চান্দিনার ঘুরঘার বিলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা জেলায়  চান্দিনা, দাউদকান্দি ও কচুয়া এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ঘোরঘার বিল। এই বিলটি প্লাবন ও মৌসুম প্রকৃতির। শুষ্ক মৌসুমে ১৫০হেক্টর ও বর্ষা মৌসুমে ১৭৫ হেক্টর জমি প্লাবিত থাকে। বিলটির সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ৩ থেকে ৪মিটার । ¯্রােতের অবস্থা ছয় মাসের কম। খালের সাথে সংযুক্ত এই বিলটির মৎস্য কার্যক্রম প্রাকৃতিক।  এই বিলে শোল, বোয়াল, গজার, আইর, মাগুর, শিং,কার্প, পলি, মলা, ঢেলা, পুটি, বেধা, কৈ, পাবদা, টেংরা, চাপিলা, বুজুরি, টাকি, রুই, কাতলা, সরপুটি, কাঞ্চনপুটি, জাতপুটি, চিংড়ি, বাইং, মেনি, দারকিলা, তারা বাইং ইত্যাদি মাছ পাওয়া যেত। প্রাকৃতিক উপায়ে এই ধরণের মাছ উৎপাদন ওপ্রজনন হয়। কিন্তু নানা কারণে ছোট হয়ে আসছে বিলের আয়তন । 

বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায় মাছ ও উদ্ভিদ গুলো হলো আইর, মধুপদ্মা, ঢেলা, শরপুটি ও পটকা, জলজ প্রকৃতির প্রজাতির চিংড়ি, কচ্ছপ, কুচিয়া, আগাছা কচুরিপানা, খুদিপানা, হেলেঞ্চা, কলমি, শাপলা। উক্ত বিল বা প্লাবন ভুমি থেকে সুফল ভোগীর সংখ্যা প্রায় ১২৪৫জন, এদের মধ্যে মহিলা ২৪৫জন এবং পুরুষ ১হাজার । মাছ ধরার জন্য বেরজাল, খড়জাল, ভেসাজাল, ফেলুন জাল, ঝাকিজাল, মৌয়াজাল ব্যবহার হয়ে থাকে। এই ঘুরঘার বিলে ছোট প্রজাতির মাছ উৎপাদন হয় ৬মাসে ১,৭০,০০০হাজার কেজি। তবে ধীরে ধীরে ঘুরঘার বিলের দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলিন হওয়ার পথে। বিলিন হওয়ার কিছু কারণ হলো-অবৈধ কারেন্টজাল দ্বারা দেশীয় প্রজাতির পোনা নিধন, জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার, বহিরাগতদের দ্বারা মৎস্য নিধন, পর্যাপ্ত সুরজ গেইট না থাকা, মাছের বংশ বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করা। তাই দেশীয় প্রজাতির মাছ গুলো যেন বিলীন না হয় সেজন্য সংযোগ খাল গুলো পুন: খনন, তিন কিংবা চারটি মাছের অভয়াশ্রম স্থাপন, বিলে পোনা অবমুক্তকরণ ও সমাজ ভিত্তিক বিল সচেতনতা বৃদ্ধি।  
 এই ঘুরঘার বিলটি দেশীয় মৎস্য ভান্ডার খ্যাত থাকলে ও ক্রমশই বিলীন হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। অথচ এই ঘুরঘার বিলে এক সময় প্রায় দুই শতাধিকের ও বেশি প্রজাতির মাছ ছিল এখন কোন রকম ষাট প্রজাতির মাছ দেখা যায়। কিন্তু এই অল্প প্রজাতির মাছ দেখা গেলেও দেশীয় প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে। তবে দেশীয় প্রজাতির মাছ গুলো হারিয়ে যাওয়ার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম খালের নাব্যতা হ্রাস, খাল ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ, রাস্তা ঘাট নির্মাণ, মাছের আশ্রমের স্থান গুলোতে চাষাবাদ এবং সেখানে মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, অপরিকল্পিত ভাবে বাধ নির্মাণ ও ডিমওয়ালা মাছ গুলো ডিম দেওয়ার পূর্বেই ধরে ফেলা, কারেন্ট জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া, নতুন পানি আসার সাথে সাথে ডিম থেকে ফুটে আসা ছোট মাছ গুলো ধরে ফেলা, প্রকৃত জেলেরা এই পেশা ছেরে অন্য পেশায় চলে যাওয়া। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রায় ৭৩ ভাগ মাছই প্রাকৃতিক মাছ। দেশের রপ্তানী আয়ের প্রায় ৬ ভাগই বৈদেশিক অর্থ লাভ করে থাকে এর মধ্যে জাতীয় আয়ের ৫ভাগই অর্জন হয় মৎস্য সম্পদ থেকে। তাই দরকার মাছের জন্ম স্থান গুলোতে অভয়াশ্রম এবং গনসচেতনতা বৃদ্ধি করা তানা হলে দেশীয় প্রজাতির মাছ গুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। 
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাধেশ্ব্যাম বৈষ্ণব জানান,  ঘুরঘার বিলটি দৈর্ঘ্যে তের মাইল এবং প্রস্থে ছয় মাইল। এই ঘুরঘার বিলে ছোট বড় খাল, পুকুর ও খাটিতে টিকে আছে মিঠা পানির মাছ।
এই বিলে পূর্বে প্রচুর পরিমানে ছোট প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলে ও বর্তমানে তা আর সম্ভব হচ্ছেনা। যখন বর্ষা আসে তখন মাছ প্রাকৃতিকভাবে বড় হয় আর বর্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে বড় মাছ গুলো ডিম দিয়ে চলে যায় সেই ডিম থেকে পরের বছর নতুন পানি আসার সাথে সাথে ছোট মাছ প্রাকৃতিক উপায়ে প্রজনন হয়। কিন্তু বর্তমানে ইরি চাষের কারণে এই ডিম গুলো যথা সময়ে প্রজনন হতে পারছেনা। আবার বর্ষার পরও খাটিতে কিংবা খালে থাকা মাছ গুলো সেচ করে ধরে ফেলা হয়।  আশার কথা হলো এই যে, মাছের উৎপাদন ভাড়ানোর জন্য এবং এই বিলে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে জেলা মৎস্য উন্নয়ন কার্যালয়ে ঘোরঘার বিলে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করার জন্য চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে এবং আশা করি এই অর্থ বছরে আমরা ঘোরঘার বিলে  অভয়শ্রাম তৈরি করতে সক্ষম হবো। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা করার জন্য সরকারি ভাবে আমাদের নিকট কিছু বরাদ্ধ এসেছে। আমরা এই টাকা গুলো কাজে লাগিয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদ বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
গল্লাই ইউনিয়নের মিরাখলা গ্রামের মো: নাছির মুন্সী জানান, গত দশ বছর আগে ও মাছের গন্ধে ঘুরঘার বিলের পাশ দিয়ে যাওয়া যেতনা। কিন্তু কয়েক বছর হলো সে অবস্থা আর নেই। এই মাছ গুলো ইরি চাষ, খাল ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ, খালে বাধ নির্মাণ সহ কারেন্ট জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছ গুলো দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। 

