চান্দিনা থানা পুলিশ কর্তৃক আটক-১।
বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার মাইজখার ইউনিয়নে মধ্যযুগীয় কায়দায় এক গৃহ বধূকে নির্যাতনের অভিযোগে চান্দিনা থানা পুলিশ কর্তৃক রাজ্জাক মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি মাইজখার ইউনিয়নের মজিদ মিয়ার পুত্র নির্যাতিত মহিলা মাইজখার ইউনিয়নের মো: গনি মিয়ার মেয়ে। তাকে একই বাড়ীর মজিদ মিয়ার পুত্র রাজ্জাক ও হারুনুর রশিদ গাছের সাথে বেধে রাতভর নির্যাতন করলে নির্যাতিত মহিলার বাবা থানায় অভিযোগ করলে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুই বছর পূর্বে রাজ্জাক মিয়ার সাথে বিবাহ হয় ভিকটিম মোছেনার (৩০)। বিবাহের পর থেকে মোছেনা স্বামীর বাড়ীতে থাকতো। স্বামীর বাড়ীতে থাকা অবস্থায় মোছেনা গর্ভবতী হলে রাজ্জাক মিয়া ও স্থানীয় মহরম মিয়ার স্ত্রী সালেহা গ্রাম্য ডাক্তারের নিকট নিয়ে মোছেনার বাচ্চা নষ্ট করে। সন্তান নষ্টের পর থেকে মোছেনা মানুষিক চাপে ভোগতে থাকে। যৌতুকের টাকার জন্য মোছেনাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। নিজের সুখের কথা চিন্তা করে ১০ হাজার টাকা করে দুই বারে বিশ হাজার টাকা পরিশোধ করে মোছেনা। পরবর্তীতে তার নিকট আরো বেশি টাকা দাবী করলে মোছেনা অত্যন্ত নিরিহ পরিবারের বিধায় সে টাকা দিতে পারেনি ফলে রাজ্জাক মিয়া মোছেনাকে বিয়ের কথা অস্বীকার করে । এদিকে স্থানীয় মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে ও ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্জাক মিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় মেম্বার ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা তার ভয়ে মুখ খুলতে চায়না। সে এতোই প্রভাশালী সাংবাদিকদেরকে ও উচ্চ বাচ্চ কথায় গালি গালাজ করে। গত ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মোছেনাকে তার স্বামী ও ভাইয়েরা মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সাথে বেধে রাতভর শারিরিক নির্যাতন করে। উক্ত ঘটনায় ইউসুফ মেম্বার স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে দশ হাজার টাকায় রফদফা করে। কিন্তু সেই দশ হাজার টাকা ও মোছেনার হাতে এসে পৌছায়নি। সকালে স্থানীয় মেম্বার ইউসুফ মিয়াকে খবর দিলে তিনি এসে মোছেনার হাত পা খুলে দেয় এবং তাকে চিকিৎসার জন্য চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার মোছেনার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। বর্তমানে মোছেনা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় রফিক মিয়ার স্ত্রী লিলুফা জানান, আমি নিজ চোখে দেখেছি রাজ্জাক মিয়া গভীর রাতে মোছেনার বাসায় আসা যাওয়া করতো। তাকে আমি নিজে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি আপনি যে আসেন এলাকার লোক অনেক কিছু মনে করে। সে বলে আমি বিয়ে করেছি আমার স্ত্রী’র নিকট আমি আসি কে কি বল্ল তা আমার দেখার বিষয় নয়। এই কথা গুলো আমি তার ভাইয়ের নিকট বলতে চাইলে সে আমাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখায় আমার কল্লা ফালাইয়া দি
ব ।
উক্ত ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় মেম্বার ইউসুফ মিয়াকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, গত ২৭ জুন অর্থাৎ ঈদের পরের দিন সকালে রাজ্জাক মিয়া আমাকে ফোনে বলে মেম্বার সাহেব আমরা রাতে চুর ধরেছি আপনি আমাদের বাড়ীতে আসেন চোরকে নিয়ে যান। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মোছেনা বাধা অবস্থায় এবং তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন। আমি সাথে সাথে স্থানীয় লোকদের সহযোগীতায় গাছের সাথে বাধা অবস্থা থেকে খুলে দেই। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাই। এরপর আমি আর কিছু বলতে পারছিনা। তবে আমি শুনেছি মোছেনা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। টাকার ব্যাপারটি জানতে চাইলে তিনি জানান, এই টাকাটা মেয়ের চিকিৎসার বাবদ দেওয়ার জন্য বলেছিলাম কিন্তু কেন রাজ্জাকের লোকজন টাকা দেয়নি তা বলতে পারছিনা।
অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই নুরুজ্জামান জানান, অভিযোগের সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মোছেনাকে গাছের সাথে বেধে নির্যাতনের সত্যতা পেয়েছি। স্থানীয় মেম্বার মোছেনাকে গাছের সাথে বাধা অবস্থা থেকে খোলে চিকিৎসার জন্য চান্দিনা হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কুমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছে শুনতে পেয়েছি। তবে মেয়ের সাথে রাজ্জাক মিয়ার বিয়ের ব্যাপারটির সত্যতা এখনো পাইনি।
চান্দিনা থানার পুলিশ পরিদর্শক মো: নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, আমাদের থানায় ভিকটিম মোছেনার বাবা গনি মিয়া বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্ত রাজ্জাক মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রাজ্জাক মিয়ার বক্তব্য ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আমরা তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করি।
No comments:
Post a Comment