বুড়িচং ময়নামতিতে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু।

বশিরুল ইসলাম:
           
কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের বাজেহুরা গ্রামে সৌদি প্রবাসী হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মোসা: শিমুল বেগমের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হত্যা না আত্ম হত্যা এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে ঘটনার পূর্বের দিন স্থানীয় দুধ ব্যবসায়ীর সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। 
                 স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর বাড়ীর লোকদের সাথে মোসা: শিমুল বেগমের সম্পর্ক ভাল ছিলনা। একারণে শিমুল বেগম আলাদা থাকতো এবং আলাদা ঘরে বসবাস করতো।  সাকিবুল ইসলাম শামিম (৭) ও  তাহসান সাব্বির (৩) নামে মৃতার দুই সন্তান রয়েছে। ঘটনার দিন রাতে ছোট সন্তান বাড়ীতে ছিল আর বড় সন্তান মামার বাড়ীতে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে ছোট সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদে হয়তো ঘটনার রহস্য সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। শিমুল বেগমের পরিবারের দাবী শ্বশুড় বাড়ীর লোকেরা তার সাথে ভাল ব্যবহার করতো না। ৫ বছর পূর্বে প্রথম সন্তান জন্মের পর হাবীবুর রহমানকে ভুল বুঝিয়ে ডিভোর্স দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে তাকে ডিভোর্স দিয়েছিল পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে তাকে আবার সংসারে ফিরিয়ে নেয়।  
                       ছেলের মামা হাজী শামছু ব্যাপারী জানান,  গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় চিৎকারের আওয়াজ শুনে গিয়ে জানতে পারি হাবীবুর রহমানের স্ত্রী মারা গেছে। তবে কিভাবে মারা গেছে তা আমি জানিনা। আমি তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় অটোরিক্সায় দেখেছি শায়িত অবস্থায় আছে।  আমার কাছে গত কোরবানী ঈদের সময় সে এক লক্ষ টাকা দিয়েছে আমার নিকট রাখার জন্য। আমি তার টাকা রেখেছি। তার স্বামীও আমার কাছে ফোন করে বলেছে রাখতে। কিন্তু কি কারণে মারা গেল তা বলতে পারছিনা। তবে পরে শুনেছি ঘটনার পূর্বের দিন এক শত ষাট টাকা নিয়ে আবুল কাশেম নামে দুধ ব্যবসায়ীর সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছিল। 

                        উক্ত ঘটনায় বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ মো: মঞ্জুর কাদের ভূইয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে আমরা মৃত মোসা: শিমুল বেগমকে শায়িত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। সেখানে স্থানীয়রা জানিয়েছে গলায় ফাঁস দিয়ে শিমুল বেগম আত্মহত্যা করেছে। তারপরেও ঘটনার আসল রহস্য জানতে মৃত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বুঝা যাবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা। 

No comments:

Post a Comment