জনজীবন বিপর্যস্ত
বশিরুল ইসলাম:
বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লাবাসীর জীবন বিপর্যস্ত ছিল দীর্ঘ সময় । শহরের প্রতিটি স্থানে শুধু পানি আর পানি। পানিতে ভরপুর কুমিল্লা শহরের অলিগলি। কয়েক ঘন্টার জন্য কুমিল্লায় প্লাবন দেখা গিয়েছে। নগরীর শাকতলা, ঠাকুরপাড়া, চর্থা, সদর হাসপাতাল, সালাউদ্দিন, ইবনেতাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ধর্মপুর, হাউজিং এস্টেট, শাসন গাছা সহ আশে পাশের এলাকা গুলো পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। কিছু কিছু স্থানে জাল দিয়ে সাধারণ মানুষকে মাছ ধরতে দেখা গিয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে মাছ ধরার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মত। কান্দিরপাড় থেকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের অধিকাংশ জায়গা পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। শহরের প্রবেশের প্রধান এই সড়কটিতে যাত্রীদের সেলফি তুলে কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে আপলোড করছে। কুমিল্লার এই অবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মো: জাহাংগীর আলম জানান, গত রাতে প্রচুর পরিমান বৃষ্টির কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি। একমাত্র বৃষ্টির পানিই এই জলাবদ্ধতার কারণ ।
রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাত্রী, স্থানীয় সাধারণ মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত রাতে প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে নগরীর ব্যাপক এলাকা জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত আছে। নগরীর কান্দিরপাড় টাউনহল থেকে শুরু করে নগরীর উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম প্রতিটি স্থান পানিতে টইটুম্বুর । সাধারণ মানুষকে ভাড়া গুনতে হয়েচে ৩ থেকে ৪ গুন বেশি। অতিবর্ষণের ফলে অনেক নতুন এলাকাও জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে আবাসিক এলাকার লোকজন হাটুর উপরে পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছেন। বাণিজ্যিক এলাকার মালামাল পানিতে ডুবে গিয়েছে। মূল সড়কে নৌকা চলার মত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমর পানি। পানি পার হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে ব্যহত হচ্ছে যান চলাচল। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবসের দিনে মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিলনা।
স্থানীয় লোকজন বলছেন কুমিল্লা নগরীর পানি সোয়ারেজ ব্যবস্থা ভাল নয়। পানি চলাচলের বড় ড্রেন গুলো পরিকল্পনা মাফিক না হওয়াই এই অবস্থার সৃষ্টি। পরিকল্পিতভাবে সোয়ারেজ ব্যবস্থা করলে কুমিল্লা এই অবস্থার সৃষ্টি হবে না।
এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, শহরের বেশির ভাগ রাস্তাঘাটে হাটু পানি জমে থাকায় গন্তব্যস্থলে পৌছাতে অনেকে জুতো স্যান্ডেল হাতে নিয়ে শার্ট প্যান্ট গুটিয়ে যেতে হচ্ছে। পানি পার হতে অনে
কেই রিকসার সাহায্য নিচ্ছেন। শুধু পানির কারণে ৫টাকার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ২০-৪০ টাকা। এই উপলক্ষে নগরীর অলিগলিতে রিকসা, অটোরিকসা, সিএনজি সহ বিভিন্ন ছোট ছোট পরিবহনের চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বর্ষা মৌসুমে কুমিল্লা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গেলো কয়েক বছর ধরে ড্রেনেজ উন্নয়নে কাজ করছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। এরপরও বৃষ্টি হলেই জলজট ও যানজট আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কাঁদা পানিতে নাকাল হচ্ছে নগর বাসী। বেশির ভাগা এলাকায় ইট, খোয়া, বালু, পাথর উঠে ,মাটি বেরিয়ে পড়া সড়কে বৃষ্টি হলেই হাটু সমান কাঁদাপানি জমছে।
বারপাড়া এলাকার তফাজ্জল হোসেন জানান, এ এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। একে তো বৃষ্টিতে বের হতে পারছি না, তার ওপর রাস্তার বেহাল দশা। কীভাবে ভাল থাকতে পারি বলুন। সকাল ১১টা থেকে ১২টার দিকে টমছম ব্রিজ থেকে কান্দির পাড় যাওয়ার সময় শতাধিক গাড়ী ঠাই দাড়িয়ে । কখনও তা একটু এগিয়েই আবার থেকে যাচ্ছে। ত্যক্ত-বিরক্ত যাত্রী ও গাড়ির স্টাফদের অনেকে জানান, বৃষ্টির পানির কারণে এই অল্প একটু জায়গা পের হতে এক ঘন্টা সময় লাগে।
এব্যাপারে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment