বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় গতিরোধক (স্পীড ব্রেকার) দিন দিন বাড়ছে । যে যেভাবে যেখানে মন চাচ্ছে সেখানে ইচ্ছামত গতিরোধক স্থাপন করছে। কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই এ গুলো হলেও সড়ক বিভাগ এব্যাপারে উদাসীন। এরা দায়িত্বহীনভাবে দেখে ও না দেখার মত এই স্পীড ব্রেকার তুলার কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা। আমাদের দেশে সংবিধানে কোথাও কোন গতিরোধক স্থাপনের নির্দেশনা নেই। গতিরোধকের কারণে পথচারীদের রাস্তায় চলাচলে বিবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে স্কুল কলেজ মাদ্রাসার সামনে এমনকি বাড়ীর সামনে ও স্পীড ব্র্রেকার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রতি বছর লাখো মানুষ মরছে সড়ক দুর্ঘটনায়। বেশির ভাগ মানুষ মারা যাচ্ছে বেপরোয়া গাড়ী চালানোর কারণে। আর বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালানো বন্ধে বিভিন্ন স্থানে গতিরোধক স্থাপন করছে স্থানীয় লোকজন। এই গতিরোধক বর্তমান সময়ে এসে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিয়ম বহি:র্ভুতভাবে যত্রতত্র স্থাপিত গতিরোধক গুলো যানবাহন চলাচলের জন্য বিপদজ্জনক হয়ে উঠছে। তাই যানবাহন চলাচল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে এগুলো তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গতিরোধক স্থান গুলোতে গতিসীমা সংক্রান্ত সাইনবোর্ড ও ট্রাফিক চিহ্ন স্থাপন করে গতিরোধের ব্যবস্থা করা যেতে পারে । প্রয়োজনে সড়কের উপর সাদা রংয়ের চিহ্ন দেওয়া যেতে পারে। গাড়ীর ড্রাইভারদেরকে প্রশিক্ষনের আওতায় এনে তাদেরকে নিয়ম নীতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। বিভিন্ন
সড়ক ও মহাসড়কের পাশে বসা হাট-বাজার অপসারণ করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে হবে। সড়ক বা মহাসড়কের পাশে ভবিষ্যতে হাট বাজার বসার অনুমতি দেওয়া যাবেনা। বর্জ্য ও পত্যিক্ত পানি অপসারণে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নিতে হবে। মহাসড়ক গুলোতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বা অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও নষ্ট হওয়া যানবাহন অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। পারভেজ আলম সরকার নামে এক যাত্রী জানান, কিছু কিছু স্পীড ব্রেকার কার্যকরী আবার কিছু স্পীড ব্রেকার ফালতু জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে। অনেক সময় ড্রাইভাররা গাড়ী স্লো না করেই স্পীড ব্রেকারের উপর দিয়ে চলে যায় ফলে অনেক সময় যাত্রীদের এক জায়গার হাড্ডি অন্য জায়গায় চলে যায়।
রাস্তায় গতিরোধক সম্পর্কে কুমিল্লার জেলার জেলা প্রশাসক মো: জাহাংগীর আলম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, রাস্তা থেকে গতিরোধক তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা সড়ক বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছি। কোথায় কোথায় গতিরোধক ব্যবহার করা হচ্ছে সেই তালিকা আমাদেরকে দেন আমরা গতিরোধক তুলে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবো। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে গতিরোধক গুলো তুলে নিতে হবে।

No comments:
Post a Comment