কুমিল্লা মহানগরীর টমছম ব্রিজ বাখরাবাদ সড়কের বেহাল প্রতিদিন দুর্ঘটনা।

বশিরুল ইসলাম:
ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে, দীর্ঘ ৬বছর মেরামত হয়নি রাস্তাটি। চাঁপাপুর থেকে টমছম ব্রিজ হয়ে কোটবাড়ী বিশ্বরোড দিয়ে কালীরবাজার হয়ে বরুড়া হাসপাতাল পর্যন্ত মোট সাড়ে তেইশ কিলোমিটার এই রাস্তাটির জন্য ৫৭ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট  পিইসি’তে (প্রকল্প মূল্যায়ণ কমিটি) পাশ হয়েছে।  গত ৬ আগষ্ট এ উপলক্ষ্যে একটি সভা সম্পন্ন হয়েছে। প্রি একনেক অনুমোদন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই রাস্তার কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। সাতান্ন শত লক্ষ (৫৭কোটি) টাকার  এই কাজটি তিনটি লেয়ারে করা হবে। প্রথমে ইট,শুরকি আর বালির একটি স্তর, পাথরের একটি স্তর তার পর ব্লাকটিপ বা পিচের একটি স্তর হবে। রাস্তার পাশে কোথাও কোথাও ড্রেনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে সামস্টিক উদ্যোগ না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে ঈদের আগে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাগবের জন্য বেস বালি খোয়া দিয়ে বিভাগীয় মেরামত করা হবে। আগামী দু এক দিনের মধ্যে এই কাজটি করার চেষ্টা করবো। এই রাস্তাটি মূলত জেলা মহাসড়ক বা ৩য় শ্রেণী ভুক্ত কিন্তু ব্যবহার হচ্ছে জাতীয় মহাসড়ক হিসেবে। নতুন করে আরো একটি সমস্যা যোগ হয়েছে সেটি হলো লাকসাম আখাউড়া ডাবল লাইন রেলওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ম্যাক্স কোম্পানীর ভাড়ী যানবাহন গুলো চলাচলে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় এই ক্ষতির পরিমানটি প্রকট আকার ধারণ করছে। এই কোম্পানীর প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক ট্রাক অতিরিক্ত লোড বহন করে রাস্তায় চলাচল করছে। এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, হাইওয়ে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করে ও তেমন কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা। তাই প্রয়োজন সামস্টিক উদ্যোগ ও সচেতনতা কথা গুলো বলছিলেন কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাইফউদ্দিন। 
রাস্তা ঘুরে ও আশে পাশের লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,  কুমিল্লা মহানগরীর বাখরাবাদ থেকে টমছম ব্রিজ টমছম ব্রিজ হয়ে কোটবাড়ী বিশ্বরোড রাস্তটি দীর্ঘ ছয় বছর যাবত বড় ধরনের মেরামত করা হয়নি। ফলে এ রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত রোগীরা চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। টমছম ব্রিজ বাখরাবাদ সড়কটির এতোই খারাপ অবস্থা যে এই রাস্তা দিয়ে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কিছু কিছু যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আবার কিছু বিকল হয়ে পরছে। যানবাহন উল্টে গিয়ে কারো হাত পা ভেঙ্গে পঙ্গত্ব বরণ করছে। প্রতিদিন দুয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটছেই। গত  এক মাসে প্রায় অর্ধ শতাধিক দুর্ঘটনায় শতাধিক লোক আহত হয়েছে।  এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের দৃষ্টি পড়ার পরে ও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের দাবী সড়ক বিভাগ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। এই রাস্তা দিয়ে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী যাতায়াত করে অনেক রোগী সহ রোগীর লোক যাতায়াত করে অথচ এই রাস্তাটির এই অবস্থা। গত কিছু দিন পূর্বে এক ডেলিভারী রোগী ইপিজেডের সামনের রাস্তায় ডেলিভারী করতে বাধ্য হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে রোগীদের যাতায়াতে প্রচন্ড কষ্ট হয় বলে জানিয়েছে নুরজাহান নামের এক রোগী।
এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউট, আদর্শ সদর উপজেলা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, কুমিল্লা ম্যাটস, হাইওয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পরিবেশ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাদকাসক্ত পুর্নবাসন কেন্দ্র, ফানটাউনে আসা বিনোদন প্রেমীরা, ময়নামতি হাসপাতাল সহ আরো কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক শিক্ষার্থী, রোগী ও রোগীর স্বজন ও সাধারণ লোকজন। কিন্তু গত ৬ বছরের ও অধিক সময় ধরে এই রাস্তার বড় ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় রাস্তাটি ব্যবহার অনুপযোগী। তারপরও সড়ক বিভাগ মাঝে মাঝে এই রাস্তায় ডিপার্টমেন্টাল মেরামতের কাজ করে থাকে। ছোট ছোট মেরামত কাজ গুলো ইট শুরকি দিয়ে করার কারণে একটু বৃষ্টিতে ভিজে বড় গাড়ির চাপায় নষ্ট হয়ে পুনরায় সেখানে আবার গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে ছোট ছোট গর্তগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে খাদে পরিণত হচ্ছে। টমছম ব্রিজ চৌরাস্তা থেকে শুরু করে চাঁপাপুর পর্যন্ত প্রায় ছোট বড় ৩০টি গর্ত রয়েছে। এই গর্ত গুলোতে অনেক সময় অটোরিক্স, রিক্সা, রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স পরে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আর সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। শুধু তাই নয় অনেকে এই গর্তের কারণে দূর্ঘটনার স্বীকার ও হচ্ছে।   একই সাথে যেমন রোগীর ক্ষতি হচ্ছে সাথে সাথে যানবাহনের ও ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইবনেতাইমিয়া স্কুলের সামনে রয়েছে কয়েকটি গর্ত, ইপিজেডের সামনে কয়েকটি গর্ত, ঢুলিপাড়া চৌমুহনীর পাশে কয়েকটি গর্ত, ফুল বন বেকারী ও ডায়না বেকারীর সামনে রয়েছে কয়েকটি বড় ধরনের গর্ত, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রয়েছে বড় কয়েকটি গর্ত, হেলথভিউ সিটিস্ক্যান সার্ভিসে এর সামনে রয়েছে কয়েকটি গর্ত, সানি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একই অবস্থা। এইভাবে পুরো রাস্তায় বহু জায়গায় রয়েছে ছোট বড় প্রায় ৩০টি গর্ত। এই রাস্তা দিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোক সহ বাখরাবাদ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, হাইওয়ে পুলিশ, পিবিআই পুলিশ, দুদকের কর্মকর্তা কর্মচারী, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত রোগী ও রোগীর লোকজন চলাচল করছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাই সাধারণ মানুষের দাবী দেশ যেভাবে এগুচ্ছে রাস্তাঘাট গুলোও যেন সেভাবে মেরামত করা হয়।   

