মাদক ব্যবসায় বাধা প্রদান করায় মামাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বাগিনা।

বশিরুল ইসলাম: 
       
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে হাফিজ উদ্দিন মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এবং এই ব্যবসা বন্ধের চেষ্টা করায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আপন বোনের ছেলে বাগিনা হাছান। উক্ত ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকায় মৃত হাফিজ উদ্দিনের মা হাফিজা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ অন্যরা পলাতক।
            স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাছানের বাবা ও মা দীর্ঘদিন ধরে নিহত হাফিজ উদ্দিনদের বাড়িতে থাকে। হাছান সদর উপজেলার কাটাবিল গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে। কামাল মিয়া ও সোহেল ঘরজামাই হিসেবে এই বাড়ীতে থাকে পাশাপাশি মাদক ব্যবসা করে । গত ৫ডিসেম্বর হাফিজ উদ্দিনের সাথে সোহেল ও কামালের কথা কাটাকাটি হয়। ৬ ডিসেম্বর সকালে  ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে কামাল, সোহেল ও কামালের ছেলে হাছান সম্পত্তির অংশ দাবী করে এবং তা নিয়ে তুমুল বাক বিতন্ডা হয়।  দুপুর ১.৩০টায় বাড়ীর সন্নিকটে রাস্তার পাশে তাকে কুপিয়ে জখম করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে হাফিজ উদ্দিন মারা যায়। হাফিজ উদ্দিনের ২ ছেলে ও  ৪ মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে আসমা (১৯), ছেলে মিজান (১৫), তান্নি  (৮) ও মুন্নী (৮),  ছেলে তানভীর (৬), সালমা (৫)। 
        নিহত হাফিজ উদ্দিনের ছোট মেয়ে মুন্নী (৮)জানায়, আমি জঙ্গলপুর নুরানী মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেনীতে লেখাপড়া করি। মাদ্রাসা থেকে  দুপুরে বাড়ীতে আসার সময় বাড়ীর পূর্বপাশে রাস্তার পাশে হাছান আমাকে বলে যদি আজকে হাফিজ উদ্দিনকে পাইতাম তাহলে তাকে জীবনে মেরে ফেলতাম তখন আমি বল্লাম এটা কি রং পাইছেন নি যা ইচ্ছা তা করবেন। তখন হাছান আমাকে এসে মারধর করলে আমার চিৎকার শুনে বাবা এবং মা এগিয়ে আসলে আমার মার চোখে আমার দাদী মরিচের গুরা মারে আর বাবাকে হাছান কুপিয়ে জখম করে। আমাদের চিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন দৌড়ে আসলে হাছান ও তার বাবা দৌড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আমার বাবাকে সেখান থেকে গাড়ীতে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাবা মারা যায়। 
          উক্ত ঘটনায় কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় যোগযোগ করা হলে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিকাপুরে হাফিজ উদ্দিন নামে একজন নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে আমরা মৃত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার নিদের্শ দেই। সেখান থেকে স্বজনরা বাড়ীতে নিয়ে লাশ দাফন করে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আমরা হাফিজ উদ্দিনের মা হাফিজা বেগমকে আটক করেছি। এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। 

No comments:

Post a Comment