খানা খন্দ আর গর্তে ভরপুর

কোটবাড়ী বিশ^রোড -টমছমব্রিজ-চাঁপাপুর সড়ক 
বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা শহরের কোটবাড়ী বিশ^রোড-টমছমব্রিজ হয়ে বাখরাবাদ  চাপাপুর রাস্তা দীর্ঘ ছয় বছর মেরামত করা হয়নি। এ রাস্তা দিয়ে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলা সহ নোয়াখালী, চাদপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষীপুর জেলা ও উপজেলা থেকে আগত রোগী ও রোগীর স্বজনরা  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করে। শাসনগাছা ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হওয়ায় এই সড়কটি এখন হাসপাতাল ও কুমিল্লা শহরে প্রবেশে প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। কোটবাড়ী বিশ^রোড-টমছমব্রিজ-বাখরাবাদ চাঁপাপুর সড়কটির এতোই বেহাল অবস্থা যে দুই পাশে খানা খন্দ আর গর্তে ভরে গিয়েছে। রাস্তা দিয়ে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কিছু কিছু যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আবার কিছু বিকল হয়ে পরছে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। বিশেষত গর্ভবতী মহিলা সহ অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ্য রোগীদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। অনেকে সময় রাস্তায় ডেলিভারী হচ্ছে।  প্রশাসনের দৃষ্টি পড়লেও আগামী পাঁচ মাস আগে মূলত বড় ধরনের মেরামত কাজ হচ্ছেনা। । সাধারণ মানুষের দাবী সড়ক বিভাগ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। এই রাস্তা দিয়ে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী যাতায়াত করে অনেক রোগী সহ রোগীর লোক যাতায়াত করে অথচ এই রাস্তাটির এই অবস্থা। গত কিছু দিন পূর্বে এক ডেলিভারী রোগী ইপিজেডের সামনের রাস্তায় ডেলিভারী করতে বাধ্য হয়েছে।  রাস্তাটি দিয়ে রোগীদের যাতায়াতে প্রচন্ড কষ্ট হয় বলে জানিয়েছে চান্দিনা থানার বাবুল নামের এক রোগীর স্বজন।
প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউট, আদর্শ সদর উপজেলা কার্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কুমিল্লা ম্যাটস, হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পরিবেশ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্র সমূহ, ফানটাউনে আসা বিনোদন প্রেমী, ময়নামতি হাসপাতাল সহ আরো কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল জেলা ও উপজেলা থেকে আগত কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং  রোগী ও সাধারণ জনগন। 
কিন্তু গত ৬বছরের ও অধিক সময় ধরে এই রাস্তার বড় ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় রাস্তাটি প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী। তারপরও সড়ক বিভাগ মাঝে মাঝে এই রাস্তায় ডিপার্টমেন্টাল মেরামতের কাজ করে থাকে। ছোট ছোট মেরামত কাজ গুলো ইট শুরকি দিয়ে করার কারণে একটু বৃষ্টিতে ভিজে বড় গাড়ির চাপায় নষ্ট হয়ে পুনরায় সেখানে আবার গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে ছোট ছোট গর্তগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে খাদে পরিণত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে রাস্তা ঘুরে দেখা যায়, টমছম ব্রিজ চৌরাস্তা থেকে শুরু করে চাঁপাপুর পর্যন্ত প্রায় ছোট বড় ৩০টি গর্ত রয়েছে। এই গর্ত গুলোতে অনেক সময় অটোরিক্স, রিক্সা, রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স পরে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আর সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। শুধু তাই নয় অনেকে এই গর্তের কারণে দূর্ঘটনার স্বীকার ও হচ্ছে।   একই সাথে যেমন রোগীর ক্ষতি হচ্ছে সাথে সাথে যানবাহনের ও ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইবনেতাইমিয়া স্কুল, ইপিজেডের সামনের রাস্তা, ঢুলিপাড়া চৌমুহনী, ফুল বন বেকারী ও ডায়না বেকারীর সামনে , কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  সম্মুখে, হেলথভিউ সিটিস্ক্যান সার্ভিসেস, সানি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একই অবস্থা। এই রাস্তা দিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোক সহ বাখরাবাদ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ঔষধাগার ঔষধ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাই সাধারণ মানুষের দাবী দেশ যেভাবে এগুচ্ছে রাস্তাঘাট গুলোও যেন সেভাবে মেরামত করা হয়।   
বাংলালিংকে কাস্টমারকেয়ারে কর্মরত মো: মমিনুল ইসলাম জানান, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আসা যাওয়া করার সময় অবস্থা এমন মনে হয়  যেন এই এলাকায় কোন জন প্রতিনিধি নেই এবং সরকারী কোন লোক আসা যাওয়া করেনা। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে মাথা সক্ত হয়ে গিয়েছে অটোরিক্সার ধাক্কায়। গর্তে পরে অটোরিক্সার রডের আঘাতে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্যথা হয়ে যায়। অথচ এই রাস্তায় একটি উপজেলা সহ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও কার্যালয় রয়েছে। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় আরো মনে হয় এই কোন অজোপাড়াগায় এসেছি । রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে সুস্থ্য লোকের ও শারীরিক সমস্যা হয় আর অসুস্থ্য লো
ক আরো অসুস্থ্য হয়।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ার কারণে কিছু দিন পর পর রাস্তাটি নষ্ট হয় । রাস্তাটি নষ্ট হলে ও মাঝে মাঝে আমরা ডিপার্টমেন্টাল মেরামত কাজ করে আসছি। আমরা এই রাস্তাটিকে প্রজেক্টের আওতায় এনে বড় ধরনের কাজ করার জন্য ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে রাস্তার বড় ধরনের মেরামত কাজ ধরব। রাস্তাটি দৈর্ঘ্যে ২৩.৫ কি:মি:। তার মধ্যে বিজিবি হেডকোয়ার্টার  থেকে বরুড়া হাসপাতাল পর্যন্ত ১০ কি: মি: ১০ফিট প্রশস্তের এই রাস্তাটি ১৮ফি প্রশস্তে উন্নীত করণ এবং কোটবাড়ী বিশ^রোড থেকে টমছমব্রিজ হয়ে চাঁপাপুর পর্যন্ত ৫.৫ কি: মি: ১৮ফুট  রাস্তাটি প্রথমে ইটসুরকি আর বালু দিয়ে একটি লেয়ার করার পর আবার পাথরের একটি লেয়ার এরপর ব্লাকটেপ করা হবে। আগের তুলনায় কোটবাড়ী-টমছমবিজ্র-চাপাপুর সড়কটি মজবুত করে করা হবে। কেননা এই রাস্তা দিয়ে অতিভাড়ী যান চলাচল করে থাকে। যদিও এই রাস্তা মহসড়কের আওতায় নয় তবুও এই রাস্তাটি মহাসড়কের ন্যায় ব্যবহার হচ্ছে।  কাজটি প্রজেক্টের আওতায় আসছে সুতরাং কাজটি ভালমানের হবে বলে আমার বিশ^াস। তবে কুমিল্লা শহরের পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে ও রাস্তা গুলো দ্রুত নষ্ট হয়। 

No comments:

Post a Comment