আগামীকাল পহেলা বৈশাখ বাংলা নব বর্ষ

বশিরুল ইসলাম:
বৃহস্পতিবার চৈত্র সংক্রান্তি। একটি বছরের গ্লানি মুছে দেয়ার মাধ্যমে বিদায় নিলো ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। রাত পোহালেই আর একটি নতুন বাংলা সালের শুরু। শুভ নববর্ষ। স্বাগত ১৪২৪। ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’- সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে সূচি করে তুলতেই আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম দিনটি চিরায়ত আনন্দ-উদ্দীপনা আর বর্ণাঢ্য উৎসবের মধ্য দিয়ে হাজির হবে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। সেই নব প্রভাতে বাঙালি জাতির কায়মনো প্রার্থনা- যা কিছু ক্লেদ, গ্লানি, যা কিছু জীর্ণ-শীর্ণ-বিদীর্ণ, যা কিছু পুরাতন জরাগ্রস্থ-সব বৈশাখের রুদ্র দহনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাক। এদি
কে নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানস্থল কুমিল্লা জামতলা ও মহিলা কলেজ  ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার নতুন স্বপ্ন, উদ্যম আর প্রত্যাশার আবির ছড়ানো বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ। গ্রীষ্মের দাবদাহ এড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাঠ-ঘাট, পথে-প্রান্তরে ঢল নামবে লাখো উচ্ছসিত জনতার। দিবসটিকে কেন্দ্র করে নববর্ষকে স্বাগত এবং দেশবাসিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জাতির উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন।

আমাদের জাতিসত্তার মৌলিক ও অনন্য পরিচয় এবং বাঙালির প্রভূত রূপায়ণ ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অমোঘ উপাদান এই পয়লা বৈশাখ। দেশের মূল স্তম্ভ কৃষক সমাজ আজও বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে, ফসল রোপন ও ঘরে তোলার পালাও চলে সেই পঞ্জিকা অনুসারে। ফসলি সাল গণনার জন্য একদা যে বাংলা সনের উৎপত্তি তা সুদীর্ঘকাল ধরে শহর-বন্দর, গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এদেশের মানুষের হৃদয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি হিসেবে শক্ত আসন গেড়ে বসেছে। বাংলা নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ রীতি এখনও এদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির আমেজ নিয়ে টিকে রয়েছে। খেরোখাতায় পুরাতন হিসেব মিটিয়ে নতুন বছরে নতুন করে সবকিছু শুরু করার জন্য এদিন ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্টদের দাওয়াত দিয়ে এখনও মিষ্টি মুখ করান।

কাল সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার। উৎসবে মেতে ওঠার উপসর্গ খুঁজে ফেরা বাঙালিদের জন্য নারী-পুরুষ-শিশু,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র নির্বিশেষে জাতীয়ভাবে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠার দিন। শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং রং-বেরঙের নারী-পুরুষের পোষাক এবং সজ্জায় বর্ণিল হয়ে উঠবে রাজধানীসহ গোটা দেশ। প্রাণ চাঞ্চল্যে মুখরিত হয়ে রাজধানী ঢাকার দৃশ্যপটও বদলে যাবে । কাকডাকা ভোর থেকেই নগরীর পথে পথে বাঙালি সংস্কৃতি লালনকারী আনন্দ পিপাসু নগরবাসীর ঢল নামবে । পরিধেয় বস্ত্রেও থাকবে বৈশাখী উৎসবের লাল-সাদার বাহারি নক্সার পোশাক।

No comments:

Post a Comment