কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কুমিল্লার আদালতে মামলা

বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক প্রভাষক ডাঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে একই জেলার সুমাইয়া খন্দকার বিথী নামে এক কলেজ ছাত্রী। বিথী নিজেকে ডাঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদারের স্ত্রী দাবি করে বলেন, দেড় বছরের সংসার জীবনে তার গর্ভে একটি সন্তান আসে। গর্ভের সেই সন্তানটি তার অনিচ্ছায় জোরপূর্বক গর্ভপাত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জজকোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানালে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সুমাইয়া খন্দকার বিথী। জানা গেছে, বিথী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। এর আগে তিনি রানীর বাজার রোডস্থ একটি প্রাইভেট চেম্বারের রিসিপশনিস্ট পদে কর্মরত ছিলেন।
বিথি সাংবাদিকদেরকে জানান, গত আড়াই বছর পূর্বে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে বিথীকে বেড়ানোর কথা বলে বাগেরহাটের মংলায় নিয়ে যায় ডাঃ সাইফুল। সেখানে স্থানীয় এক কাজীর মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পর মংলার মেইন রোডস্থ’ হাজী শেখ আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক) হোটেলে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ৪ দিন অবস্থান করেন। এরপর মংলা থেকে ফিরে কুমিল্লার হাউজিং এস্টেট এলাকার ৩ নম্বর সেকশনের ফাইজা হাউজে উঠেন তারা। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত হাউজিং এস্টেটের ফাইজা হাউজে অত্যন্ত সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করছিলেন। ১৭ জানুয়ারি রাতে বাসা থেকে বের হয়ে ডাঃ সাইফুল আর ফেরেননি। কেন বাসায় ফিরছেন না জানার জন্যে তার কাছে গেলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতো সে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ডাঃ সাইফুল অন্যত্র বিয়ে করেছেন, আর একারণেই তাকে এড়িয়ে চলছেন। বিথী  আরো জানান, দেড় বছরের বেশী সময় ধরে সংসার করেছি, এসময় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধী হয়নি। তবে মাঝে মধ্যে বিয়ের কাবিননামা চাইলে অভিমান করতেন ডাঃ সাইফুল। মূলত: বিয়ের কাবিননামা চাওয়ার পরই ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটায় ডাঃ সাইফুল।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা এলাকার আংগলখোড় গ্রামে গিয়ে সাইফুলের বাবা নজির আহম্মদ মজুমদারসহ তার মা, ভাই সবার কাছ থেকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন বিথী। এতে কোনো রকম সাড়া না পেয়ে বিথী কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। 
এছাড়াও সাইফুলের ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়েও যোগাযোগ করে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করেন বিথী। তাতেও  কোনো পাত্তা দেননি সাইফুল।
পরে গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইবুন্যালে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন বিথী। বিথী আরো জানান, তিনি সাইফুলকে নিয়ে আগের মতো সংসার করতে চান। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শাহ আবিদ হোসেন সাংবাদিকদের  জানান, এখনো পর্যন্ত তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে ডাঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। সে (বিথী) আমাকে ব্লাক মেইল করছে। আমি তার সাথে এমন কোন সম্পর্কে জড়াইনি যা নিয়ে এতো কিছু হবে। 

বিয়ে ও সন্তান গর্ভপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সাহায্য নিতো। তার ফুফুর মাধ্যমে আমার সাথে পরিচয় হয় । সেই থেকেই বিভিন্নভাবে সাহায্য নিয়ে এখন আমাকেই ব্ল্যাক মেইল করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সব জায়গায় আমার সাথে তার এডিট করা ছবি ছড়িয়ে দিয়ে আমার মান-সম্মান নষ্ট করছে। আমার স্ত্রী দাবি করে বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা অপপ্রচার চালাচেছ। ছাত্র-ছাত্রী ও ডিপার্টমেন্টে আমার সম্মান হানির কারণে আমি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ থেকেও প্রভাষকের চাকুরি ছেড়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি। যার তদন্ত করছে থানার এএসআই আবু তাহের।  

No comments:

Post a Comment