কুমিল্লার আজওয়াদ ম্যারাথনে চ্যাম্পিয়ন।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লার আজওয়াদ সৌরভ নিউইয়র্কে ম্যারাথনে ৩০ মিনিট ১১ সেকেন্ডে চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করেছে। খেলাটি লাইট এন্ড লাভ কর্তৃক আয়োজিত ৮ম দাতব্য ম্যারাথন নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন পার্ক, বে স্ট্রিট, ৭৯বে রাইডসে অনুষ্ঠিত হয়। ম্যারাথনে  দুইশত এর ও অধিক শিশু-কিশোরের সাথে অংশ গ্রহন করে কুমিল্লার আজওয়াদ সৌরভ। আদর্শ সদর উপজেলার হযরত পাড়ার আমেরিকা প্রবাসী ফজলুল করিম ও মনোয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে আজওয়াদ। সে কুমিল্লা পরশমনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়ন করে আমেরিকা নিউইয়র্কে মন্টাক আইএস স্কুলে ২০১৩ সালে ভর্তি হন। ঐ স্কুল থেকে সে জুনিয়র অলিম্পিকে সিলেক্ট হয়ে গত বছর ম্যারাথনে চার মাইল দৌড়ে ৩০ মিনিট ১১ সেকেন্ডে চ্যাম্পিনশীপ অর্জন করেন। বর্তমানে আজওয়াদ জুনিয়র অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পেয়েছে।  

চীনা একটি সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৩ আগস্ট নিউ ইয়র্কে “ভাল বাসার আলো” ((Light and Love Center))  এর আয়োজনে প্রতিবারের ন্যায় এবারো তৃতীয় বিশে^র শিশুদের সাহায্য সহযোগীতার জন্য দাতা ও অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এতে দুইশত জনের ও বেশী ক্রীড়াবিদ সাফল্যের সাথে অংশগ্রহন করে তাদের মধ্য থেকে কুমিল্লার আজওয়াদ চ্যাম্পনশীপের গৌরভ অর্জন করে। 

((Light and Love Center))  এর কেন্দ্র পরিচালক জানিয়েছেন প্রবাসী চীনা সম্প্রদায়ের দূড় সমর্থন দ্বারা ব্রুকলিনের  ৪ সেশন এর জন্য ম্যারাথন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, এ বছর দুইশ জনের ও বেশি মানুষ অংশগ্রহন করে যা একটি নতুন মাইল ফলক, একই সময়ে খেলার ইতিহাসে প্রথম বার এতো সংখ্যক ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহন যা দ্বিগুন সাফল্য হিসাবে বর্ণনা করা যায়। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই বছরের দাতব্য ম্যারাথন পুরুষদের, নারীদের, শিশুদের এবং ৫০ বছর বয়সীদের ৪টি দলে বিভক্ত করা হয়। ৭৯ বে স্ট্রিট পার্ক, হাইওয়ে বেল্ট পার্কওয়ে আসা যাওয়ার দূরত্ব মাত্র চার মাইল. নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আয়োজকরা খেলোয়ারদের পথে পানি দিয়েছে, একটি ফার্স্ট এইড কিট এবং স্টেন্ডবাই চিকিৎসাকর্মী সহ বিশটির ও বেশি স্বেচ্চাসেবক দল নিয়োজিত ছিল। 

অনুষ্ঠান আয়োজকদের মতে, এবার সর্বকনিষ্ঠ অংশগ্রহনকারী মাত্র ৬মাস বয়সী যার মা খেলার অনুষ্ঠান স্থলে  পুরো রাস্তা গাড়ী করে ঠেলে নিয়ে আসেন। সর্ব বৃদ্ধ খেলোয়াড় ৬৯বছর বয়সী হুয়া ইয়াং ঝাং ঝাওলি তিনি ৫০বছর বয়সের গ্রুপ চ্যাম্পিয়নে জিতেছেন। সুস্থ্য শরীর এবং মন পুরো খেলা জুড়ে তরুনদের জন্য বৃদ্ধের জয় উল্লাসের কারণ ছিল।  এবছর আরো  সাফল্যের বিষয় হলো বাংলাদেশের নাগরিক আজওয়াদ যিনি ৩০মিনিট ১১ সেকেন্ডে চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করে। 

