সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জেলা তথ্য বাতায়ন হালনাগাদ করা হচ্ছে না


বশিরুল ইসলাম: 
“ ডিজিটাল বাংলাদেশ” ও “উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ ” প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে  যেখানে সরকার ও দেশের জনগন সর্বোচ্চ সচেষ্ট  সেখানে কিছু অলস কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কারণে জেলা তথ্য বাতায়ন সঠিক সময়ে হালনাগাদ করা হচ্ছেনা।  জেলার সকল তথ্য ও সেবা এক ঠিকানায় পাওয়ার জন্য সরকার  গত ২০১৪ সালের জুন মাসে জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও জেলা তথ্য বাতায়ন তৈরি করে। সারাদেশে ৬১টি মন্ত্রণালয়ের ৩৫১টি অধিদপ্তরের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলার ৪৮৯টি উপজেলা সহ ৪৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদ সহ প্রায় ২৫হাজারের ও বেশি ওয়েবসাইট নিয়ে তৈরি  সকল তথ্য ও সেবা এক ঠিকানায় পাওয়ার জন্য সরকার প্রচুর টাকা খরচ করে নাগরিকদের সহজ ও কম সময়ে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় ও জেলা  তথ্য বাতায়ন তৈরি করে। কিন্তু অনেক অফিস ও প্রতিষ্ঠানের গাফলতি ও অলসতার কারণে হালনাগাদ হচ্ছেনা  জেলা তথ্য বাতায়ন ফলে সাধারণ নাগরিক তথ্য প্রাপ্তিতে ভোগান্তির শিকার ও বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কুমিল্লা সড়ক ভবন ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে দেখা যায় পদস্থ কর্মকর্তা এখন ঐ স্থানে নেই, তিনি বদলী হয়ে অনেক আগে চলে গিয়েছেন অথবা নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক নাম্বারে ফোন দিলে জানা যায় তিনি এখন এখানে নেই। 
কুমিল্লা জেলার জেলা তথ্য বাতায়ন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জেলা পর্যায়ে তথ্য হালনাগাদ করা হলে ও  বিভিন্ন উপজেলা ও অন্যান্য  তথ্য হালানাগাদ করা হয়নি দীর্ঘদিন। এতে করে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সকল তথ্য এক ঠিকানায়  পাওয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়নের  উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে । বিশেষজ্ঞদের মতে,  জাতীয় তথ্য বাতায়নে তথ্য  যদি সঠিকভাবে  যথা সময়ে হালনাগাদ করা না হয় তাহলে নাগরিক ভোগান্তি ও তথ্য বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। ফলে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবেনা। অভিযোগ রয়েছে অনেক সময় তথ্য বাতায়নে অনেক দেরিতে তথ্য প্রকাশ করা হয়। সাধারণ মানুষের তথ্য বাতায়ন থেকে যে সকল তথ্য গুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়  তা হলো জেলা প্রশাসকের নাম ও নাম্বার, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগনের নাম ও নাম্বার, প্রকৌশলী, উপ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নাম ও নাম্বার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগনের নাম ও নাম্বার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগনের নাম ও নাম্বার। কিন্তু এই তথ্য গুলোর মধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গনের নাম ও নাম্বার যথা সময়ে হালনাগাদ করা হলে ও উপজেলা ও থানা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের নাম ও নাম্বার যথা সময়ে হালনাগাদ করা হয়না। অভিযোগ রয়েছে সড়ক ভবনের তথ্য বাতায়নে গত কয়েক বছর ধরে প্রবেশ করা হয়নি। সড়ক ভবনের কোন কর্মকর্তার নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ সিলেট কেউ ঢাকায় বদলি হয়ে আছেন বলে জানান। সেখানে যে ছবি দেওয়া আছে সেই ছবি গুলো অনেক আগের। একই রকম অবস্থা উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য হালনাগাদে। 
বহুল আলোচিত বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ চালু হওয়ার দীর্ঘদিন পার হলে ও অনেক অফিসে তা এখনো হালনাগাদ হয়নি। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিভাগের ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে তৈরি এ জনগুরুত্ব পূর্ণ পোর্টালটি আজ এক শ্রেনীর লোক গুরুত্ব দিচ্ছেনা। এটি বিশ্বের সব চেয়ে বড় সরকারি ওয়েব পোর্টাল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত জাতীয় তথ্য বাতায়ন। নামের এই পোর্টালে  মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাসহ ছবি ২০ লাখেরও বেশি কনটেন্ট, বিভিন্ন ধরনের ৪০ হাজারের ও বেশি ছবি, সাত লাখের বেশি ই-ডিরেক্টরি রয়েছে। 
সরকারের তৃণমুল পর্যায়ে বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল  প্রযুক্তির সাহায্যে জনগণের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে গত দুই বছর পূর্বে চালু করে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। এটি ২৫ হাজার ওয়েবসাইটের সমন্বয়ে তৈরি করা এক ওয়েব পোর্টাল। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল ওয়েব পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এই তথ্য বাতায়নটি প্রতিদিন ১৫ লাখের বেশি মানুষ ভিজিট করেন। সরকারের ইচ্ছে হলো দেশের নাগরিকেরা কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, পর্যটন ইত্যাদি তথ্য পাওয়ার জন্য জাতীয় তথ্য বাতায়নকে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ হিসেবে ব্যবহার করা। বলা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি, গেজেট, ই-সেবা, সরকারি ফর্মসমূহ, সিটিজেন চার্টার, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের তালিকা, সাত লাখের বেশি ই-ডিরেক্টরি, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড, জনপ্রতিনিধিদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি সব তথ্যই ‘বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন’-এ পাওয়া যাবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের ৪,৫৫০, উপজেলা পর্যায়ের ১৪,৪৬০, জেলা পর্যায়ের ৪০৩২, বিভাগ পর্যায়ের ৪৫৫, জেলা পরিষদ পর্যায়ের ৬৪, উপজেলা পরিষদ পর্যায়ের ৪৮৮, মন্ত্রণালয়-বিভাগ পর্যায়ের ৫৫, অধিদপ্তর পর্যায়ের ৩৪৫ এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা পর্যায়ের ৪১৪টি ওয়েবসাইটকে একসূত্রে গেঁথে জাতীয় তথ্য বাতায়ন তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করিয়ে দিতে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও আছে, যা প্রশংসার যোগ্য। আমাদের প্রত্যাশা, সবার মিলিত চেষ্টায় নিশ্চয়ই একদিন জাতীয় তথ্য বাতায়ন উৎকৃষ্টমানের একটি ওয়েব পোর্টালে পরিণত হবে, যার সংখ্যা নিয়ে নয় মান নিয়ে গর্ব করা যাবে। আর সাধারণ মানুষ সহজে সব দরকারি সেবা ও তথ্য এ পোর্টাল থেকে পাবে।
জেলা তথ্য বাতায়নের এই অবস্থা সম্পর্কে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো: জাহাংগীর আলম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, জেলা তথ্য বাতায়নটি আমরা যথাসধ্য চেষ্টা করি হালনাগাদ রাখার । এটি একটি প্রজেক্টের (একসেস টু ইনফরমেশন) আওতায় করা হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে হয়তো সকলে এই সাইটটিতে তথ্য হালনাগাদ করতে পারছে না। তবে যদি কোন অফিস বা কার্যালয়ের তথ্য হালনাগাদ না থাকে আমরা এই রকম তথ্য পাই তাহলে তাদের সাথে যোগাযোগ করে তথ্য হালনাগাদের ব্যবস্থা করবো। 



No comments:

Post a Comment