন্টারনেট কোম্পানীতে ফোন দিলে তারা লোক পাঠায়। তাদের লোক এসে আমার স্বামীকে ফোন করে এবং বলে তারা ইন্টারনেট কানেকশান দিতে এসেছে। আমার স্বামী নিচে গেলে তারা আমার স্বামীকে সেখান থেকে গাড়ীতে নিয়ে যায় এবং পরে আমার বাসায় এসে আমাদের ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় টাকা গুলো ফেরত দিয়েছে। 
রবিউলের মা ডলি জানান, আমার ছেলেকে পুলিশের পরিচয় দিয়ে নিয়ে গেছে চারদিন পেরিয়ে গেল কিন্তু তার কোন সন্ধান পাইনি। কুমিল্লা ডিবি অফিস, র‌্যাব অফিস সহ অনেক জায়গায় খুজেছি কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারেনি। আমার ছেলে কি অবস্থায় আছে আমি জানিনা। আমার ছেলে কোন অন্যায় করে থাকলে তার বিচার হউক কিন্তু তাকে কোথায় নিয়ে গেল তা জানতে পারিনি। 

উক্ত ঘটনায় সদর দক্ষিন থানার রবিউল নিখোজ ডায়েরীর তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শ্যামল বড়–য়্ াজানান, আমাদের থানায় নিখোজ ডায়েরী হওয়ার পর থেকে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি । আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

সদর দক্ষিণ থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 


সিজারে দুই নবজাতকের মৃত্যু। হাসপাতালের মালিকসহ ডাক্তার পলাতক।

দুই প্রসুতি আশংকামুক্ত নয়। 
বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লায় একদিনে একই হাসপাতালে দুই প্রসূতিকে সিজার করতে গিয়ে দুই শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। জেলার চান্দিনা থানার বরকরই ইউনিয়নের দোল্লাই নবাবপুর বাজারের পশ্চিম পাশে হালিমা মার্কেটে অবস্থিত নাহার কলসাল্টেশন সেন্টার হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা শিশু দুটি হত্যার অভিযোগে হাসপাতাল ভাংচুর করেছে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঐ হাসপাতাল থেকে হাসপাতালের আয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। হাসপাতালের মালিকসহ ডাক্তার দ্রুুত পালিয়ে গিয়েছে। 

জানা যায়, ঐ ভুয়া ডাক্তারে প্রকৃত নাম রাশেদা আক্তার। কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের ডা: কামরুন নাহারের নাম ব্যবহার করে মূলত এই পেশায় কাজ করছে সে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসেও ইলিয়টগঞ্জ এলাকা থেকে ভুয়া চিকিৎসার কারণে আটক হয়েছিল। আটকের পর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ও মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।  ২০১৭ সাল থেকে নবাবপুর বাজারে রোগী দেখে এবং সেখানে মহিলাদের সিজার করে আসছে। প্রকৃত পক্ষে রাশেদা আক্তার একজন আল্ট্রার উপর প্রশিক্ষন প্রাপ্ত। সে কুমিল্লা ঠাকুর পাড়া প্যারামেডিকেল থেকে চিকিৎসার উপর প্রশিক্ষন গ্রহন করেছেন। প্রশিক্ষনের পর থেকে সে প্রথমে নবাবপুর মেডিকেল সেন্টারে কাজ করতো।  গতকাল বৃহস্পতিবার   সাহিনা আক্তার ও লাকী আক্তার নামে দুই প্রসুতিকে সকাল ১১টা থেকে সিজার করতে গিয়ে ২টা পর্যন্ত সিজার করেন। সাহিনা আক্তার চান্দিনা থানার গল্লাই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী। লাকী আক্তার নবাবপুর ইউনিয়নের ভাগুড়াপাড়া গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। ২ নবজাতকের মৃত্যু
র পরেও দুই প্রসুতি এখনো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ শহর থেকে দুরে মফস্বলের এসব প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে ভুয়া ডাক্তার, নার্স আর টেকনিশিয়ানদের দিয়ে চালানো হয়। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব করছে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি। এ হাসপাতালে পূর্বে ও এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর বিভিন্ন নেতাদের ভয় দেখিয়ে এবং প্রভাশালীদের দাপুটে ম্যানেজ করে ফেলা হয় রোগী ও রোগীর স্বজনদের। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এরকম ভুয়া ডাক্তার, হাসপাতাল, ক্লিনিক প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে আসছে সাধারণ জনগনের সাথে। 

উক্ত ঘটনায় চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে আমি ও থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হাসপাতাল মালিক ও ডাক্তার পলাতক রয়েছে। আমরা হাসপাতালের আয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। থানায় এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। 

আপেল মাহমুদ ঢাকা ট্যুরিষ্ট পুলিশে এসপি হিসেবে যোগদান।

বশিরুল ইসলাম:

পিবিআই পুলিশের পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদকে ঢাকা ট্যুরিষ্ট পুলিশের পুলিশ সুপার পদে পদায়ন করা হয়েছে। এর পূর্বে তিনি পিবিআই পুলিশের কুমিল্লায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি

পিবিআই পুলিশের সদর দপ্তরে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়াও তিনি সুদান মিশনে ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। ভারত, ইন্দোনেশিয়া সহ দেশ বিদেশে প্রচুর সংখ্যক প্রশিক্ষন সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরের ২৫ তারিখ তিনি কুমিল্লা পিবিআই পুলিশে যোগদানের পর  ২৫ অক্টোবর ২০১৭ ইং পর্যন্ত   ১বছর সময়ে  ২১৭টি টিসিআর মামলা এবং ১৩৫টি টিজিআর মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। কুমিল্লা দায়িত্ব পালনকালে তিনি বহুসংখ্যক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন,  উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক ধর্ষন মামলার ভিকটিম উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতার, জঙ্গী বিরোধী কার্যক্রমে অংশগ্রহন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ তদারকির মাধ্যমে অধিক সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। কর্মের স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি পর পর দুইবার আইজিপি ব্যাচ পুরুস্কার প্রাপ্ত হন। 
উল্লেখ্য গত বুধবার ১১ এপ্রিল  রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখার উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার ৬ কর্মকর্তাকে রদবদল ও ১৯ জন পুলিশ সুপারকে বদলি ও পদায়ন  করা হয়েছে। 
ঢাকা ট্যুরিষ্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো: আপেল মাহমুদ মুঠোফোনে সকলের নিকট দোয়া ও সহযোগীতা চেয়েছেন।