কুমিল্লার ছেলে আজওয়াদ সৌরভ জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে নিউইয়র্ক রোড রানার (http://www.nyrr.org) আয়োজনে মাত্র ১৭ মিনিটে ২৫ সেকেন্ডে ৫কি: মি: দৌড় প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পনশীপ অর্জন, মে মাসে বড়ো প্রেসিডেন্ট ( Borough President এর আয়োজনে ৪ মাইল দৌড় প্রতিযোগীতায় ২৫মি: ৩১ সেকেন্ডে চ্যাম্পিনশীপ অর্জন যা গত বছরের তুলনায় এবছর পাঁচ মিনিট কম সময় লেগেছে। আমাকে যারা এই খেলায় সব সময় উৎসাহ দিয়েছে তারা হলো আমার মামা শামীম তালুকদার, আমার পরিবারের সদস্য ও  বন্ধুমহল। 

জানাযায়, গত বছর “ভালোবাসার আলো” এর দাতব্য সিরিজ কার্যক্রমের থিম হিসেবে “হাস্যময় শিশু” নির্ধারণ করা হয়, যা তৃতীয় বিশে^র দেশ গুলোর জন্য দরিদ্র শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে ফান্ড বাড়াতে পারে।  বিস্তারিত জানার জন্য (http://www.lightandlovehome.org এই লিংকে ভিজিট করতে পারেন। 

অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগ চান্দিনা পীর মঞ্জিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে।

বশিরুল ইসলাম: 
চান্দিনা বরকরই পীর মঞ্জিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অভিযোগ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিভিন্ন জনকে ম্যানেজ করে এই অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতি করছেন প্রতিষ্ঠানের সুপার।  জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতনের টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, পরীক্ষা ফি ও ভূয়া ও জাল সনদপত্র বিক্রিসহ নানাভাবে প্রতিষ্ঠানে নিয়ম বহি:র্ভূতভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচেছন টাকা। শিক্ষকদের নিকট থেকে এমপিও ভূক্তির নামে  টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

শিক্ষক, কর্মচারী ও সূত্র থেকে জানা যায়, প্রাক্তন শিক্ষক কচুয়ার ওজানী গ্রামের মাও. মো: আইয়ুব আলীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা, তার বেতনের টাকা স্বাক্ষর জাল করে আত্মসাৎ করা, দপ্তরি শাহজাহানের নিকট থেকে এমপিও ভুক্তির নামে  দুই হাজার টাকা আত্মসাৎ করা, তিন হাজার টাকার দাবী পুরণ না করায় তাকে আদালতের মাধ্যমে উকিল নোটিশ করা এই রকম নানা অভিযোগ।   আদালতে করা সুপারের অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। বিভিন্ন বায়না ধরে  সহ: সুপার আ: মতিন, নৈশ প্রহরী মোখলেছুর রহমান, দপ্তরী  আলী নেওয়াজকে মাদ্রসার বাহিরে রেখে তাদের বেতনের টাকা জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা, অত্র মাদ্রাসার দাখিল বিভাগের শিক্ষক কারী আব্দুস সাত্তারের ৩মাসের বেতন আত্মসাত করে । চলতি বছরে মাদ্রসার ভর্তি ফি, রেজিষ্ট্রেশন ফি ও ফরম ফিলাপের ৮১ হাজার টাকার মধ্যে ৪০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা করে বাকী ৪১ হাজার টাকা  আত্মসাৎ করাসহ  এই রকম অর্ধশতাধিক অভিযোগ পাওয়া যায় অত্র মাদ্রসার সুপারের বিরুদ্ধে। 
অত্র মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী জামাল উদ্দিন জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুপার মহোদয় দীর্ঘদিন থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল সনদ বিক্রি করে জালিয়াতি করে আসছে। আমরা স্যারের ভয়ে কোন প্রতিবাদ করিনি। স্যার আমাদেরকে ও অনেক সময় নানা ভাবে হয়রানি করেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সহ: সুপার আ: মতিন কাজী মহোদয় একাধিক শিক্ষক, পিয়ন ও দপ্তরীকে হয়রানি করেছে। 
সহ সুপার আ: মতিন কাজী জানান, সুপার মো: সফিকুল ইসলাম গত ৮ আগষ্ট থেকে মাদ্রাসায় আসেননি। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা আমাকে রেজুলেশনের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দিয়েছে কিন্তু সুপার মহোদয় দীর্ঘদিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও চাবি হস্তান্তর করেননি। তিনি প্রতিষ্ঠানে ও আসেন না। উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করছেন আমরা তাহাকে বিদ্যালয়ে আসতে দেইনি। 
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো: সফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিক্ষকদের বেতনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি সম্পূণ মিথ্যা। প্রত্যেকের আলাদা একাউন্ট এবং প্রত্যেকের চেক নিজ নিজ দায়িত্বে থাকে। চেকে স্বাক্ষর করতে হলে তাদের চেক আমি কোথায় পাব। মাদ্রাসার আয় ব্যয়ের জন্য একটি অর্থ উপ-কমিটি আছে। উক্ত কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের অনুমোদন করা হয়। বিভিন্ন খরচের ভাউচারে অর্থ উপ কমিটির স্বাক্ষর আছে। প্রতি মাসে অর্থ উপ কমিটি আয় ব্যয়ের প্রতিবেদন অনুমোদন করেন।  ২০১৬ সাল পর্যন্ত অডিট ফার্ম কর্তৃক অডিক করানো হয়েছে এতে আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েনি। ২০১০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটি অডিট করেন সেখানে ও আর্থিক কোন প্রকার অনিয়ম চোখে পড়েনি। এখানে শিক্ষকরা আমরা বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গুলো করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কেননা আমাকে কোন রকম কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই সহ সুপারকে বিধি বহি:র্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত সুপার করা হয়েছে। গত ৮আগস্ট থেকে আমাকে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয় নাই। অথচ প্রতিদিন আমি মাদ্রাসায় যাই। গত ৯ আগষ্ট শিক্ষকদের একটি সভায় মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলাম। গত ১৩ আগস্ট ম্যানেজিং কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলাম কিন্তু কোন দিনই আমাকে সহ-সুপার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেয় নাই, খাতা লুকিয়ে রাখে এবং শিক্ষক হাজিরা খাতাটি সহ-সুপারের দায়িত্বে থাকে।  এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। 
চান্দিনা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গাউসুল আজম জানান, আমি চান্দিনা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নতুন যোগদান করেছি। আমি আসার পর কেউ এব্যাপারে কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। যদি কেউ অভিযোগ নিয়ে আসে আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকারিয়া মহোদয়ের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বরকরই পীরমঞ্জিল মাদ্রসার সুপারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ওঠেছে তা আগে আমার নিকট কেউ অভিযোগ করেনি। আমি অভিযোগ পেলে সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দিব। 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি মালামাল সহ আটক ২

