কুমিল্লা মহানগরীর টমছম ব্রিজ বাখরাবাদ সড়কের বেহাল প্রতিদিন দুর্ঘটনা।

বশিরুল ইসলাম:
ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে, দীর্ঘ ৬বছর মেরামত হয়নি রাস্তাটি। চাঁপাপুর থেকে টমছম ব্রিজ হয়ে কোটবাড়ী বিশ্বরোড দিয়ে কালীরবাজার হয়ে বরুড়া হাসপাতাল পর্যন্ত মোট সাড়ে তেইশ কিলোমিটার এই রাস্তাটির জন্য ৫৭ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট  পিইসি’তে (প্রকল্প মূল্যায়ণ কমিটি) পাশ হয়েছে।  গত ৬ আগষ্ট এ উপলক্ষ্যে একটি সভা সম্পন্ন হয়েছে। প্রি একনেক অনুমোদন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই রাস্তার কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। সাতান্ন শত লক্ষ (৫৭কোটি) টাকার  এই কাজটি তিনটি লেয়ারে করা হবে। প্রথমে ইট,শুরকি আর বালির একটি স্তর, পাথরের একটি স্তর তার পর ব্লাকটিপ বা পিচের একটি স্তর হবে। রাস্তার পাশে কোথাও কোথাও ড্রেনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে সামস্টিক উদ্যোগ না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে ঈদের আগে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাগবের জন্য বেস বালি খোয়া দিয়ে বিভাগীয় মেরামত করা হবে। আগামী দু এক দিনের মধ্যে এই কাজটি করার চেষ্টা করবো। এই রাস্তাটি মূলত জেলা মহাসড়ক বা ৩য় শ্রেণী ভুক্ত কিন্তু ব্যবহার হচ্ছে জাতীয় মহাসড়ক হিসেবে। নতুন করে আরো একটি সমস্যা যোগ হয়েছে সেটি হলো লাকসাম আখাউড়া ডাবল লাইন রেলওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ম্যাক্স কোম্পানীর ভাড়ী যানবাহন গুলো চলাচলে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় এই ক্ষতির পরিমানটি প্রকট আকার ধারণ করছে। এই কোম্পানীর প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক ট্রাক অতিরিক্ত লোড বহন করে রাস্তায় চলাচল করছে। এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, হাইওয়ে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করে ও তেমন কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা। তাই প্রয়োজন সামস্টিক উদ্যোগ ও সচেতনতা কথা গুলো বলছিলেন কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাইফউদ্দিন। 
রাস্তা ঘুরে ও আশে পাশের লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,  কুমিল্লা মহানগরীর বাখরাবাদ থেকে টমছম ব্রিজ টমছম ব্রিজ হয়ে কোটবাড়ী বিশ্বরোড রাস্তটি দীর্ঘ ছয় বছর যাবত বড় ধরনের মেরামত করা হয়নি। ফলে এ রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত রোগীরা চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। টমছম ব্রিজ বাখরাবাদ সড়কটির এতোই খারাপ অবস্থা যে এই রাস্তা দিয়ে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কিছু কিছু যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আবার কিছু বিকল হয়ে পরছে। যানবাহন উল্টে গিয়ে কারো হাত পা ভেঙ্গে পঙ্গত্ব বরণ করছে। প্রতিদিন দুয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটছেই। গত  এক মাসে প্রায় অর্ধ শতাধিক দুর্ঘটনায় শতাধিক লোক আহত হয়েছে।  এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের দৃষ্টি পড়ার পরে ও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের দাবী সড়ক বিভাগ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। এই রাস্তা দিয়ে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী যাতায়াত করে অনেক রোগী সহ রোগীর লোক যাতায়াত করে অথচ এই রাস্তাটির এই অবস্থা। গত কিছু দিন পূর্বে এক ডেলিভারী রোগী ইপিজেডের সামনের রাস্তায় ডেলিভারী করতে বাধ্য হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে রোগীদের যাতায়াতে প্রচন্ড কষ্ট হয় বলে জানিয়েছে নুরজাহান নামের এক রোগী।
এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউট, আদর্শ সদর উপজেলা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, কুমিল্লা ম্যাটস, হাইওয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পরিবেশ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাদকাসক্ত পুর্নবাসন কেন্দ্র, ফানটাউনে আসা বিনোদন প্রেমীরা, ময়নামতি হাসপাতাল সহ আরো কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক শিক্ষার্থী, রোগী ও রোগীর স্বজন ও সাধারণ লোকজন। কিন্তু গত ৬ বছরের ও অধিক সময় ধরে এই রাস্তার বড় ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় রাস্তাটি ব্যবহার অনুপযোগী। তারপরও সড়ক বিভাগ মাঝে মাঝে এই রাস্তায় ডিপার্টমেন্টাল মেরামতের কাজ করে থাকে। ছোট ছোট মেরামত কাজ গুলো ইট শুরকি দিয়ে করার কারণে একটু বৃষ্টিতে ভিজে বড় গাড়ির চাপায় নষ্ট হয়ে পুনরায় সেখানে আবার গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে ছোট ছোট গর্তগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে খাদে পরিণত হচ্ছে। টমছম ব্রিজ চৌরাস্তা থেকে শুরু করে চাঁপাপুর পর্যন্ত প্রায় ছোট বড় ৩০টি গর্ত রয়েছে। এই গর্ত গুলোতে অনেক সময় অটোরিক্স, রিক্সা, রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স পরে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে আর সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। শুধু তাই নয় অনেকে এই গর্তের কারণে দূর্ঘটনার স্বীকার ও হচ্ছে।   একই সাথে যেমন রোগীর ক্ষতি হচ্ছে সাথে সাথে যানবাহনের ও ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইবনেতাইমিয়া স্কুলের সামনে রয়েছে কয়েকটি গর্ত, ইপিজেডের সামনে কয়েকটি গর্ত, ঢুলিপাড়া চৌমুহনীর পাশে কয়েকটি গর্ত, ফুল বন বেকারী ও ডায়না বেকারীর সামনে রয়েছে কয়েকটি বড় ধরনের গর্ত, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রয়েছে বড় কয়েকটি গর্ত, হেলথভিউ সিটিস্ক্যান সার্ভিসে এর সামনে রয়েছে কয়েকটি গর্ত, সানি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একই অবস্থা। এইভাবে পুরো রাস্তায় বহু জায়গায় রয়েছে ছোট বড় প্রায় ৩০টি গর্ত। এই রাস্তা দিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোক সহ বাখরাবাদ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, হাইওয়ে পুলিশ, পিবিআই পুলিশ, দুদকের কর্মকর্তা কর্মচারী, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত রোগী ও রোগীর লোকজন চলাচল করছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাই সাধারণ মানুষের দাবী দেশ যেভাবে এগুচ্ছে রাস্তাঘাট গুলোও যেন সেভাবে মেরামত করা হয়।   

No comments:

Post a Comment