বাদী বাড়ী ছাড়া, আসামী বাড়ীতে ঘুমায়, আদালতে চার্জশিট

২য় শ্রেনীর ছাত্রী ধর্ষণের ১৮১দিনে ও ধর্ষক গ্রেফতার হয়নি
বশিরুল ইসলাম:
ডাক্তারী পরীক্ষা ও পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত সত্য বলিয়া প্রমাণিত হওয়ার পরে  আসামী দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পেরিয়ে গেলে ও গ্রেফতার হয়নি।  মুরাদনগরে ধর্ষক  প্রভাবশালী হওয়ায় বাদী বাড়ীতে যেতে পারছেনা। এদিকে ধর্ষক বাবুল মীর প্রকাশ বাবুল মেম্বার দিন দুপুরে বাড়ীতে প্রকাশ্যে চলাফেরা করে আসছে।

স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য, চার্জসিটের কপি ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী জানা যায়, বাবুল মীর একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সে পূর্বে ও এই রকম অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলতে চায়না। ঘটনার পরপর তাছলিমার বাবা আবদুল আজিজ থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে বাড়ীতে থাকতে পারছেনা। তার কর্মস্থলে কাজ করা ও বন্ধ করে দিয়েছে। বাবুল মীরের রয়েছে একটি গুন্ডা বাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা বাদীকে বাদীর কর্মক্ষেত্রে ও বাড়ীতে গেলেই মেরে ফেলার হুমকি ধমকি সহ মেরে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে। প্রাণ নাশের হুমকির কারণে বাদী মুরাদনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী ও  করেছে। কিন্তু তারপর ও মামলার বাদী আব্দুল আজিজ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। তাকে কৌশলে বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিয়ে আসছে। বাবুল মীর বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জ বাজারে মামলার স্বাক্ষীদেরকে বিভিন্ন কৌশলে তার পক্ষে কথা বলার জন্য উদ্ধবুদ্ধ করে এক সাথে উঠাবসা করছে। এমনকি স্বাক্ষীদের দিয়ে বাদীকে বিভিন্ন রকম হুমকি দিচ্ছে যেন  আপোষ হয় নয়তো তাকে ইয়াবা অথবা গাজা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়া হবে। ঘটনার সাথে সাথে বাদী থানায় মামলা দায়ের করলে আসামী পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে কোম্পানীগঞ্জ বাজার বিআরটিসি কাউন্টারের ভিতরে প্রবেশ করে  বাদীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।  বিষয়টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্শক মো: জাহাঙ্গীর আলমকে জানানোর পরে ও সে কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। ১নং স্বাক্ষী বিআরটিসি কাউন্টারের মালিক মো: শফিকুল ইসলাম নির্যাতনের পর তাকে  মৃত্যুর হাত থেকে প্রাণে রক্ষা করে। বাদীকে সেখান থেকে বাচানোর অপরাধে ১নং স্বাক্ষীকে ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বাবুল মীরের বাহিনী । মামলার বাদীকে শারীরিক নির্যাতনের পর  বাদী গত ১৬ আগষ্ট ২০১৬ ইং তারিখ আসামী মো: বাবুল মীর, আ: আউয়াল, বাচ্চু মিয়া, মিন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের করে।  এদিকে  বাদী আরো জানান, ঘটনার সাথে সাথে ব্রাক মুরাদ নগর অফিসের লোকজন আমার মেয়েকে দেখেছে। দেখার পর আমার মেয়েকে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করেছে। তারা আমাকে আইনী পরামর্শ সহ সকল প্রকার সহযোগীতা করার আশ^াস দিয়েছে। আমি সকলের সহযোগীতা চাই ধর্ষক বাবুল মীরের যেন সঠিক বিচার হয়। আমার মেয়ের মত যেন কাহারো  মেয়ের এই রকম অবস্থার স্বীকার হতে না হয়।
ব্রাক মুরাদনগর অফিসের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার নাজমা সুলতানা জানান, আমরা ব্রাক কর্মকর্তা কর্মচারীরা নির্যাতিত মহিলাদের নিয়ে কাজ করি। তাদের যে কোন সমস্যা সমাধানে ব্রাক অফিসের সকল সদস্য সদা সচেষ্ট। তাছলিমা মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত মেয়ের বাড়ীতে গিয়ে মেয়ের দেখাশুনা করেছি। চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগীতা করেছি পাশাপাশি আইনী পরামর্শ দিয়েছি। তাকে পুনর্বাসনের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে ও আলোচনা করছি। ব্রাক মূলত সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত। আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মেয়েদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান। আদালতের নির্দেশে আমরা চার্জশিট প্রদান করেছি। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী না পর্যন্ত আসামীকে গ্রেফতার করতে পারছিনা। তাছাড়া আসামী অগ্রিম জামিন নিয়ে আসলে ও আমরা তাকে গ্রেফতার করতে পারবোনা। তবে যদি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী হয় বাদী আমাকে এর কপি পৌছে দেয় আমি আসামী গ্রেফতার করে থানায় প্রেরণ করবো।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, গত বছরের  ২৮ জুলাই কোম্পানীগঞ্জ বাজারে ২য় শ্রেণীর ছাত্রী তাছলিমা (৯) নামের যে মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে সে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার পর তাকে হুমকি দিচ্ছে মর্মে থানায় ডায়েরী করলে আমরা তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করি। এর পর থেকে বাদী পক্ষ আমাদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ করে নাই তাকে কেউ হুমকি ধমকি দিয়েছে আমাদেরকে জানায়নি । তাকে হুমকি দিলে আমাদের থানায় অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। মামলা যেহেতু আদালতে চলমান সেহেতু গ্রেফতারি পরোয়ানা না আসা পর্যন্ত আমরা আসামীকে গ্রেফতার করতে পারিনা। গ্রেফতারি পরোয়ানা আসার সাথে সাথে আসামীকে গ্রেফতার করব।

No comments:

Post a Comment