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি মালামাল বিক্রির দায়ে দুইজনকে পুলিশে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আটককৃত ব্যক্তিরা হলো  মুন্না হাসান (১৪) ও সাইফুল ইসলাম (৩৫)। মুন্না হাসান আদর্শ সদর উপজেলার ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মৃত স্বপন মিয়ার ছেলে ও সাইফুল ইসলাম বুড়িচং উপজেলার পূর্ব হুরা চৌধুরী বাড়ীর সুলতান আহম্মদের ছেলে। গতকাল বুধবার তাদের দুইজনকে হাসপাতালের গেইট থেকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। মুন্না হাসান পেশায় ধুপা ও সাইফুল ইসলাম পেশায় ঔষধ ব্যবসায়ী।  তাদেরকে হাসপাতালের সামনে ফার্মেসী দোকান থেকে আটক করেছে অত্র হাসপাতালে সর্দার মো: জাকির হোসেন। আটকের সময় তাদের নিকট হতে ১০ প্যাকেট প্যারাফাইন গজ ড্রেসিং ও ২ প্যাকেট কটন পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০হাজার টাকা। আটককৃতরা এই ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত ৫জনের নাম উল্লেখ করেছে বলে জানায় স্থানীয় লোকজন। 

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারীর নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, হাসপাতালের সামনের ফার্মেসী দোকান থেকে সরকারি মালামাল সহ জড়িত ব্যক্তিদের পুলিশে দেওয়া হয়েছে।  কেউ হাসপাতালের  ঔষধ, সরঞ্জাম অথবা সরকারি যে কোন জিনিস হাসপাতালের বাহিরে নিয়ে যায় এবং বিক্রি করে আমরা তথ্য পেলে তাকে পুলিশের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠাবো। হাসপাতাল অথবা হাসপাতালের বাহিরের যেই হউক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। হাসপাতালের শৃংখলা, উন্নত পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য যা যা করতে হয় আমার পক্ষ থেকে সব কিছু করা হবে। 

পানিতে ভাসছে কুমিল্লা দেখুন ভিডিওটি

বশিরুল ইসলাম:
 কুমিল্লাবাসীর জীবন বিপর্যস্ত ছিল দীর্ঘ সময় । শহরের প্রতিটি স্থানে শুধু পানি আর পানি। পানিতে ভরপুর কুমিল্লা শহরের অলিগলি। কয়েক ঘন্টার জন্য কুমিল্লায় প্লাবন দেখা গিয়েছে। নগরীর শাকতলা, ঠাকুরপাড়া, চর্থা, সদর হাসপাতাল, সালাউদ্দিন, ইবনেতাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ধর্মপুর, হাউজিং এস্টেট, শাসন গাছা সহ আশে পাশের এলাকা গুলো পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। কিছু কিছু স্থানে জাল দিয়ে সাধারণ মানুষকে মাছ ধরতে দেখা গিয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে মাছ ধরার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মত। কান্দিরপাড় থেকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের অধিকাংশ জায়গা পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। শহরের প্রবেশের প্রধান এই সড়কটিতে যাত্রীদের সেলফি তুলে কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে আপলোড করছে। কুমিল্লার এই অবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মো: জাহাংগীর আলম জানান, গত রাতে প্রচুর পরিমান বৃষ্টির কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি। একমাত্র বৃষ্টির পানিই এই জলাবদ্ধতার কারণ ।
রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাত্রী, স্থানীয় সাধারণ মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত রাতে প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে নগরীর ব্যাপক এলাকা জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত আছে। নগরীর কান্দিরপাড় টাউনহল থেকে  শুরু করে নগরীর উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম প্রতিটি স্থান পানিতে টইটুম্বুর । সাধারণ মানুষকে ভাড়া গুনতে হয়েচে  ৩ থেকে ৪ গুন বেশি। অতিবর্ষণের ফলে অনেক নতুন এলাকাও জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে আবাসিক এলাকার লোকজন হাটুর উপরে পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছেন। বাণিজ্যিক এলাকার মালামাল পানিতে ডুবে গিয়েছে। মূল সড়কে নৌকা চলার মত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমর পানি। পানি পার হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে ব্যহত হচ্ছে যান চলাচল। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবসের দিনে মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিলনা।
স্থানীয় লোকজন বলছেন কুমিল্লা নগরীর পানি সোয়ারেজ ব্যবস্থা ভাল নয়। পানি চলাচলের বড় ড্রেন গুলো পরিকল্পনা মাফিক না হওয়াই এই অবস্থার সৃষ্টি। পরিকল্পিতভাবে সোয়ারেজ ব্যবস্থা করলে কুমিল্লা এই অবস্থার সৃষ্টি হবে না।
এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, শহরের বেশির ভাগ রাস্তাঘাটে হাটু পানি জমে থাকায় গন্তব্যস্থলে পৌছাতে অনেকে জুতো স্যান্ডেল হাতে নিয়ে শার্ট প্যান্ট গুটিয়ে যেতে হচ্ছে। পানি পার হতে অনেকেই রিকসার সাহায্য নিচ্ছেন। শুধু পানির কারণে ৫টাকার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ২০-৪০ টাকা। এই উপলক্ষে নগরীর অলিগলিতে রিকসা, অটোরিকসা, সিএনজি সহ বিভিন্ন ছোট ছোট পরিবহনের চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বর্ষা মৌসুমে কুমিল্লা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গেলো কয়েক বছর ধরে ড্রেনেজ উন্নয়নে কাজ করছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। এরপরও বৃষ্টি হলেই জলজট ও যানজট আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কাঁদা পানিতে নাকাল হচ্ছে নগর বাসী। বেশির ভাগা এলাকায় ইট, খোয়া, বালু, পাথর উঠে ,মাটি বেরিয়ে পড়া সড়কে বৃষ্টি হলেই হাটু সমান কাঁদাপানি জমছে।
বারপাড়া এলাকার তফাজ্জল হোসেন জানান, এ এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। একে তো বৃষ্টিতে বের হতে পারছি না, তার ওপর রাস্তার বেহাল দশা। কীভাবে ভাল থাকতে পারি বলুন। সকাল ১১টা থেকে ১২টার দিকে টমছম ব্রিজ থেকে কান্দির পাড় যাওয়ার সময় শতাধিক গাড়ী ঠাই দাড়িয়ে । কখনও তা একটু এগিয়েই আবার থেকে যাচ্ছে। ত্যক্ত-বিরক্ত যাত্রী ও গাড়ির স্টাফদের অনেকে জানান, বৃষ্টির পানির কারণে এই অল্প একটু জায়গা পের হতে এক ঘন্টা সময় লাগে।
এব্যাপারে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

