কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে মেধাতালিকায় ৭ম আবেদা-নূর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ।

বশিরুল ইসলাম: 
                                     কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধিনে চান্দিনা উপজেলার আবেদা-নূর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মেধাতালিকায় ৭ম এবং চান্দিনা উপজেলায় একমাত্র শতভাগ পাশকৃত প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আবেদা-নূর উচ্চ বিদ্যালয়, তৃতীয় স্থানে রয়েছে চিলোড়া পূর্ব অম্বরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, চতুর্থ স্থানে রয়েছে করতলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পঞ্চম স্থানে রয়েছে এতবারপুর আজম উচ্চ বিদ্যালয়। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এবছর শতভাগ পাশকরা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজ, এথনিকা এন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, আওয়ার লেডী ফাতেমা গালর্স হাই স্কুল, ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, ক্যান্টমেন্ট বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, চান্দিনা উপজেলার আবেদা-নূর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুরের দ্যা চার্টার একাডেমী, ব্রাহ্মনবাড়িয়ার উজানচর কে.এন হাইস্কুল, নোয়াখালী জিলা স্কুল, নোয়াখালী জেলার জয়নাল আবেদীন মেমোরিয়াল একাডেমী, ফেনী গালর্স ক্যাডেট কলেজ, ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লক্ষীপুরের প্রতাপগঞ্জ হাই স্কুল। চান্দিনা উপজেলায় সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে ওরাইন উচ্চ বিদ্যালয় তাদের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৬জন পাশ করেছে ১২জন। সারাদেশে একেবারে পাশ করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৩টি। 
                                         উল্লেখ্য এবছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে মোট ১লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে উত্তীর্ণ হয়েছে ১লাখ ৮ হাজার ১১জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৫০জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা ২৫০৪জন কম। গত বছর পাশের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবছর পাসের হার কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। বিশ^স্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নম্বর প্রদান নির্দেশিকা অনুযায়ী এবার সব পরিক্ষক একইভাবে খাতা মূল্যায়নের কারণে ফলাফলের এই চিত্র বের হয়েছে। 


                                            জানা যায়, চান্দিনা উপজেলায় আবেদা-নূর ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত আবেদা-নূর উচ্চ বিদ্যালয়, আবেদা-নূর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,  আবেদা-নূর ফাজিল মাদ্রাসা (শতভাগ পাশ)  আবেদা-নূর বিএম কলেজ সহ সকল প্রতিষ্ঠান গুলো প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই চান্দিনা , কুমিল্লা তথা সারাদেশে মেধাতালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী সহ অসংখ্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও মন্ত্রণালয়ে কর্মরত রয়েছে।  তাই এই প্রতিষ্ঠানের ভাল ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরা রাখা সকলের দায়িত্ব বলে মনে করেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ। 
                                                   এদিকে আবেদা-নূর ওল্ড স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আতাউর রহমান গণি জানান, আবেদা-নূর ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে সুনামের সহিত সারা দেশে ফলাফলের দিক দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে আসছে। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল বিপর্যয়ের মধ্যেও আবেদা-নূর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিক উচ্চ বিদ্যালয় ও আবেদা-নূর ফাযিল মাদ্রাসা ভাল ফলাফল করায় আবেদা-নূর ফাউন্ডেশনের সকল শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি আগামীতে আবেদা-নূর কমপ্লেক্সের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাল ফলাফল বোর্ডে শীর্ষ স্থান ধরে রাখবে। সাবেক শিক্ষা সচিব মরহুম ঈরশাদুল হক সাহেব এর নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান আবেদা-নূর ফাউন্ডেশন বর্তমানে জাতীয়
ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত।
                                                 আবেদা-নূর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গুলশানারা জানান, আমরা আশানুরুপ ফলাফল পাইনি। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৮জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে ৪জন এ+ পেয়েছে, ৩০জন এ পেয়েছে এবং ১৪জন এ-পেয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এরকম ফলাফল বিপর্যয় না হলে হয়তো আরো ভাল ফলাফল করতে পারতো আমাদের শিক্ষার্থীরা। 




No comments:

Post a Comment