বশিরুল ইসলাম:
অস্ট্রেলিয়ার এক নার্সের হৃদয় বিদারক পোস্ট ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে! টুইটারে এই পোস্টের পর হাজারও মানুষ তাকে স্যালুট জানিয়েছেন। কেউ তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। তার এ পোস্টের পর হাজার হাজার মানুষের নার্সের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়েছে। হাসপাতালে মৃত্যু পথযাত্রী রোগীকে রাতদিন সেবা করে সুস্থ করে তোলেন নার্সরা। কিন্তু রোগী সুস্থ হলে দিন শেষে তার পুরো কৃতিত্ব পান ডাক্তার। নার্সদের কথা কারো মনেই থাকে না। সবাই মনে করে নার্স তো তেমন কিছুই জানে না। সে তো ‘সামান্য একজন নার্স’। কটুক্তি সইতে না পেরে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এক নার্স টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছেন। যেখানে তার মনের সকল ক্ষোভ উঠে এসেছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এক নার্স একটি আবেগঘন স্মৃতি টুইটার পোস্ট করে। আর সেই পোস্ট পড়ে অনেক ইউজার নার্সকে স্যালুট জানিয়েছেন। অনেক ইউজার নার্সদের ছোট করে দেখার জন্য তার কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
টুইটারে পোস্ট দেওয়া ওই নার্সের নাম কাইটলিঙ্ক ব্রাসিংটন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের টোয়াম্বার এক হাসপাতালে চাকরি করেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে নার্সের চাকুরি করছেন । সম্প্রতি তার এক প্রতিবেশীর কাছে থেকে তিনি অপ্রীতিকর আচরণের শিকার হয়েছেন। আর তাই মনের দুঃখে এমন হৃদয়বিদারক পোস্ট দিয়েছেন। “আমি সামান্য একজন নার্স। প্রতিদিন সকালে নিজের সাধারণ নার্সের পোশাকটি গায়ে পরে ব্যস্ত হাসপাতালে ছুটে চলি। প্রতিদিনের মত আজও আমি হাসপাতালে বের হয়েছি। রাস্তার পাশের এক দোকানে গুঁড়ো দুধ কেনার জন্য দাঁড়ালাম। সেখানে এক প্রতিবেশীর সাথে দেখা হলো। আমাকে দেখে তিনি চমকে উঠলেন। তিনি বললেন, আমাকে কোনদিন নার্সের পোশাকে দেখেননি তিনি। আমি যে ‘সামান্য একজন নার্স’ তিনি সেটি জানতেন না। তাই আজ আমাকে নার্সের পোশাকে দেখে বুঝতে পারলেন আমি ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি আজ প্রায় ১৮ বছর ধরে নার্সের চাকরি করি। ‘নার্স’ শব্দটি আমি অনেকবার শুনেছি। আজকের শব্দটা শুনে আমার হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠলো। আজকে জানতে পারলাম, ‘আমি দুই টাকার সামান্য একজন নার্স।’ ‘আমি একজন নবজাতককে এই পৃথিবীতে আসতে সাহায্য করি। কোন কোন সময় নবজাতকের মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস দিয়ে তাকে প্রথম নিঃশ্বাস নিতে সাহায্য করি। অথচ আমি ‘একজন সামান্য নার্স’। ‘আবার একজন মৃত্যু পথযাত্রী আমার হাত ধরে পৃথিবীর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। আমি তার ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ না করে তাকে পরিস্কার পরিছন্ন করি। তারপর সম্মানের সাথে পরিবারের হাতে তুলে দেই। অথচ ‘আমি একজন সামান্য নার্স’। ‘আমি সন্তান হারানো বাবাকে শান্তনা দেই। গর্ভধারিনী মা আমার বুকে মাথা রেখে অশ্রু ফেলে। আমি তার শরীরে হাত বুলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও তার কষ্ট ভোলাতে সাহায্য করি। কিন্তু ‘আমিই সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি রোগীর সিপিআর (কার্ডিওপুলমোনারী রিসেসসিটেশন) করে তার জীবন ফিরিয়ে আনি। নতুন করে তাকে বাঁচার স্বপ্ন দেখাই। আমি সেই ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি মেডিকেল অফিসারের চোখ, কান ও হাতের কাজ করি। তারা আমার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে আপনাকে ওষুধ দিয়ে সারিয়ে তোলেন। অথচ আমি ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি একজন নবজাতকের বুকে কান দিয়ে তার ফুসফুসের শব্দ শুনতে পাই। তার কোন অঙ্গের অবস্থা কেমন আছে তা জানতে পারি। তা জেনে তার পরিচর্যা শুরু করি। আমি সেই ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি রোগী, পরিচর্যাকারী ও জুনিয়র নার্সদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি। অথচ আমি ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘একজন রোগীর স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্ষেত্রে আমি তার উকিলের কাজ করি। আমার কাছে সবার আগে গুরুত্ব পায় আমার রোগীর সুস্থতা। রোগীকে সুস্থ করার জন্য আমি ডাক্তারের সাথে যুদ্ধ করি। অথচ আমি ‘একজন সামান্য নার্স’। ‘আমি আপনার বাবা মা বা আদরের সন্তানের সেবা করতে গিয়ে নিজের বড়দিন পালন করতে পারি না। আমার সন্তানদেরও জন্মদিন পালন করতে পারি না। অথচ আমি ‘খুব সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি রোগীর শরীরে রক্ত দিতে পারি। রক্ত চেকআপ করতে পারি। ছোটখাটো কাটাছেঁড়াও করতে পারি। ক্ষত স্থান সেলাই করতে পারি। অথচ ‘আমি সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি নবজাতক, শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক সবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট পরিচালনা করতে পারি। তা সত্বেও ‘আমি সামান্য একজন নার্স’। ‘আমি আপনার শিশুর বৃক্করসের ওষুধের ডোজ দিতে পারি। যাতে আপনার শিশুর জীবন বাঁচে। তা সত্বেও ‘আমি সামান্য একজন নার্স’। ‘আমার এতদিনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষের জীবন বাঁচছে। প্রতিদিন জরুরী রোগীদের সেবার করার জন্য দুপুরের খাবার সময় মত খেতে পারি না। অথচ আমি ‘সামান্য একজন নার্স’। ‘এতকিছুর পরও যদি আমি ‘সামান্য একজন নার্স’ ই হই তাহলে হাস্যকরভাবে আমি খুবই গর্বিত। আমি গর্বিত এই ভেবে যে আমি ‘একজন সামান্য নার্স’।”

No comments:
Post a Comment