পানিতে ভাসছে কুমিল্লা

জনজীবন বিপর্যস্ত

বশিরুল ইসলাম:
 কুমিল্লাবাসীর জীবন বিপর্যস্ত ছিল দীর্ঘ সময় । শহরের প্রতিটি স্থানে শুধু পানি আর পানি। পানিতে ভরপুর কুমিল্লা শহরের অলিগলি। কয়েক ঘন্টার জন্য কুমিল্লায় প্লাবন দেখা গিয়েছে। নগরীর শাকতলা, ঠাকুরপাড়া, চর্থা, সদর হাসপাতাল, সালাউদ্দিন, ইবনেতাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ধর্মপুর, হাউজিং এস্টেট, শাসন গাছা সহ আশে পাশের এলাকা গুলো পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। কিছু কিছু স্থানে জাল দিয়ে সাধারণ মানুষকে মাছ ধরতে দেখা গিয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে মাছ ধরার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মত। কান্দিরপাড় থেকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের অধিকাংশ জায়গা পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। শহরের প্রবেশের প্রধান এই সড়কটিতে যাত্রীদের সেলফি তুলে কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে আপলোড করছে। কুমিল্লার এই অবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মো: জাহাংগীর আলম জানান, গত রাতে প্রচুর পরিমান বৃষ্টির কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি। একমাত্র বৃষ্টির পানিই এই জলাবদ্ধতার কারণ ।  
রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাত্রী, স্থানীয় সাধারণ মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত রাতে প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে নগরীর ব্যাপক এলাকা জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত আছে। নগরীর কান্দিরপাড় টাউনহল থেকে  শুরু করে নগরীর উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম প্রতিটি স্থান পানিতে টইটুম্বুর । সাধারণ মানুষকে ভাড়া গুনতে হয়েচে  ৩ থেকে ৪ গুন বেশি। অতিবর্ষণের ফলে অনেক নতুন এলাকাও জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে আবাসিক এলাকার লোকজন হাটুর উপরে পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছেন। বাণিজ্যিক এলাকার মালামাল পানিতে ডুবে গিয়েছে। মূল সড়কে নৌকা চলার মত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমর পানি। পানি পার হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে ব্যহত হচ্ছে যান চলাচল। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবসের দিনে মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিলনা। 
স্থানীয় লোকজন বলছেন কুমিল্লা নগরীর পানি সোয়ারেজ ব্যবস্থা ভাল নয়। পানি চলাচলের বড় ড্রেন গুলো পরিকল্পনা মাফিক না হওয়াই এই অবস্থার সৃষ্টি। পরিকল্পিতভাবে সোয়ারেজ ব্যবস্থা করলে কুমিল্লা এই অবস্থার সৃষ্টি হবে না। 
এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, শহরের বেশির ভাগ রাস্তাঘাটে হাটু পানি জমে থাকায় গন্তব্যস্থলে পৌছাতে অনেকে জুতো স্যান্ডেল হাতে নিয়ে শার্ট প্যান্ট গুটিয়ে যেতে হচ্ছে। পানি পার হতে অনে
কেই রিকসার সাহায্য নিচ্ছেন। শুধু পানির কারণে ৫টাকার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ২০-৪০ টাকা। এই উপলক্ষে নগরীর অলিগলিতে রিকসা, অটোরিকসা, সিএনজি সহ বিভিন্ন ছোট ছোট পরিবহনের চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বর্ষা মৌসুমে কুমিল্লা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গেলো কয়েক বছর ধরে ড্রেনেজ উন্নয়নে কাজ করছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। এরপরও বৃষ্টি হলেই জলজট ও যানজট আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কাঁদা পানিতে নাকাল হচ্ছে নগর বাসী। বেশির ভাগা এলাকায় ইট, খোয়া, বালু, পাথর উঠে ,মাটি বেরিয়ে পড়া সড়কে বৃষ্টি হলেই হাটু সমান কাঁদাপানি জমছে। 
বারপাড়া এলাকার তফাজ্জল হোসেন জানান, এ এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। একে তো বৃষ্টিতে বের হতে পারছি না, তার ওপর রাস্তার বেহাল দশা। কীভাবে ভাল থাকতে পারি বলুন। সকাল ১১টা থেকে ১২টার দিকে টমছম ব্রিজ থেকে কান্দির পাড় যাওয়ার সময় শতাধিক গাড়ী ঠাই দাড়িয়ে । কখনও তা একটু এগিয়েই আবার থেকে যাচ্ছে। ত্যক্ত-বিরক্ত যাত্রী ও গাড়ির স্টাফদের অনেকে জানান, বৃষ্টির পানির কারণে এই অল্প একটু জায়গা পের হতে এক ঘন্টা সময় লাগে। 
এব্যাপারে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। 

