সীমানা জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তায়


বশিরুল ইসলাম: 
সীমানা জটিলতার কারণে  সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একই সাথে হওয়ার কথা থাকলে ও শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন র্নিবাচন ডিসেম্বরের ২২তারিখ অনুষ্ঠিত হবে।  তবে আগামী ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে মধ্যে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।  এ নিয়ে কাজও শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের সীমানা প্রায় তিনগুণ বাড়ানোর একটি মাস্টার প্লান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাস্টার প্লানটি ৩ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করে র্নির্বাচন দিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আদেশের কপি কুমিল্লা নির্বাচন অফিসে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত কম সময়ে এই সীমানা বাড়ানোর কাজ করা সম্ভব নয়। সচেতন মহলের মতে, একটি পক্ষ রিট আবেদন করে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় থাকার অপকৌশল চালাচ্ছে। 
জানা যায়, ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা পৌরসভা ও সদর দক্ষিণ পৌরসভা একীভূত করে ৫৩ দশমিক ০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে সীমানা  তিনগুণ বাড়ানোর মাস্টার প্লান করা হয়। ১৫ জুন সিটি কর্পোরেশনের মাসিক সভায় মাস্টার প্লান অনুযায়ী এ এলাকা ৫৩ দশমিক ৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তন থেকে বাড়িয়ে ১৫০ বর্গ কিলোমিটার করার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার ৪ মাস পর গত মাসের প্রথম সপ্তাহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় সেই প্রস্তাবনা। প্রস্তাবিত ওই মাস্টার প্লান অনুযায়ী বিজয়পুর, চৌয়ারা, গলিয়ারা, পশ্চিম জোড়কানন, জগন্নাথপুর, পাঁচথুবি, দুর্গাপুর উত্তর ও দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের আংশিক এলাকা কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এর ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ আগামী ২০ ডিসেম্বর সিটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করেছে কমিশন। এর আগে সীমানা সংক্রান্ত মাস্টার প্লান বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এটি বাস্তাবায়ন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ৫ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কাজী মাহাবুবুর রহমান ও নগরীর শুভপুরের বাসিন্দা খুরশিদ আলমের ছেলে হাবিব মিয়া। রিটে এলজিইডি সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী পরিচালক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে মাস্টার প্লান অনুযায়ী কর্পোরেশন এলাকা সম্প্রসারণ করে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের সংলগ্ন এলাকা কেন সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না এই মর্মে এলজিইডি সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৬ জনকে চার সাপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দ এই আদেশ দেন। প্রস্তাবিত সীমানা প্রসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ বলেন, ‘প্রস্তাবিত মাস্টার প্লান বাস্তাবায়ন দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা, হঠাৎ করেই তা সম্ভব নয়। ইউনিয়নের যেসব এলাকা সিটিতে যুক্ত হবে সেসব এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানি শেষে মতামত নিতে হবে।’


কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম দৈনিক ডাকপ্রতিদিনকে জানান,  সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বৃদ্ধিসংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশের কপি পেয়েছি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন যে  নির্দেশনা দিবে সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমি কাজ করবো। তবে আগামী ফেব্রুয়ারী মাসে নির্বাচন হবে কি না এব্যাপারে নিশ্চিত করে কোন কিছু বলতে পারছিনা। তবে স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের  নির্দেশনা পেলে আমরা নির্বাচনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।  

No comments:

Post a Comment