ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাই।

বশিরুল ইসলাম:
শত জল্পনা আর কল্পনার পর অবশেষে কুমিল্লায় বিভাগ হতে যাচেছ। কিন্তু কুমিল্লা নয় ময়নামতি নামে । ‘ময়নামতি’ নামে কুমিল্লা বিভাগের নামকরণ হবে এমন ঘোষণায় ফুঁসে উঠছে কুমিল্লাবাসী। কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা এবং এই দাবি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নতুন নামে বিভাগ ঘোষণা মেনে নেবে না কুমিল্লার সর্বস্তরের জনগণ। ময়নামতি নামে বিভাগের খবরে কুমিল্লার সাধারণ মানুষ সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মহলে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কুমিল্লার বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। কুমিল্লাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।কুমিল্লাকে পিছিয়ে দেয়ার আরেকটি গভীর ষড়যন্ত্র । 

কুমিল্লার মানুষ ১৯৮৪ সাল থেকে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে কুমিল্লা বিভাগের আন্দোলন করে আসছে। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই সময়ের কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা বর্তমান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তার সাথে একাত্বতা পোষণ করে কুমিল্লার সকল মানুষ। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সেই চলমান দাবি উত্থাপন করে জাতীয় সংসদে। তার দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভাগ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বাংলাদেশে যে সমস্ত বিভাগ ঘোষিত হয়েছে সেগুলো প্রাচীন জেলার নামেই ঘোষিত হয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট এই নামে বিভাগ হলে কুমিল্লার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন। কুমিল্লার নামেই বিভাগ হতে হবে।
কুমিল্লার বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, কুমিল্লা বাদ দিয়ে ময়মনামতি নামকরণ করে বিভাগ ঘোষণা কুমিল্লাবাসী কখনো মেনে নেবে না। ইতোমধ্যেই সংগঠিত হতে শুরু করেছে কুমিল্লাবাসী। কুমিল্লাকে নিয়ে এ গভীর ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লাবাসী। কিছুতেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না কুমিল্লার সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যেই প্রতিবাদের ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লার পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। একনেকের বৈঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগের নাম ময়নামতি হবে। তবে এই নামটি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।  মন্ত্রী আরো জানান, এখন থেকে নতুন বিভাগের নাম জেলার নামে হবে না। নতুন বিভাগের নাম ভিন্ন নামে হবে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই ঘোষণায় ক্ষোভ এবং দুঃখ প্রত্যাশা করে কুমিল্লার সব শ্রেণি পেশার মানুষ। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি ও ক্রীড়ার পীঠস্থান কুমিল্লা বিভাগ হলে তা হবে ‘কুমিল্লা’ নামেই এমনই প্রত্যাশা কুমিল্লাবাসীর। তবে কেন এই নামকরণের পরিবর্তন। নতুন নামেই বা হবে কেন কুমিল্লা বিভাগ। ময়নামতি নামকরণের পেছনে কি আছে এমনই প্রশ্ন কুমিল্লাবাসীর মনে।

 এরই অংশ হিসেবে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ ময়নামতি নয় কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। উক্ত মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহন করে কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা আরফানুল হক রিফাত,  কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী এনামুল হক ফারুক, বাংলার আলোড়নের প্রধান সম্পাদক মো: রফিকুল ইসলাম, রুপসী বাংলা পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক অশোক বড়–য়া, বাংলার আলোড়ন পত্রিকার সহ-সম্পাদক জুনায়েদ শিকদার তপু, একশে টিভি’র কুমিল্লা প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির রনি, সময় টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি বাহার রায়হান, বাংলা ভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি সাইয়েদ মাহমুদ পারভেজ, দৈনিক ডাক প্রতিদিন পত্রিকার সহ সম্পাদক হাবিব আল জালাল, কুমিল্লার আলো পত্রিকার সম্পাদক জসিম উদ্দিন কনক, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকির, আরটিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া, দেশ টিভির সাংবাদিক এম ফিরোজ, মহানগর যুবলীগ নেতা হাবিবুলর আল সাকি, তরুণ লীগের সভাপতি হাবিবুল আল সাদী, সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক বশিরুল ইসলাম, সাংবাদিক খন্দকার আলে এমরান, সাংবাদিক জাহিদ, সাংবাদিক সাাইফুল, সাংবাদিক মো: রকিব উদ্দিন ভুইয়া তুহিন

No comments:

Post a Comment