লাকসামে আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি খামার জনজীবন হুমকির মুখে

বশিরুল ইসলাম:
খাইতে বসলে বুমি আসে। পড়তে বসলে বুমি আসে। পঁচা দুগর্ন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে ।  নাকে কাপড় দিয়ে পড়তে বসলেও দম বন্ধ হয়ে আসে। স্কুল থেকে এসে বাসায় থাকতে মন চায়না। এজন্য আমরা ঘরে বেশিক্ষন থাকিনা। সকালে স্কুলে চলে যাই, স্কুল থেকে এসে বই রেখে সারাদিন বাহিরে থাকি ঘুমের সময় ঘরে ঢুকে রাতে ঘুমিয়ে থাকি আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মক্তবে যাই মক্তব থেকে এসে আবার স্কুলে চলে যাই সেখানে সারাদিন থাকি। আমাদের ঘরের সাথে মুরগীর ফার্ম । এই মুরগীর ফার্মের গন্ধের কারণে আমাদের লেখা পড়া করতে অনেক সমস্যা হয়। এভাবেই কথা গুলো বলছিল কোমলমতি শিক্ষার্থী লাকসামের কাদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী ইসরাত জাহান কলি ও ক্রিসেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা। 
সরেজমিনে পোল্ট্রিফার্ম ও ৯নং ওয়ার্ড পূর্ব সাতবাড়িয়া এলাকা ঘুরে জানা যায়, এলাকাবাসী পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বমি করছে। পোলট্রি ফার্মটি বসত বাড়ী থেকে ৩ হাত দূরত্বে  হওয়ায় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পাশ্ববর্তী বাড়ীর লোকজন।  লাকসাম উপজেলার সাতবাড়ি মধ্যমপাড়া এলাকার জহিরুল ইসলাম বাহার জানান, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে আবেদন করে ও বিষয়টি সমাধান হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করার পর অফিস থেকে শুনানীতে আমাকে ও মেসার্স শাহ আলম পোল্ট্রি ফার্ম এর স্বত্বাধিকারী মো: শাহ আলমকে  নোটিশ করে। আমরা উভয় পক্ষ উপস্থিত হয়ে নোটিশের জবাব দেই কিন্তু কি এক অদৃশ্য কারণে পোল্ট্রি ফার্মটি এখান থেকে না সরিয়ে বরং এখানে রেখেই অনুমোদনের ব্যবস্থার পায়তারা করছে। উক্ত ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ। অনেকেই ক্ষুভ প্রকাশ করে বলেন, কোথায় সে পরিবেশ অধিদপ্তর? গ্রামের ঘরবাড়ীর মাঝখানে দুর্গন্ধময় পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। পরিবেশ অধিদপ্তর অফিসে বসে বসে কোন রকম কাজ করেই বেতন নিচ্ছে কোথায় কি হচ্ছে কোন তথ্য দিলেও তারা কাজ করে না। দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে। বসতবাড়ীর মাঝখানে পোল্ট্রিফার্ম খোলে উক্ত স্থানে বর্জ্য আর ময়লায় যে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাতে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রী খেটে খাওয়া মানুষ ঘরে থাকতে পারছেনা। গ্রামের পরিবারগুলি দুর্বিসহ দিনাতিপাত করছে। নিয়মনীতির কোন রকম তোয়াক্কা না করেই ঘরে উঠেছে পোল্ট্রি ফার্মটি যা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ১২ ও ৪ধারার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন যা দন্ডনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য। গত ১৩ জুন কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিবেশ অধিদপ্তরে মো: জহিরুল ইসলাম বাহার নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়েরের পর থেকে অদ্যাবধি কালক্ষেপন হচ্ছে। গত দেড় মাস পূর্বে এই পোল্ট্রি ফার্মকে কেন্দ্র করে সাধারন মানুষের মধ্যে ঝগড়ার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেমের সৃস্টি হয়েছে। যে কোন সময় আবারো বড় ধরণের অঘটন ঘটে যেতে পারে। 
গত কয়েক মাস পূর্বে মোশারফ হোসেন নামে একজন অভিযোগ করে বলেন ভাই আমার বাড়ীর দুই পাশে দুইটি ইটভাটা আমি জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করলে স্যার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরে আমি গেলে স্যার বিরক্ত অনুভব করে। স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলে এটা জেলা প্রশাসক দেখবে আমি দেখতে পারব না। আামি অভিযোগ পত্র প্রত্যাহার করেছি।  
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। তবে কিছুদিন আগে কেউ ফোন করেছিল কিন্তু কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। আমার অফিসে এব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হলে সত্যতা যাচাই করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
এব্যাপারে কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুল আলম জানান, আমাদের কাছে লাকসাম সাতবাড়িয়া এলাকার পোল্ট্রি ফার্মের একটি অভিযোগ রয়েছে। দুই পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে শুনানি করেছি এখন সীল ভিজিট হবে। সীল ভিজিটের পর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তাছাড়া ঐ পোল্ট্রি ফার্মের কোন অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়াই পোল্ট্রি ফার্মটি পরিচালিত হয়ে আসছে। আমরা সেখানে যাব যদি নিয়মের বাহিরে এটি করে থাকে তাহলে অবশ্যই তা সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যত্র স্থাপন করার পরামর্শ দিব। 

