বশিরুল ইসলাম :
হাসপাতালে কর্মরত বিভিন্ন কর্মকর্তা ও রোগীর লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিনিয়র ডাক্তারগন হাসপাতালে অপারেশনের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া অন্যান্য সময় কম থাকেন। জুনিয়র ডাক্তার, অনারারারি ডাক্তার বা ইন্টার্ণী ডাক্তার দিয়ে বেশির ভাগ সময় অপারেশন করা হয়। সিনিয় ডাক্তারদের সামনে কাজ করে ভুল করলে হুমকি ধমকি বা শাসনের ভয়ে বেশির ভাগ রোগীকে রাতে অপারেশন করা হয়। কেননা সিনিয়র ডাক্তাররা রাতে বেশি একটা থাকে না। রাতে যেভাবে মন চায় অপারেশন থিয়েটারে সেই ভাবে কাজ করে প্র্যাকটিস করা হয় রোগীর জীবন নিয়ে। বেশি ভুলে মৃত্যু হলে ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বক্তব্য আসে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ ছিল তাই রোগীর মৃত্যু হয়। এদিকে এক রোগীর লোক বলে আমরা তো জানিই না যে কে ডাক্তার বা কোন ডাক্তার রোগীর অপারেশন করবেন। তেমন কোন তালিকা ও দেওয়া হয়না। তাই যার মন চায় সে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে অপারেশন করতে পারে। এদিকে হালিমা নামের রোগী অপারেশন করার পর থেকে পেটের ব্যথা নিয়ে কুমেক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অনেক ঘুরাঘুরি করে ও চিকিৎসা করতে পারেননি। অবশেষে দীর্ঘ আট মাস পর তার চিকিৎসা করতে হয়েছে। অনেক আল্ট্রা করেও আল্ট্রার ডাক্তার পেটের ব্যথার কিছু নেই বলে মন্তব্য করে আসছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তাহলে হাসপাতালে এতগুলো আল্ট্রা করা হলে ডাক্তার সব গুলো আল্ট্রার রিপোর্ট নরমাল দিয়ে আসছে কিভাবে। সে কি আসলেই আল্ট্রা করেছে নাকি রোগীকে আল্ট্রা না করে রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন আসছে সমস্যা আল্ট্রা মেশিনে নাকি সমস্যা ডাক্তারের। হয়তো ডাক্তার আল্ট্রা ভালভাবে করতে পারছেনা অথবা মেশিন সমস্যা। তাই প্রশাসনের নিকট সাধারণ রোগীদের আকুল আবেদন ব্যাপারটি খতিয়ে দেখার জন্য কেননা বিষয়টি জীবনমৃত্যুর সাথে জড়িত বিধায় এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু একটি আল্ট্রা পরিক্ষার উপর নির্ভর করে ডাক্তার চিৎিসা দিয়ে থাকেন। হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে উক্ত রোগীর ভর্তির কাগজ খোজতে গিয়ে সেখানে সকল রোগীর ভর্তির কাগজ পাওয়া গেলেও হালিমা নামের রোগীর ভর্তির কাগজটি পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে আল্ট্রা ইউনিটের কর্তব্যরত ডাক্তার ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন অর্ধ-শতাধিক রোগী আল্ট্রা করার জন্য আসে কিন্তু ডাক্তার বিশটির বেশি করবেন না বলে রোগীদের জানান। ফলে রোগীর লোকজন আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে সিরিয়ালের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সিরিয়ালের ব্যবস্থা করেন। অভিযোগ রয়েছে ডাক্তার ও কর্তব্যরত লোকজনের যোগসাজসে রোগীর লোকের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকেন অথবা বাহিরে আল্ট্রা করার পরামর্শ দেন। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিলে বিশটির বেশিও আল্ট্রা করা হয় যা অনেক সময় ত্রিশটি পর্যন্ত করা হয়। টাকা না দিলে বাহিরে আল্ট্রা করতে হয়। ডাক্তারদের বিরদ্ধে আরো অভিযোগ অতিরিক্ত পরীক্ষা নিরিক্ষা ও ঔষধের সরঞ্জাম লিখে থাকেন।
উক্ত ঘটনায় হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা: আব্দুল আউয়াল সোহেল জানান, হাসপাতালে গাইনী ওয়ার্ডে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি অনাকাঙ্খিত একটি ভুল। এই ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে কোন রোগীকে অপারেশনের সময় আরও সচেতনতার সাথে কাজ করতে হবে। এই রকম ভুল যেন আর না হয় সেদিকটি সকল ডাক্তার যেন মাথায় রাখে সে বিষয়টি ডাক্তারদেরকে অবহিত করার চেষ্টা করা হবে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা: স্বপন কুমার অধিকারী জানান, গাইনী ওয়ার্ডের রোগীর পেটের ভেতর মব পাওয়া গিয়েছে আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছি। এই ঘটনায় আমরা হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করবো । তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

No comments:
Post a Comment