জানুয়ারী থেকে অক্টোবর ২০১৬ইং পর্যন্ত
বশিরুল ইসলাম:
![]() |
| কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলার জানুয়ারী থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধ সংখ্যা |
আইনশৃংখলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুলিশের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক অবস্থা দাবী করলে ও সাধারণ মানুষ মনে করছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। তার পরে ও কুমিল্লা পুলিশ সুপার পরিস্থিতি স্বাভাবি রাখার লক্ষ্যে সকলের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরামর্শ প্রদান করেছেন। কুমিল্লা জেলার ১৬টি উপজেলার ১৭টি থানায় জানুয়ারী ২০১৬ থেকে এই পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধের সংখ্যা ও মামলার বিস্তারিত হল গত সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় ৬০৮টি অপরাধ সংগটিত হয়। গত অক্টোবরে ৫৭৩টি অপরাধ সংঘটিত হয় তার মধ্যে অক্টোবরে কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় ১০৯টি,সদর দক্ষিন থানায় ৫৮টি, চৌদ্দগ্রাম থানায় ৪৩টি, নাঙ্গলকোট থানায় ১৮টি, লাকসাম থানায় ১৮টি, মনোহরগঞ্জ থানায় ১৯টি, বুড়িচং থানায় ৩২টি, ব্রাহ্মনপাড়া থানায় ২২টি, বরুড়া থানায় ২১টি, চান্দিনা থানায় ৪৫টি, দাউদকান্দি থানায় ৪৯টি, তিতাস থানায় ২৫টি, মেঘনা থানায় ১৪টি, হোমনা থানায় ১৫টি, মুরাদনগর থানায় ২৭টি, দেবিদ্বার থানায়৩৯টি, বাঙ্গরা থানায় ১৯টি অপরাধ সংঘটিত হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে মোট অপরাধ সংঘটিত হয় ৫৩৫টি। আগষ্ট মাসে অপরাধ সংঘটিত হয় ৬৪৯টি। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় আগষ্ট মাসের চেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে অপরাধের সংখ্যা তুলনামূলক কম কিন্ত অক্টোবরে অপরাধের সংখ্যা কিছুটি বেড়ে গিয়েছে। জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার ১৬ উপজেলার ১৭ থানায় ১৩২ খুনের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে চুরি, ডাকাতি, নারী নির্যাতন, অপহরণ ও মাদকসহ অন্যান্য অভিযোগে মোট মামলা হয়েছে পাঁচ সহ¯্রাধিক। জানুয়ারি মাসে খুনের ঘটনা ঘটে নয়টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৩৬, অস্ত্র মামলা দুটি, মাদক ২০৭সহ অন্যান্য অপরাধে মামলা ৪৩৬টি, ফেব্রুয়ারি মাসে খুন ১৪, নারী ও শিশু নির্যাতন ৩৮, অস্ত্র ৭, মাদক ৩৪২ সহ অন্যান্য অপরাধে মোট মামলা ৫০০। মার্চ মাসে খুন ১৪টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৬১, অস্ত্র ৮, মাদক ১৮৯, অন্যান্য অপরাধ ৪৯২, এপ্রিলে খুন ১৫, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৩, অস্ত্র ৩, মাদক ১৮৮, মোট অপরাধ ৪৯৯, মে মাসে খুন ১৬, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৭, অস্ত্র ৮, মাদক ১৭৫টি মোট অপরাধ ৫০৫।
জুন মাসে খুন ১০টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৫২, অস্ত্র ৭, মাদক ২০৯, মোট অপরাধ ৫৪৬, জুলাই মাসে খুন ৬, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৯, অস্ত্র ৬, মাদক ১৭১, মোট মামলা ৪৫৪টি, আগস্টে খুন ১০, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪২, অস্ত্র ১৪, মাদক ৩৩১, মোট অপরাধ ৬৪৯, সেপ্টেম্বরে খুন ১৪, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৭, অস্ত্র ১৪, মাদক ২৪১, মোট অপরাধ ৫৩৫, অক্টোবরে খুন ১৪, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৮, অস্ত্র ৮, মাদক ৩২০সহ মোট অপরাধ ৫৭৩টি। অপরদিকে, ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত শুধু খুনের ঘটনাই ঘটেছে ১০টি। এর মধ্যে গত ৮ নভেম্বর-দাউদকান্দির গৌরীপুর পেন্নাই এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসাইন সরকার ও গাড়িচালক মহিউদ্দিনের হত্যাকান্ডটি ছিল বেশ আলোচিত। ১৩২টি হত্যাকান্ডে র মধ্যে বেশ কিছু আলোচিত হত্যাকান্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ঘটে যাওয়া কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকান্ডটি অন্যতম, যা নিয়ে কুমিল্লাসহ দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। যদিও ওই হত্যাকান্ডের এখনো কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা সিআইডি।
পুলিশের পক্ষ
থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় ৩টি বিদেশী রিভলবার, ৬টি পিস্তল একটি দেশী ৫টি বিদেশী, ২টি পাইপগান ৩টি এলজি, ৩২টি গুলি, ৮টি কার্তুজ ও ২টি খোসা মোট ৬৮টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গত অক্টোবর মাসে ১টি বিদেশী রিভলবার, ৫টি বিদেশী পিস্তল, ১টি পাইপগান, ৪টি এলজি, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ১৬টি কার্তুজ মোট ৪৪টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গত অক্টোব মাসে ভেজাল খাদ্যে ভোক্তা অধিকার আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট অভিযান হয় ২৩টি মামলা করা হয় ৪১টি জরিমানা করা ১লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ৪২জনকে অর্থ দন্ড করা হয়। বিদ্যুৎ আইনে অভিযান করা ৩টি , মামলা হয় ৩টি, ৩জনকে ২৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শিল্প কারখানা ও গার্মেন্টস ফ্যাক্টুরীতে অভিযান পরিচালনা করা হয় ৫টি, মামলা হয় ৭টি, অর্থদন্ড করা হয় ৬জনকে ১লক্ষ ৪৩হাজার টাকা। ইভটিজিংয়ের কারণে ৪টি অভিযানে ৫টি মামলায় ১জনকে ১০হাজার টাকা জরিমানা ও ৪ জনকে কারাদন্ড দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আগষ্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে অপরাধ হ্রাস পেয়েছে। আগষ্ট, ২০১৬মাসে বিভিন্ন অপরাধের জন্য ৬৪৯টি এবং সেপ্টেম্বর/২০১৬মাসে ৫৩৫টি মামলা রুজু হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০১৬ মাসে দস্যুতা, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সিদেল চুরি ও অন্যান্য চুরি আইনে মামলা দায়ের বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অন্যান্য অপরাধ হ্রাস পেয়েছে। অপরাধ প্রবণতা হ্রাস করার কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহন এবং মামলা ও গুরুতর অপরাধের সংখ্যা হ্রাসকরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে সভায়।

No comments:
Post a Comment