জলাদ্ধতায় নাকাল কুমিল্লা নগরবাসী

দোকান পাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ীতে পানি।

বশিরুল ইসলাম: 
জলাবদ্ধতা, কর্দমাক্ত আর অতি বৃষ্টি
তে নাকাল কুমিল্লা নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। বৃষ্টি আর সড়কে জমে থাকা পানির কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ পড়েছিল দুর্ভোগে। গত তিন দিন ধরে চলা বৃষ্টিতে স্কুলের শিক্ষার্থী কর্মজীবী শ্রেনী পেশার মানুষ জলাবদ্ধতা আর কর্দমাক্ততার কারণে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ীতে হাটু সমান পানি হওয়ায় ঘরবাড়ী কর্দমাক্ত হয়ে নোংড়া পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নির্মাণ সামগ্রী রেখে সড়ক অবরোধ রাখায় পানি বাসা বাড়ীতে জমাট হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতায় রুপ নিয়েছে। 
গতকাল সোমবার (২৪ এপ্রিল) কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের গেইটের সামনে জলাবদ্ধতা, স্টেডিয়ামের সামনে বিভিন্ন দোকান পাটে পানি থই থই অবস্থা। জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে ও জলাবদ্ধতার তীব্র অবস্থা চোখে পড়ে। পুলিশ সুপারের বাস ভবনের সামনে হাটু সমান পানির জলাবদ্ধতা দেখা গিয়েছে। নালা উপচে সড়কের মধ্যে পানি থই থই করছে। ঝাউতলা এলাকায়  একই অবস্থা। রেইসকোর্স কাঠের পোল এলাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তা সহ আশে পাশের বাড়ীঘরের নিচতলা। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পানির বিরম্বনার মধ্যে ও রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করতে দেখা গিয়েছে ।  শাসনগাছা ও বাদশা মিয়ার বাজার এলাকায় বৃষ্টির পানির চেয়ে কর্দমাক্ততার পরিমান বেশি হওয়ায় কুমিল্লা সহ শহরের বাহির থেকে আসা সাধারণ মানুষ অস্বাভাবিক দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে। ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজের গেইট থেকে ইপিজেড গেইট পর্যন্ত রাস্তা পানিতে তলিয়ে গিয়েছে ফলে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ও ইপিজেডের শ্রমিকদের পানির বিরম্বনায় পরে দুর্ভোগে পড়তে দেখা গিয়েছে।  থিরাপুকুর পাড় এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক বাড়ী ঘর ও রাস্তা ঘাট। কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট এলাকার ৪নং সেকশনে জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোডে ড্রেনে ময়লা আবর্জনা জমাটবদ্ধ হওয়ার কারণে হাসপাতালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেনটিতে এতই ময়লা আর আবর্জনা একটু বৃষ্টি হল্ইে পানি চলাচল করতে না পারায় কৃত্রিম জলাদ্ধতার সৃষ্টি হয়।  
এব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী ও কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক মো: জাহাংগীর আলম জানান, কুমিল্লা মহানগরীতে সোয়ারেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল নয় এগুলো ঠিকভাবে কাজ করেনা। পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না হওয়ার কারণে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হতে পারছেনা। আমার বাস ভবনের সামনের জলাবদ্ধতা এটি নিয়মিত ব্যাপার । সোয়ারেজ ব্যবস্থা বা পানি নিষ্কাশনের যেভাবে ব্যবস্থা থাকার কথা সে ভাবে নেই এজন্য এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।  এই ধরনের সমস্যার জন্য পুরো দায় সিটি কর্পোরেশনের।  পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ সচেতন না হওয়া পর্যন্ত  এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত  সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরায়ন আশা করা সম্ভব নয়। আমরা সিটিকর্পোরেশনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি কিন্তু তেমন কোন পরিবর্তন দেখছি না। 


No comments:

Post a Comment