রিপ্রেজেন্টেটিভ আর দালালদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ রোগীরা
বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১২ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় ছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হয়নি রোগীদের জরুরী অস্ত্রপ্রচার। মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা। উপরন্তু দালাল আর রিপ্রেজেন্টেটিভদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ রোগীরা। সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীর কারণে হাসপাতাল থেকে দালাল আর রিপ্রেজেন্টেটিভদের দূর করা যাচ্ছে না । হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করতে হয়েছে দালাল আর ঔষধ কোম্পানীর লোকদের হুমকির কারণে।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালে বুধবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার দিনের ১০.৩০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। জেনারেটরের সাহায্যে চালু রাখা হয়েছিল জরুরী স্থানের লাইট আর পাখা গুলো। বিদ্যুতের কারণে হাসপাতালের আন্ত: বিভাগ ও বহি: বিভাগের রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। গরমে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা অস্বস্তি আর বিরক্তির সাথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা চিকিৎসা সেবার জন্য বহি: বিভাগে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে রোগী ও রোগীর স্বজনদের। অনেক রোগীকে চিকিৎসা সেবা না নিয়েই চলে যেতে দেখা গিয়েছে । দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় এবং জরুরী অস্ত্রপ্রচার না করার কারণে অনেক রোগীর অস্ত্র প্রচার এক সপ্তাহ পিছিয়েছে। এতে রোগীদের যেমন কষ্ট বেড়েছে তেমন স্বজনদের বেড়েছে দুর্ভোগ। শিশু সার্জারী ওয়াড, অর্থোপেডিক্স সার্জারী ওয়াার্ড, লেবার ওয়ার্ড ও অপারেশন ওয়ার্ড গুলো মোবাইলের আলো দিয়ে চিকিৎসা করার খবর পাওয়া গিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডাক্তার জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা মোবাইলের আলো দিয়ে অপারেশনের কাজ করতে হয়েছে আর সদিচ্ছা থাকলে তা সম্ভব। তবে দিনের সাড়ে ১০টায় বিদ্যুৎ আশায় আমরা ভাল ভাবে অপারেশনের কাজ করতে পারছি। বিদ্যুৎ থাকলে যেভাবে রিলাক্সের সাথে কাজ করা যায় বিদ্যুৎ না থাকলে সেভাবে কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠেনা।
কুমেক হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, হাসপাতালে দালাল এবং ঔষধ কোম্পানীর লোকদের দৌরাত্মটা বেশি কিন্তু তাদেরকে নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। কেননা মাঝে মাঝে আমরা পুলিশ দিয়ে ধরে এদেরকে থানায় পাঠালে তারা আবার জামিনে চলে আসে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ও স্থানীয়দের সদিচ্ছা নেই। আমরা বেশি কিছু বলতে চাইলে আমাদের ও হুমকি শুনতে হয়। আমি বাধ্য হয়ে থানায় জিডি পর্যন্ত করতে হয়েছে। কিন্তু কি করবো এদেরকে কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা।
কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা: স্বপন কুমার অধিকার জানান, হাসপাতালের বিদ্যুতের সমস্যার কথা যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এরা দিনের ১০টায় এসেছে । বর্তমানে হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। দালালদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাসপাতালে দালাল ঔষধ কোম্পানীর লোক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের লোকদেরকে আমরা বের করে দেওয়ার পর ও এরা ভিতরে প্রবেশ করে হাসপাতালের ডাক্তার ও রোগীদের বিরক্ত করে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে ও কোন রকম ফলপ্রসু হচ্ছে না। আমরা হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঔষধ কোম্পানীর লোক, দালাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অত্যাচার কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবো।

No comments:
Post a Comment