অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগ চান্দিনা পীর মঞ্জিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে।

বশিরুল ইসলাম: 
চান্দিনা বরকরই পীর মঞ্জিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অভিযোগ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিভিন্ন জনকে ম্যানেজ করে এই অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতি করছেন প্রতিষ্ঠানের সুপার।  জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতনের টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, পরীক্ষা ফি ও ভূয়া ও জাল সনদপত্র বিক্রিসহ নানাভাবে প্রতিষ্ঠানে নিয়ম বহি:র্ভূতভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচেছন টাকা। শিক্ষকদের নিকট থেকে এমপিও ভূক্তির নামে  টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

শিক্ষক, কর্মচারী ও সূত্র থেকে জানা যায়, প্রাক্তন শিক্ষক কচুয়ার ওজানী গ্রামের মাও. মো: আইয়ুব আলীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা, তার বেতনের টাকা স্বাক্ষর জাল করে আত্মসাৎ করা, দপ্তরি শাহজাহানের নিকট থেকে এমপিও ভুক্তির নামে  দুই হাজার টাকা আত্মসাৎ করা, তিন হাজার টাকার দাবী পুরণ না করায় তাকে আদালতের মাধ্যমে উকিল নোটিশ করা এই রকম নানা অভিযোগ।   আদালতে করা সুপারের অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। বিভিন্ন বায়না ধরে  সহ: সুপার আ: মতিন, নৈশ প্রহরী মোখলেছুর রহমান, দপ্তরী  আলী নেওয়াজকে মাদ্রসার বাহিরে রেখে তাদের বেতনের টাকা জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা, অত্র মাদ্রাসার দাখিল বিভাগের শিক্ষক কারী আব্দুস সাত্তারের ৩মাসের বেতন আত্মসাত করে । চলতি বছরে মাদ্রসার ভর্তি ফি, রেজিষ্ট্রেশন ফি ও ফরম ফিলাপের ৮১ হাজার টাকার মধ্যে ৪০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা করে বাকী ৪১ হাজার টাকা  আত্মসাৎ করাসহ  এই রকম অর্ধশতাধিক অভিযোগ পাওয়া যায় অত্র মাদ্রসার সুপারের বিরুদ্ধে। 
অত্র মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী জামাল উদ্দিন জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুপার মহোদয় দীর্ঘদিন থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল সনদ বিক্রি করে জালিয়াতি করে আসছে। আমরা স্যারের ভয়ে কোন প্রতিবাদ করিনি। স্যার আমাদেরকে ও অনেক সময় নানা ভাবে হয়রানি করেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সহ: সুপার আ: মতিন কাজী মহোদয় একাধিক শিক্ষক, পিয়ন ও দপ্তরীকে হয়রানি করেছে। 
সহ সুপার আ: মতিন কাজী জানান, সুপার মো: সফিকুল ইসলাম গত ৮ আগষ্ট থেকে মাদ্রাসায় আসেননি। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা আমাকে রেজুলেশনের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দিয়েছে কিন্তু সুপার মহোদয় দীর্ঘদিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও চাবি হস্তান্তর করেননি। তিনি প্রতিষ্ঠানে ও আসেন না। উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করছেন আমরা তাহাকে বিদ্যালয়ে আসতে দেইনি। 
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো: সফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিক্ষকদের বেতনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি সম্পূণ মিথ্যা। প্রত্যেকের আলাদা একাউন্ট এবং প্রত্যেকের চেক নিজ নিজ দায়িত্বে থাকে। চেকে স্বাক্ষর করতে হলে তাদের চেক আমি কোথায় পাব। মাদ্রাসার আয় ব্যয়ের জন্য একটি অর্থ উপ-কমিটি আছে। উক্ত কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের অনুমোদন করা হয়। বিভিন্ন খরচের ভাউচারে অর্থ উপ কমিটির স্বাক্ষর আছে। প্রতি মাসে অর্থ উপ কমিটি আয় ব্যয়ের প্রতিবেদন অনুমোদন করেন।  ২০১৬ সাল পর্যন্ত অডিট ফার্ম কর্তৃক অডিক করানো হয়েছে এতে আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েনি। ২০১০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটি অডিট করেন সেখানে ও আর্থিক কোন প্রকার অনিয়ম চোখে পড়েনি। এখানে শিক্ষকরা আমরা বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গুলো করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কেননা আমাকে কোন রকম কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই সহ সুপারকে বিধি বহি:র্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত সুপার করা হয়েছে। গত ৮আগস্ট থেকে আমাকে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয় নাই। অথচ প্রতিদিন আমি মাদ্রাসায় যাই। গত ৯ আগষ্ট শিক্ষকদের একটি সভায় মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলাম। গত ১৩ আগস্ট ম্যানেজিং কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলাম কিন্তু কোন দিনই আমাকে সহ-সুপার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেয় নাই, খাতা লুকিয়ে রাখে এবং শিক্ষক হাজিরা খাতাটি সহ-সুপারের দায়িত্বে থাকে।  এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। 
চান্দিনা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গাউসুল আজম জানান, আমি চান্দিনা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নতুন যোগদান করেছি। আমি আসার পর কেউ এব্যাপারে কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। যদি কেউ অভিযোগ নিয়ে আসে আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকারিয়া মহোদয়ের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বরকরই পীরমঞ্জিল মাদ্রসার সুপারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ওঠেছে তা আগে আমার নিকট কেউ অভিযোগ করেনি। আমি অভিযোগ পেলে সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দিব। 

No comments:

Post a Comment