লাকসামে আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি খামার জনজীবন হুমকির মুখে

বশিরুল ইসলাম:
খাইতে বসলে বুমি আসে। পড়তে বসলে বুমি আসে। পঁচা দুগর্ন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে ।  নাকে কাপড় দিয়ে পড়তে বসলেও দম বন্ধ হয়ে আসে। স্কুল থেকে এসে বাসায় থাকতে মন চায়না। এজন্য আমরা ঘরে বেশিক্ষন থাকিনা। সকালে স্কুলে চলে যাই, স্কুল থেকে এসে বই রেখে সারাদিন বাহিরে থাকি ঘুমের সময় ঘরে ঢুকে রাতে ঘুমিয়ে থাকি আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মক্তবে যাই মক্তব থেকে এসে আবার স্কুলে চলে যাই সেখানে সারাদিন থাকি। আমাদের ঘরের সাথে মুরগীর ফার্ম । এই মুরগীর ফার্মের গন্ধের কারণে আমাদের লেখা পড়া করতে অনেক সমস্যা হয়। এভাবেই কথা গুলো বলছিল কোমলমতি শিক্ষার্থী লাকসামের কাদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী ইসরাত জাহান কলি ও ক্রিসেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা। 
সরেজমিনে পোল্ট্রিফার্ম ও ৯নং ওয়ার্ড পূর্ব সাতবাড়িয়া এলাকা ঘুরে জানা যায়, এলাকাবাসী পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বমি করছে। পোলট্রি ফার্মটি বসত বাড়ী থেকে ৩ হাত দূরত্বে  হওয়ায় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পাশ্ববর্তী বাড়ীর লোকজন।  লাকসাম উপজেলার সাতবাড়ি মধ্যমপাড়া এলাকার জহিরুল ইসলাম বাহার জানান, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে আবেদন করে ও বিষয়টি সমাধান হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করার পর অফিস থেকে শুনানীতে আমাকে ও মেসার্স শাহ আলম পোল্ট্রি ফার্ম এর স্বত্বাধিকারী মো: শাহ আলমকে  নোটিশ করে। আমরা উভয় পক্ষ উপস্থিত হয়ে নোটিশের জবাব দেই কিন্তু কি এক অদৃশ্য কারণে পোল্ট্রি ফার্মটি এখান থেকে না সরিয়ে বরং এখানে রেখেই অনুমোদনের ব্যবস্থার পায়তারা করছে। উক্ত ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ। অনেকেই ক্ষুভ প্রকাশ করে বলেন, কোথায় সে পরিবেশ অধিদপ্তর? গ্রামের ঘরবাড়ীর মাঝখানে দুর্গন্ধময় পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। পরিবেশ অধিদপ্তর অফিসে বসে বসে কোন রকম কাজ করেই বেতন নিচ্ছে কোথায় কি হচ্ছে কোন তথ্য দিলেও তারা কাজ করে না। দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে। বসতবাড়ীর মাঝখানে পোল্ট্রিফার্ম খোলে উক্ত স্থানে বর্জ্য আর ময়লায় যে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাতে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রী খেটে খাওয়া মানুষ ঘরে থাকতে পারছেনা। গ্রামের পরিবারগুলি দুর্বিসহ দিনাতিপাত করছে। নিয়মনীতির কোন রকম তোয়াক্কা না করেই ঘরে উঠেছে পোল্ট্রি ফার্মটি যা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ১২ ও ৪ধারার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন যা দন্ডনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য। গত ১৩ জুন কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিবেশ অধিদপ্তরে মো: জহিরুল ইসলাম বাহার নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়েরের পর থেকে অদ্যাবধি কালক্ষেপন হচ্ছে। গত দেড় মাস পূর্বে এই পোল্ট্রি ফার্মকে কেন্দ্র করে সাধারন মানুষের মধ্যে ঝগড়ার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেমের সৃস্টি হয়েছে। যে কোন সময় আবারো বড় ধরণের অঘটন ঘটে যেতে পারে। 
গত কয়েক মাস পূর্বে মোশারফ হোসেন নামে একজন অভিযোগ করে বলেন ভাই আমার বাড়ীর দুই পাশে দুইটি ইটভাটা আমি জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করলে স্যার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরে আমি গেলে স্যার বিরক্ত অনুভব করে। স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলে এটা জেলা প্রশাসক দেখবে আমি দেখতে পারব না। আামি অভিযোগ পত্র প্রত্যাহার করেছি।  
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। তবে কিছুদিন আগে কেউ ফোন করেছিল কিন্তু কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। আমার অফিসে এব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হলে সত্যতা যাচাই করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
এব্যাপারে কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুল আলম জানান, আমাদের কাছে লাকসাম সাতবাড়িয়া এলাকার পোল্ট্রি ফার্মের একটি অভিযোগ রয়েছে। দুই পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে শুনানি করেছি এখন সীল ভিজিট হবে। সীল ভিজিটের পর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তাছাড়া ঐ পোল্ট্রি ফার্মের কোন অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়াই পোল্ট্রি ফার্মটি পরিচালিত হয়ে আসছে। আমরা সেখানে যাব যদি নিয়মের বাহিরে এটি করে থাকে তাহলে অবশ্যই তা সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যত্র স্থাপন করার পরামর্শ দিব। 

No comments:

Post a Comment