হু ইজ ইউর লিডার : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক।।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের দাবি টোটালি রাবিশ, বোগাস। সরকারি চাকরিজীবীদের চেয়ে সাংবাদিকদের বেতন বেশি। তাই সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজবোর্ডের প্রয়োজন নেই।
ওয়েজবোর্ড নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে সাংবাদিকরা বলেন, ‘আপনার কাছে যে তথ্য আছে, তা সঠিক নয়।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কেন, আমাকে তো বলা হলো- একজন রিপোর্টারের প্রারম্ভিক বেতনই ২৫ হাজার টাকার বেশি। রিপোর্টিংয়ে যখনই কেউ ঢুকেন, ২৫ হাজার টাকার বেশি বেতন পান।’ এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, আমরা আপনার সঙ্গে এই বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে চাই। তখন অর্থমন্ত্রী বলেন, হু ইজ ইউর লিডার?
মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- নোয়াবের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকরা বলেন, তাঁদের প্রেসক্লাব আছে, সাংবাদিক ইউনিয়ন আছে, রিপোর্টার্স ইউনিটি আছে।
এসব সংগঠনের নেতারা নবম ওয়েজবোর্ডের দাবি জানিয়ে আসছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড আননেসেসারি (অপ্রয়োজনীয়)। তাদের বেতন নির্ধারণ বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিৎ।  
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা শহরে চারশর মতো পত্রিকা আছে। এগুলো একবারে বোগাস। ২০টার মতো পত্রিকা থাকলে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন সম্ভব।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন ‘নোয়াব’-এর নেতাদের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। অন্যদিকে নোয়াব নেতারা সম্মেলন কক্ষের অন্য দরজা দিয়ে চলে যান। তাঁরা সাংবাদিকবদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। সম্মেলন কক্ষে কোনো সাংবাদিককেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এ পর্যায়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘ওয়েজবোর্ডের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আরো মতামত নেওয়া হবে।’

ঘটনার ১১দিনেও আসামী গ্রেফতার হয়নি।

ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা, বাদীকে হত্যার হুমকি

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২৬নং ওয়ার্ডের ৩নং গলিয়ারা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও চৌয়ারা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি পদপ্রার্থী মো: আশিকুর রহমান (ফরহাদ) সহ আশিকের জেঠাতো ভাই জাহাঙগীরকে  বাড়ীতে এসে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে । ঘটনার ১১দিন পার হলেও আসামীরা গ্রেফতার হয়নি। উল্টো বাদীকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে  আশিকের মা ও মামলার বাদী জিন্নতের নেছা। 
                               সূত্রমতে ও মামলার বাদীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার সময় তাদের এলাকায় বাহির থেকে তিনটি মোটর সাইকেল প্রবেশ করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে তার ছেলেকে উদ্দেশ্য করে গুলি করে। ঘটনাস্থলে তার ছেলে ও তার বাশুরের ছেলে জাহাঙগীর গুরুতর আহত হয়। গুলির আওয়াজে
আশে পাশের লোকজন দৌড়ে আসলে ২৫ নং ওয়ার্ডের কালিনগর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে নাসিম, ২৭ নং ওয়ার্ডের পাঠান কোট গ্রামের সজীব,  ২৬ নং ওয়ার্ডের গোয়াল মথন গ্রামের বিল্লাল, গলিয়ারা ইউনিয়নের একবালিয়া গ্রামের অস্ত্রব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী  ও হত্যা মামলার আসামী সবু মিয়ার পুত্র আনিছ, ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের রঘুপুর গ্রামের ফয়সাল পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তার ছেলের নিথর দেহ পরে থাকতে দেখে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগীতায় চৌয়ারা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক একেএম আব্দুল আলী স্যারের গাড়িতে করে স্যার সহ কুমেক হাসপাতালে নিয়ে আহতদের ভর্তি করে চিকিৎসা করা হয়।  ঘটনার সময় নাসিমের হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে আমার ছেলেকে গুলি করে বলে জানতে পারি স্থানীয়দের নিকট, নাসিমের সাথে থাকা অন্যান্যরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এঘটনা ঘটনায়। উক্ত ঘটনার সাথে সাথে সদর দক্ষিণ থানার পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। খবর পেয়ে ওসি তার ছেলে মো: আশিকুর রহমান ফরহাদ ও ভাতিজা জাহাঙ্গীর কে হাসপাতালে দেখতে আসে । একবালিয়া গ্রামের পিচ্ছি নাছির মার্ডার মামলার ১নম্বর আসামী সবু মিয়ার পুত্র সন্ত্রাসী আনিছ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটিয়ে কিছু দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকে পরে এলাকা শান্ত হলে আবার ফিরে আসে। আনিছের বাবা সবু দীর্ঘদিন ভারতে পলাতক  রয়েছে। রাতের আধারে সে গ্রামে আসে অস্ত্র ও মাদক বিক্রি করে । এগুলো এলাকায় পরিচালনা করে থাকে আনিছ। 
                          চৌয়ারা বাজার কমিটির সভাপতি ও ১নং আসামী নাসিমের বাবার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার ছেলে ভাল আমি বল্লে হবেনা। সে খারাপ ছেলেদের সাথে চলাফেরা করে খারাপ হয়ে গিয়েছে। সে আমার ১ম স্ত্রীর সন্তান তার মা বেচে নেই। তাকে আমি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিনা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাটি ঘটেছে তবে গুলি আমার ছেলে করে নাই মর্মে জানতে পেরেছি। 
                          উক্ত ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিব জানান, আমি মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য নিয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। আসামীরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারছিনা। তবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত হলে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।