সিজারে দুই নবজাতকের মৃত্যু। হাসপাতালের মালিকসহ ডাক্তার পলাতক।

দুই প্রসুতি আশংকামুক্ত নয়। 
বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লায় একদিনে একই হাসপাতালে দুই প্রসূতিকে সিজার করতে গিয়ে দুই শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। জেলার চান্দিনা থানার বরকরই ইউনিয়নের দোল্লাই নবাবপুর বাজারের পশ্চিম পাশে হালিমা মার্কেটে অবস্থিত নাহার কলসাল্টেশন সেন্টার হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা শিশু দুটি হত্যার অভিযোগে হাসপাতাল ভাংচুর করেছে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঐ হাসপাতাল থেকে হাসপাতালের আয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। হাসপাতালের মালিকসহ ডাক্তার দ্রুুত পালিয়ে গিয়েছে। 

জানা যায়, ঐ ভুয়া ডাক্তারে প্রকৃত নাম রাশেদা আক্তার। কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের ডা: কামরুন নাহারের নাম ব্যবহার করে মূলত এই পেশায় কাজ করছে সে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসেও ইলিয়টগঞ্জ এলাকা থেকে ভুয়া চিকিৎসার কারণে আটক হয়েছিল। আটকের পর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ও মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।  ২০১৭ সাল থেকে নবাবপুর বাজারে রোগী দেখে এবং সেখানে মহিলাদের সিজার করে আসছে। প্রকৃত পক্ষে রাশেদা আক্তার একজন আল্ট্রার উপর প্রশিক্ষন প্রাপ্ত। সে কুমিল্লা ঠাকুর পাড়া প্যারামেডিকেল থেকে চিকিৎসার উপর প্রশিক্ষন গ্রহন করেছেন। প্রশিক্ষনের পর থেকে সে প্রথমে নবাবপুর মেডিকেল সেন্টারে কাজ করতো।  গতকাল বৃহস্পতিবার   সাহিনা আক্তার ও লাকী আক্তার নামে দুই প্রসুতিকে সকাল ১১টা থেকে সিজার করতে গিয়ে ২টা পর্যন্ত সিজার করেন। সাহিনা আক্তার চান্দিনা থানার গল্লাই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী। লাকী আক্তার নবাবপুর ইউনিয়নের ভাগুড়াপাড়া গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। ২ নবজাতকের মৃত্যু
র পরেও দুই প্রসুতি এখনো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ শহর থেকে দুরে মফস্বলের এসব প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে ভুয়া ডাক্তার, নার্স আর টেকনিশিয়ানদের দিয়ে চালানো হয়। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব করছে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি। এ হাসপাতালে পূর্বে ও এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর বিভিন্ন নেতাদের ভয় দেখিয়ে এবং প্রভাশালীদের দাপুটে ম্যানেজ করে ফেলা হয় রোগী ও রোগীর স্বজনদের। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এরকম ভুয়া ডাক্তার, হাসপাতাল, ক্লিনিক প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে আসছে সাধারণ জনগনের সাথে। 

উক্ত ঘটনায় চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে আমি ও থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হাসপাতাল মালিক ও ডাক্তার পলাতক রয়েছে। আমরা হাসপাতালের আয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। থানায় এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি।