কুমিল্লায় ২০১টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি, আগামী ৭দিনের মধ্যে জবাবের নির্দেশ ।

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা শিক্ষা বোডের অধীনে পরিচালিত ২০১টি প্রতিষ্ঠানকে
চিঠি পাঠিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। আগামী ৭দিনের মধ্যে ফলাফল বিপর্যের কারণ ও আগামীতে করণীয় কি উল্লেখ পূর্বক চিঠির জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কুমিল্লা জেলার ৮৯টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ২৩টি, লক্ষ্মীপুর জেলার ১৭টি, চাঁদপুর জেলার ২৬টি, ফেনী জেলার ২২টি এবং নোয়াখালী জেলার ২৪টি।খারাপ ফলের কারণে শিক্ষাসহ চাকরি ক্ষেত্রে কুমিল্লা পিছিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষাবিদরা। কুমিল্লায় ফল বিপর্যয়ের জন্য বোর্ড কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ফলাফল খারাপ হওয়াকে কারণ হিসেবে দেখছেন। 
এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত রোববার ফল প্রকাশের সময় কুমিল্লা বোর্ডের ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছিলেন।
কুমিল্লার নামি প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, “প্রশ্ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি কড়াকড়ি হওয়ার কারণেও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল বির্পযয় ঘটেছে। ফলাফল বিপর্যয়ের কয়েকটির মধ্যে একটি কারণ ইংরেজি বিষয়ে ভালো শিক্ষক না থাকা ।” কুমিল্লায় এবার ইংরেজিতে পাসের হার ৬২ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর গণিতে পাস করেছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী।  কুমিল্লায় সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে মানবিক বিভাগে। বিজ্ঞানে ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৪৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করলেও মানবিকে এই হার ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এই বোর্ডে ফেল করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু ইংরেজিতে ফেল করেছে ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার ইংরেজিতে ফেলের সংখ্যা ২১ দশমিক ৪৮ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, কুমিল্লায় পাসের হার কোনোভাবেই ৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশের নিচে আসেনি। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৬১ দশমিক ২৯ শতাংশ। পরের বছর ২০১৪ সালে পাস করে ৭০ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ৪৯ শতাংশে।
উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে বের করতে একটি তদন্ত কমিটি করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার এক সভায় কমিটি গঠনের পাশাপাশি যেসব কলেজের ফল খারাপ হয়েছে, তাদের কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত ও হয়েছে বলে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ জানিয়েছেন। 
এবার এইচএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। সব বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার প্রায় ৬৯ শতাংশ। গত বছর কুমিল্লায় পাসের হার ছিল ৬৪ শতাংশ। 
কুমিল্লা বোর্ডের ছয় জেলার ৩৩৬টি কলেজ থেকে মোট ১ লাখ ৩৭২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছিল, তাদের মধ্যে পাস করেছে ৪৯ হাজার ৭০৪ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা  ছিল ১৯১২। এবছর জিপিএ-৫ কমে হয়েছে ৬৭৮ জন।
প্রধান মন্ত্রীর তাগিদের দুই দিনের মধ্যে গত মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা বোর্ডের বৈঠক হয়। এতে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল খালেকসহ সব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক জামাল নাসেরকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন উপ-পরিদর্শক বিজন কুমার চক্রবর্তী এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, “ফল বিপর্যয়ের কারণ ও আগামীতে কী করণীয় নির্ধারণ করতে খারাপ ফলাফলকারী কলেজগুলোকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

No comments:

Post a Comment